মেহেদী (হেনা) যদি সুগন্ধিমুক্ত হয় তবে ইহরাম অবস্থায় উমরাহর জন্য তা ব্যবহার করা জায়েজ?
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
মেহেদী (হেনা) যদি কোনো সুগন্ধি বা আতর মিশ্রিত না হয়, তাহলে ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য তা ব্যবহার করা জায়েয এবং এতে উমরাহ বা হজের কোনো ক্ষতি হবে না।
উল্লেখ্য যে, উক্ত মেহেদী যদি ত্বকে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হয়,সেক্ষেত্রে আপনার অযু,নামাজ,তওয়াফ আদায় হবেনা।
দলিল ও হানাফি ফিকহের মতামত
- হাদীস শরীফে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে ইহরাম বাঁধার পূর্বে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৫৩৯) এখানে ইহরাম বাঁধার পর সুগন্ধি ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ আছে। কিন্তু মেহেদী সুগন্ধি নয়, বরং এটি একটি উদ্ভিজ্জ রং।
- হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “রদ্দুল মুহতার” (২/৪৪৪)-এ উল্লেখ আছে, “মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় মেহেদী লাগানো জায়েয, যদি তাতে সুগন্ধি না থাকে।”
- “ফাতাওয়া হিন্দিয়া” (১/২২৫)-এও বলা হয়েছে, “ইহরাম অবস্থায় নারী নিজের হাতে বা পায়ে মেহেদী লাগাতে পারে, কারণ এটি সৌন্দর্যের জন্য হলেও সুগন্ধি নয়।”
- মুফতি মুহাম্মাদ শফি (রহ.) এবং মুফতি তাকি উসমানি (দা. বা.)-এর ফতোয়াতেও একই মত পাওয়া যায়। (মা‘আরিফুল কুরআন, ২/৫২৩; ইসলামি ফিকহ, ২/২৬৫)
সুতরাং
আপনার হাতে যদি শুধু মেহেদী থাকে (সুগন্ধি ছাড়া), তাহলে তা উমরাহর ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা জায়েয। তবে খেয়াল রাখবেন, ইহরামের সময় সুগন্ধি বা আতরযুক্ত কোনো কিছু (সাবান, ক্রিম, তেল ইত্যাদি) ব্যবহার না করেন। মেহেদী লাগানোর পর যদি হাত ধোয়ার সময়ও সুগন্ধি না থাকে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
উল্লেখ্য যে, উক্ত মেহেদী যদি ত্বকে পানি পৌঁছাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী হয়,সেক্ষেত্রে আপনার অযু,নামাজ,তওয়াফ আদায় হবেনা।
আল্লাহ তাআলা আপনার উমরাহ কবুল করুন এবং সহজ করুন।