দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচন ও যোগাযোগের শরয়ী পদ্ধতি, পেশায় নারী ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগের ফিতনা এড়ানোর নীতি ও তওবার সঠিক পদ্ধতি।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2974
Questioner: Mizanur Rahman
Question Asked: 21 Jul 2026, 08:47 PM
Reviewed & Published: 21 Jul 2026, 09:08 PM
Views: 30
Tokens: 15,764
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি একজন জেলারেল যুবক। আলহামদুলিল্লাহ, যতটুক পারি দ্বীন মেনে চলার চেষ্টা করি। আমার পরিবারে দ্বীনের চর্চা তুলনামূলক কম, তাই ভবিষ্যতে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী খুঁজতে নিজেই চেষ্টা করার কথা ভাবতাম। এই ব্যাপারে একজন কে আলেম কে জিজ্ঞেস করেছিলাম,যে যেহেতু আমার ফ্যামিলিতে দ্বীনের বুঝওয়ালা কেও নেই,আমি নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে দ্বীনদার কাওকে চাইলে আমার করনীয় কি,,তিনি আমাকে এক কথায় আন্স দিয়েছিলেন,নিজেই খুজে নিবে।


আমি একটি ইসলামিক বুকশপ পরিচালনা করি, কাজের প্রয়োজনে নারী ক্রেতাদের সাথেও মেসেজে যোগাযোগ হয়। কখনো কখনো তাদের মধ্যে কেউ কেও আমার প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। যার অধিকাংশ ই ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

তখন আমি ভেবেছি, যদি বিয়ের নিয়ত থাকে তাহলে তাদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু শুরু থেকেই ওয়ালি বা পরিবারকে যুক্ত করিনি। একে অপরকে জানা,বিভিন্ন বিষয়ে নসিহা করা ,এমনকি কারো সাথে ফোনে কথাও হয়েছে।সব মিলিয়ে তারা আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।আর এখানে আমি একজন এর কথা বলছি না।২/৩ জন এর কথা বলছি।আমার মূল উদ্দেশ্যে সবসময় এটা ছিল তাদের সাথে কথা বলে যদি আমার তাদেরকে সঠিক মনে হয় বিয়ের দিকে আগাবো।যেহেতু আমার ফ্যামিলিতে তেমন কেও নেই।তাই এই বিষয়ে আমি পরিবার এর কাওকেও জানাই নি কখনো কিছু।কিন্তু পরে যখন বুঝতে পেরেছি এতে শুধু ফিতনাই সৃষ্টি হচ্ছে এবং কারও মানসিক কষ্টের কারণ হবে শুধু এগুলা...তাই এক সময় এগুলা থেকে দুরে সরে আসি।

সম্প্রতি আরেকটা ঘটনা ঘটেছে, একটি দ্বীনদার মাদ্রাসাপড়ুয়া বোনের সঙ্গে বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। এর আগে একবার অন্য একটা ঘটনায় আমার এক বোনকে (কাজিন) ,একজন মেয়েকে দেখে আসতে পাঠাই।আমি ওই মেয়েকে দেখার আগেই আমার বোন ইনডাইরেক্টলি আমাকে ডিমোটিবেট করে তোর মেয়ে পছন্দ হবে না ,বস্তুত এখানে সৌন্দর্য্য টা সে দেখেছিল।আর আমি ওই মেয়েকে কখনোই দেখি নি কিন্তু এই কথাগুলো আমাকে ডিমোটিবেট করেছিল পরে আর কথা বাড়াই নি।দুরে সরে গেছি,আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, যা নিয়ে এখন আমার অনুশোচনা আছে।

এই ঘটনার জন্য তাই এবার আমি ভাবছিলাম, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর আগে শরিয়তসম্মতভাবে একবার দেখে নিই, যাতে পরে অপ্রয়োজনীয় ভাবে কাউকে কষ্ট না দিতে হয়। এখানে মেয়ে আর আমার মধ্যেই দেখাদেখি টা হতো মূলত অনলাইনে,অফলাইন না। আমার নিয়ত ছিল শুধুই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে দেখা, অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। কিন্তু মেয়ে চেয়েছিল আগে পরিবারগুলোর মধ্যে কথা হোক। বা আগে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।যেহেতু আমাদের বিষয়গুলি নিজেদের মধ্যে জাস্ট কথা বলার দ্বারা তৈরি হইছে। আমি তখন ফ্যামিলিকে যদি জানাইতাম একজন মেয়েকে দেখে আসবো।তারা ধরেই নিত আমি হয়তো পছন্দ করে নিয়েছি।কিন্তু আমি না দেখে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না আর পরিবারেও বলতে পারি নি।এরপর শেষে আমি আমার ভাবীকে জানাই বিষয় টা এবং তাকে বলি তার সাথে দেখা করবে।বাট তখন সে বলে যে প্রস্তাব আসা উচিৎ আগে।অবশেষে ঐ বিষয়ের কোনো
সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না আমরা একে অপর থেকে সরে আসি।

এখন নি:সন্দেহে আমি শয়তানের ধোকায় ছিলাম অবশ্যই।তাই আমি আমি আল্লাহর কাছে তওবা করতে চাই এবং ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতি জানতে চাই।


আমার প্রশ্নগুলো হলো… ১। আমার এভাবে সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খোঁজার পদ্ধতি শরিয়তের দৃষ্টিতে কতটুক সঠিক বা ভুল? ২। বিয়ের নিয়তে কোন নারীর সঙ্গে পরিচয় বা কথাবার্তার শরয়ী সীমারেখা কী? ৩। শুরু থেকেই কি ওয়ালি বা অভিভাবককে সম্পৃক্ত করা উচিত? ৪। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব পাঠানোর আগে, বিয়ের নিয়তে একজন নারীকে শরিয়তসম্মতভাবে দেখে নেওয়া কি জায়েজ? নাকি আগে পরিবার বা ওয়ালির মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানোই উচিত, তারপর দেখা উচিত? ৫। আমার পেশায় নারী ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অনিবার্য হলে, ফিতনা এড়াতে কী কী নীতি মেনে চলা উচিত? ৬। অতীতে আমার ভুল পদ্ধতির কারণে যদি কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমার তওবা ও ভবিষ্যৎ সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি কী?

Answer

উত্তর

প্রিয় বন্ধু, আপনার আন্তরিক অনুতাপ ও সংশোধনের ইচ্ছা সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনি যে কাজগুলো করেছেন সেগুলো শরীয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েয এবং গুনাহের কাজ। তবে আল্লাহ তাআলা তওবা কবুলকারী। তাই হতাশ না হয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা সহকারে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে শরীয়তসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন করুন। নিচে আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেয়া হলো।

১. জীবনসঙ্গী খোঁজার আপনার পদ্ধতি শরীয়তের দৃষ্টিতে কতটুকু সঠিক বা ভুল?

উত্তর: আপনার পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভুল ও শরীয়তসম্মত নয়। ইসলাম বিবাহের পূর্বে নারী-পুরুষের মধ্যে অবাধ মেলামেশা, গোপন কথাবার্তা, টেলিফোন আলাপ, এবং আবেগীয় সম্পর্ক স্থাপনকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
"আর ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।" (সূরা বনী ইসরাঈল: ৩২)

আপনার কর্মপদ্ধতি ছিল ধীরে ধীরে হারামের দিকে অগ্রসর হওয়া। শয়তান প্রথমে নেক নিয়তে কথাবার্তা শুরু করে, তারপর তা ধীরে ধীরে ফিতনা ও গুনাহের দিকে নিয়ে যায়। আপনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে এতে ফিতনা সৃষ্টি হয়েছে এবং মেয়েদের মানসিক কষ্ট হয়েছে। তাই এই পদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা জরুরি। একজন পুরুষের জন্য ছাড়া নামাহরাম নারীর সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলা জায়েজ নেই, বিশেষ করে গোপনে ও বারবার কথা বলা তো আরও বড় গুনাহ। (রদ্দুল মুহতার, ৯/৫৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩২৯)

২. বিয়ের নিয়তে কোন নারীর সঙ্গে পরিচয় বা কথাবার্তার শরয়ী সীমারেখা কী?

উত্তর: ইসলাম বিবাহের উদ্দেশ্যেও নারী-পুরুষের অবাধ কথাবার্তার অনুমতি দেয়নি। তবে সরাসরি বিবাহের প্রস্তাব (শর্তযুক্ত বা সুনির্দিষ্ট) দেয়া এবং অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে কথা বলা, তাও পর্দার আড়ালে বা মাহরামের উপস্থিতিতে জায়েজ আছে। তবে যেকোনো প্রকার গোপন যোগাযোগ, প্রেম-ভালোবাসার আলাপ, দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে কথা বলা, একান্তে সাক্ষাৎ ইত্যাদি সম্পূর্ণ নাজায়েয।

হাদীসে এসেছে:

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ
"কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ না করে, কেননা তাদের তৃতীয় জন থাকে শয়তান।" (তিরমিযী: ১১৭১)

সুতরাং বিবাহের নিয়ত থাকলেও শুরু থেকে অভিভাবক বা মাহরামের সম্পৃক্ততা বাধ্যতামূলক। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৫৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/৪৩০)

৩. শুরু থেকেই কি ওয়ালি বা অভিভাবককে সম্পৃক্ত করা উচিত?

উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই শুরু থেকেই নারীর ওয়ালি (অভিভাবক)-কে সম্পৃক্ত করা ইসলামের নির্দেশ। নিজে নিজে কোনো নারীর সাথে যোগাযোগ করে প্রস্তাব দেয়া বা সম্পর্ক তৈরি করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। আর আপনার ক্ষেত্রে যেহেতু পরিবারে দ্বীনের বুঝ কম, তাই আপনি কোনো দ্বীনদার আলেম বা ইমামের মাধ্যমে পাত্রী নির্বাচন এবং ওয়ালির সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে পারেন। নিজে সরাসরি কোনো নারীর সাথে কথা বলবেন না। কুরআনে আল্লাহ বলেন:

فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ
"তোমরা নরম স্বরে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে রোগ আছে সে প্রলুব্ধ হবে।" (সূরা আহযাব: ৩২)

সুতরাং অভিভাবক বা মধ্যস্থতাকারী ছাড়া কোনো যোগাযোগ করবেন না। (ফাতাওয়া আলমগিরী, ১/৩৪১; বেহেশতি জেওর, ২/৬৪)

৪. আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানোর আগে শরিয়তসম্মতভাবে মেয়েকে দেখা কি জায়েজ? নাকি আগে প্রস্তাব তারপর দেখা?

উত্তর: ইসলাম বিবাহের জন্য পাত্রী দেখার অনুমতি দিয়েছে, তবে তা কিছু শর্ত সহকারে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ، فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا، فَلْيَفْعَلْ
"তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, সে যদি তার এমন অঙ্গ দেখতে সক্ষম হয় যা তাকে তার সাথে বিবাহে উৎসাহিত করবে, তাহলে সে যেন তা করে।" (আবু দাউদ: ২০৮২)

তবে এই দেখা হওয়া উচিত পর্দার আড়াল থেকে বা ওয়ালি ও মাহরামের উপস্থিতিতে, একান্তে নয়। অধিকাংশ হানাফী ফকীহের মতে, প্রস্তাব পাঠানোর পর দেখা করাই উত্তম এবং অধিকতর নিরাপদ। কেননা প্রস্তাব পাঠানোর আগে দেখা করলে তা নারীর জন্য মানসিক কষ্টের কারণ হতে পারে এবং প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে তার সম্মানে আঘাত লাগতে পারে। আপনি যেভাবে নিজে অনলাইনে মেয়েকে দেখার ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন, তা শরীয়তসম্মত নয়। বরং পরিবারের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হলে তারপর পরিবারের অনুমতি ও উপস্থিতিতে মেয়েকে দেখা জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার, ৩/৩৬; মাআরিফুল কুরআন, ৭/৫৪৪)

৫. পেশায় নারী ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ অনিবার্য হলে ফিতনা এড়াতে কী কী নীতি মেনে চলবেন?

উত্তর: আপনার পেশায় নারী ক্রেতাদের সাথে ম্যাসেজ বা ফোনে যোগাযোগ প্রয়োজন হলে নিম্নোক্ত নীতিগুলো মেনে চলা জরুরি:

  • প্রয়োজন সীমিত রাখুন: শুধু কাজের প্রয়োজনীয় বিষয়েই কথা বলুন। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, কুশলাদি বা অন্য কোনো আলোচনা থেকে বিরত থাকুন।
  • স্বল্পভাষী হোন: ম্যাসেজ বা কথোপকথন যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট করুন। দীর্ঘায়িত করবেন না।
  • পর্দা বজায় রাখুন: অডিও কল না করে শুধু টেক্সট ম্যাসেজ ব্যবহার করুন। যেখানে সম্ভব পুরুষ কর্মচারীকে কাজটি অর্পণ করুন।
  • অভ্যাস ও হাতিয়ার: সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্যক্তিগত নাম্বারে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নাম্বার বা ইমেইল ব্যবহার করুন। নিজের ব্যক্তিগত কোনো তথ্য বা আকর্ষণীয় কিছু শেয়ার করবেন না।
  • তওবা করুন: পূর্বে কোনো অবৈধ যোগাযোগ হয়ে থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং ভবিষ্যতে সাবধানতা অবলম্বন করুন।
  • দ্বীনের জ্ঞান লাভ করুন: "কিতাবুস সিয়াম" বা "বেহেশতি জেওর"-এর মতো বই পড়ে পর্দা ও শালীনতার বিধান জানুন এবং নিজেকে শক্তিশালী করুন। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫০ – বিবাহ অধ্যায়)

৬. অতীতে ভুল পদ্ধতির কারণে যদি কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে তওবা ও সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি কী?

উত্তর: আপনার ভুলের জন্য তওবা করার অর্থ হলো:

  1. গুনাহ থেকে অবিলম্বে বিরত থাকা।
  2. কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হওয়া ও লজ্জিত হওয়া।
  3. ভবিষ্যতে এ গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।
  4. আপনি যাদের সাথে হারাম সম্পর্ক বা কথাবার্তা যুক্ত করেছিলেন, যদি তাদের মানসিক কষ্ট দিয়ে থাকেন, তবে সম্ভব হলে তাদের সাথে যোগাযোগ করে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে নিন। তবে যদি তাতে ফিতনা বাড়ার আশঙ্কা থাকে (যেমন: সম্পর্কের জের ধরে নতুন করে কোনো অশ্লীলতা বা ঝামেলা সৃষ্টি), তবে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিগফার ও দোয়া করুন এবং তাদের সম্মান সংরক্ষণ করুন। (কিতাবুল কাবীর: ইমাম শাফেয়ী; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৩৫)

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
"নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।" (সূরা বাকারাহ: ২২২)

অতএব, আপনি আপনার অতীত ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা করুন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু। ভবিষ্যতে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচনের জন্য মসজিদের ইমাম বা কোনো দ্বীনদার আলেমের সহযোগিতা নিন এবং অভিভাবকদের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন। নিজের পেশায় নারী ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে উপরে বর্ণিত নীতিগুলো মেনে চললে ইনশাআল্লাহ ফিতনা থেকে বাঁচতে পারবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। (আমিন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.