আযানের সময় প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে চালিয়ে যাওয়া জায়েজ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3047
Questioner: Mohammad Masum
Question Asked: 23 Jul 2026, 07:48 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 07:55 PM
Views: 40
Tokens: 2,848
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

যখন আজান শুরু হয় এবং চলমান থাকে তখন যদি কেউ কোনো কাজ করা অবস্থায় থাকে; তাহলে কি এ কাজ বন্ধ করে দিতে হবে? মানে আজানের সময়টুকু কাজ অফ রেখে আজান শেষ হলে আবার কাজ শুরু করতে হবে?

Answer

উত্তর

আজানের সময় যদি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকেন, তবে তা বন্ধ করে দেওয়া কি জরুরি?

আজান শুরু হওয়ার পর তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যদি কেউ কোনো কাজে লিপ্ত থাকে, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া আবশ্যক (ওয়াজিব বা ফরজ) নয়। তবে আজানের প্রতি শ্রদ্ধা ও সাওয়াবের নিয়তে কাজ থামিয়ে আজানের জবাব দেওয়া অত্যন্ত উত্তম ও মুস্তাহাব

বিস্তারিত ব্যাখ্যা

১. আজানের জবাব দেওয়া সুন্নত, ফরজ নয়
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোনো, তখন তোমরাও তার মতো করে বলো…” (বুখারি, মুসলিম)। এটি একটি সুন্নত (মুস্তাহাব) কাজ, বাধ্যতামূলক নয়। তাই কেউ যদি প্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকে, তবে সে কাজ চালিয়ে যেতে পারে; এতে গুনাহ হবে না।

২. কাজ বন্ধ করার পরামর্শ
হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে বলা হয়েছে: আজানের সময় কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, বা অন্য কোনো কাজ বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া ভালো। কারণ আজানের জবাব দেওয়া অতি ফজিলতপূর্ণ। ইবনে আবিদিন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ (১/৩৯১)-এ উল্লেখ করেছেন: “আজানের সময় অন্য কাজ থেকে বিরত থাকা এবং মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব।”

৩. প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে
যদি কাজটি অত্যন্ত জরুরি হয় (যেমন: রোগীর সেবা, আগুন নেভানো, রান্না পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ইত্যাদি), তাহলে তা চালিয়ে যাওয়া জায়েজ। তবে আজানের শেষে জবাব দেওয়ার সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন।

৪. আজান শেষে আবার কাজ শুরু
আপনি ‘কাজ অফ রেখে আজান শেষ হলে আবার শুরু করতে হবে কি না’ – জিজ্ঞাসা করেছেন। উত্তর: না, আবশ্যক নয়। আপনি ইচ্ছা করলে আজান চলাকালীনও কাজ করতে পারেন। কিন্তু যদি কাজ বন্ধ করে আজানের জবাব দেন, তবে তা অধিক সওয়াবের কারণ হবে। আজান শেষে আবার কাজ শুরু করা কোনো সমস্যা নয়।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (১/৩৯১): “আজানের সময় কুরআন তিলাওয়াত বা অন্য কাজে লিপ্ত থাকা মাকরুহে তানজিহি (অপছন্দনীয়) নয়, তবে জবাব দেওয়া উত্তম।”
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি (১/৫৮): “মুয়াজ্জিনের জবাব দেওয়া সুন্নত। কাজ বন্ধ করে জবাব দেওয়া ভালো, তবে বাধ্যবাধকতা নেই।”
  • ইমদাদুল ফতোয়া (১/২২৯): “প্রয়োজনীয় কাজ থাকলে আজানের সময় কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তবে জবাব দেওয়া মুস্তাহাব।”

সারকথা

  • আজানের সময় কাজ বন্ধ করা জরুরি নয়
  • সুন্নত ও মুস্তাহাব হলো যদি সম্ভব হয়, কাজ থামিয়ে আজানের জবাব দেওয়া।
  • জরুরি কাজ থাকলে তা চালিয়ে যেতে পারেন।
  • আজান শেষে পুনরায় কাজ শুরু করতে কোনো বাধা নেই।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.