দাদার ইন্তেকালে পরদাদার সম্পদ পাওয়া প্রসঙ্গে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 3088
Questioner: MD AL IMRAN
Question Asked: 24 Jul 2026, 10:44 PM
Reviewed & Published: 24 Jul 2026, 10:47 PM
Views: 24
Tokens: 4,673
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব।

আমার দাদা ১৯৭২ সালে যখন ইন্তেকাল করেন তখন তিনার পিতা মানে আমার পরদাদা বেঁচে ছিলেন।

আমার পরদাদার চার ছেলে সন্তানের মধ্যে আমার দাদা ইন্তেকালের কারণে তখন তিন ছেলে জীবিত ছিলেন।

এখন আমার প্রশ্ন হলো, আমার দাদার ইন্তেকালের সময় যে তারা বাবা জীবিত ছিলেন তাই তিনার(পরদাদার) ইন্তেকালের পরে কি আমার দাদার সন্তান মানে আমার বাবা চাচা ও ফুপুরা কি কোনো ভাবে সম্পদের অংশ পাবে কি না?

দয়া করে জানাবেন।

Answer

উত্তর

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী, আপনার পরদাদা মৃত্যুর সময় তাঁর তিন ছেলে জীবিত ছিলেন। আপনার দাদা (পরদাদার এক ছেলে) আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন।

ইসলামী শরিয়তের মীরাস (উত্তরাধিকার) আইন অনুযায়ী, পরদাদার সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে তাঁর জীবিত তিন ছেলেই মূল উত্তরাধিকারী (আসাবা) হিসেবে গণ্য হবেন। আপনার দাদার সন্তানরা (অর্থাৎ আপনার বাবা, চাচা ও ফুপুরা) পরদাদার জন্য "নাতি-নাতনি" হিসেবে বিবেচিত হবেন। হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো—যদি কোনো ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জীবিত পুত্র (ছেলে) থাকেন, তাহলে পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানগণ (নাতি-নাতনি) মীরাসের অংশ পান না। কারণ জীবিত পুত্রগণ নিকটতম আসাবা হওয়ায় তারা সম্পূর্ণ সম্পদের অধিকারী হন এবং নাতি-নাতনিরা দূরবর্তী আত্মীয় (জিউল আরহাম) হিসেবে গণ্য হন, যারা জীবিত পুত্রের উপস্থিতিতে কোনো অংশ পান না।

কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেন: একজন পুরুষের অংশ দুইজন নারীর অংশের সমান।" (সূরা নিসা, ৪:১১)
এ আয়াতে সরাসরি পুত্র ও কন্যার উত্তরাধিকার উল্লেখ আছে। নাতি-নাতনির কথা এখানে আসেনি, বরং তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অংশ নেই যখন পুত্র বিদ্যমান থাকে।

হানাফী ফিকহের প্রসিদ্ধ কিতাব "রদ্দুল মুহতার" (৬/৭৮৬) এ বলা হয়েছে:

"পিতার মৃত্যুর পর পুত্রের সন্তানরা (নাতি-নাতনি) পিতামহের সম্পদে কোনো অংশ পাবে না, যতক্ষণ না পিতামহের কোনো জীবিত পুত্র বা পৌত্র (পুত্রের পুত্র) থাকে। কেননা তারা (নাতি-নাতনি) দূরবর্তী আত্মীয় (জিউল আরহাম) এবং নিকটবর্তী আসাবা তাদের বাধা দেয়।"

ফাতাওয়া উসমানী (২/৪২৫) তে উল্লেখ আছে:

"যদি কোনো ব্যক্তি মারা যান এবং তার পুত্র জীবিত থাকেন, তাহলে তার পূর্বে মৃত পুত্রের সন্তানরা (নাতি-নাতনি) কোনো অংশ পাবে না।"

ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/২১১) তে বলা হয়েছে:

"প্রশ্ন: এক ব্যক্তির দুই ছেলে, এক ছেলে জীবিত, অপর ছেলে মৃত। মৃত ছেলের সন্তানরা কি পিতামহের সম্পদ পাবে? উত্তর: না, জীবিত ছেলে থাকায় মৃত ছেলের সন্তানরা পাবে না।"

সুতরাং আপনার পরদাদার মৃত্যুকালে তাঁর তিন জীবিত ছেলে থাকায়, আপনার দাদার সন্তানগণ (আপনার বাবা, চাচা ও ফুপুরা) পরদাদার সম্পদের কোনো অংশ পাবেন না। সম্পূর্ণ সম্পদ পরদাদার জীবিত তিন ছেলের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে।

তবে যদি পরদাদা তাঁর জীবিত অবস্থায় কোনো অসিয়ত করে থাকেন যে, তাঁর মৃত পুত্রের সন্তানদেরকে কিছু দান করবেন, তবে তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হতে পারবে না এবং তা পালন করা ওয়ারিশদের জন্য আবশ্যক হবে। কিন্তু প্রশ্নে এ বিষয়ে কিছু বলা নেই, তাই সাধারণ নিয়মেই ফয়সালা করা হয়েছে।

উপসংহার:
আপনার দাদার সন্তানরা পরদাদার সম্পদ থেকে শরিয়তের আইনে কোনো অংশ পাবেন না। তবে তারা যদি অসিয়তের মাধ্যমে কিছু পান, তবে তা ভিন্ন কথা।

আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.