তিন দিনের কম রক্তস্রাব হলে হায়েয হবে না ইস্তেহাযা?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 3046
Questioner: Fatema Simmi
Question Asked: 23 Jul 2026, 07:29 PM
Reviewed & Published: 23 Jul 2026, 07:33 PM
Views: 17
Tokens: 4,083
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
সম্মানিত উস্তাজ,

আমার সটিক ডেইট এর ১২ দিন পর পিরিয়ড হয়েছে, কিন্তু প্রথম একদিন খুবই অল্প অল্প একটু এসে তারপর ২ দিন ধরে আবার সাদা স্রাব আসছে।
এর পূর্বে কখনও এমন হয়নি, একটানা ই হতো।

এখন আমার কি পবিত্র হয়ে সলাত আদায় করা উচিত? আর তা না হলে কি করণীয়?

Answer

উত্তরঃ

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় প্রশ্নকারী বোন, আপনি যেহেতু হানাফী মাযহাব অনুসরণ করেন, সেহেতু আপনার প্রশ্নের উত্তর নিম্নে পেশ করা হলো।


আপনার অবস্থার শর‘ঈ বিধান

হানাফী ফিকহ অনুসারে হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। ৩ দিনের কম রক্ত দেখা গেলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা (অর্থাৎ অস্বাভাবিক রক্ত) গণ্য হয়। (রদ্দুল মুহতার ১/২৮৪, বাহিশতী জেওর ১/২৪)

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

  • প্রথম দিন সামান্য রক্ত এসেছে।
  • এরপর ২ দিন ধরে সাদা স্রাব আসছে (রক্ত নেই)।

সুতরাং আপনার মোট রক্ত দেখা হয়েছে মাত্র ১ দিন, যা ৩ দিনের কম। তাই এটি হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা। আর ইস্তিহাজার রক্ত পাক নাজিস হলেও তা হায়েজের মতো নামাজ-রোজা থেকে বিরত রাখে না। বরং এই অবস্থায় আপনি পবিত্র গণ্য হবেন।


আপনার করণীয়

  1. পবিত্র হওয়া ও নামাজ পড়া
    – আপনি এখন পবিত্র। তাই অজু করে (ইস্তিহাজার রক্ত বের হলে নামাজের সময় পুনরায় অজু করবেন) নামাজ আদায় করুন।
    – রক্ত আসা সত্ত্বেও নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শ ইত্যাদি সব ইবাদত আপনি করতে পারবেন।

  2. গোসল
    – যেহেতু আপনি আগে ধারণা করেছিলেন যে এটি হায়েজ, তাই আপনি যদি গোসল না করে থাকেন, তবে এখন গোসল করে নিন (ইস্তিহাজার কারণে গোসল ওয়াজিব নয়, তবে যদি আপনি হায়েজ মনে করে গোসল স্থগিত রেখে থাকেন, তাহলে এখন গোসল করে নিন)।

  3. ছুটে যাওয়া নামাজের কাজা
    – আপনি যে দিনগুলোতে হায়েজ মনে করে নামাজ পড়েননি (যেমন প্রথম দিন ও পরের দুই দিন), সেগুলো কাজা পড়ে নিন। কারণ ফিকহের দৃষ্টিতে ওই সময় আপনি হায়েজে ছিলেন না, বরং ইস্তিহাজায় ছিলেন, তাই নামাজ পড়া আপনার ওপর ফরজ ছিল।

  4. সাদা স্রাব
    – সাদা স্রাব (সাদা পানি) সাধারণত পাক হয়। তবে যদি তা রক্ত মিশ্রিত না হয়, তাহলে এটি পবিত্র। আপনি নামাজ আদায়ে বাধা নেই।

  5. সতর্কতা
    – যদি আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবার রক্ত আসে এবং তা মোট ৩ দিন পূর্ণ করে (প্রথম দিনের রক্তসহ), তাহলে শুরু থেকে পুরো সময়টি হায়েজ গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে সেই দিনগুলোর নামাজ কাজা করতে হবে না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে যেহেতু রক্ত বন্ধ, তাই আপনি এখন পবিত্র।


দলিল (হানাফী কিতাব থেকে)

  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮৪):
    “হায়েজের সর্বনিম্ন সময় তিন দিন-তিন রাত। এর কম হলে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা।”

  • বেহেশতী জেওর (১/২৪):
    “যদি কোনো স্ত্রীলোকের ৩ দিনের কম রক্ত আসে, তবে তা হায়েজ নয়, বরং ইস্তিহাজা। আর ইস্তিহাজার রক্ত আসলেও নামাজ পড়তে হবে।”

  • ফাতাওয়া উসমানী (২/২২৮):
    “রক্ত যদি এক বা দুই দিন আসে, তারপর শুকিয়ে যায়, তাহলে তা ইস্তিহাজা। মহিলা পবিত্র থাকবে এবং নামাজ পড়বে।”


সংক্ষিপ্ত উত্তর

  • আপনি এখন পবিত্র।
  • নামাজ পড়ুন, ছুটে যাওয়া নামাজগুলো কাজা করুন।
  • সাদা স্রাব পাক, এতে নামাজের কোনো সমস্যা নেই।
  • রক্ত আবার ফিরে এলে এবং মোট ৩ দিন পূর্ণ করলে অবস্থা পরিবর্তন হবে।

পরামর্শ: আপনার যদি মাসিক চক্রের কোনো অনিয়ম বারবার ঘটে, তাহলে একজন অভিজ্ঞ নারী ডাক্তার দেখিয়ে নিতে পারেন। তবে ইবাদতের ব্যাপারে উপরোক্ত ফাতাওয়া অনুযায়ী আমল করবেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.