বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ছেঁড়া নিষেধ থাকলেও মাটিতে পড়ে থাকা ফুল কুড়ানো জায়েজ কি?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2939
Questioner: Connection Error
Question Asked: 20 Jul 2026, 11:22 PM
Reviewed & Published: 20 Jul 2026, 11:24 PM
Views: 14
Tokens: 21,242
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ছেঁড়া নিষেধ।কিন্তু পড়ে থাকা ফুল কুড়ালে কি গুনাহ হবে?অন্যের মালিকাধীন ফুল কুড়ালে কি গুনাহ হবে?

Answer

উত্তর:

প্রশ্নটির দুটি অংশ—(১) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মাটিতে পড়ে থাকা ফুল কুড়ানোর বিধান এবং (২) অন্যের মালিকানাধীন ফুল কুড়ানোর বিধান। উভয় বিষয়েই হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা নিচে দেওয়া হলো।


প্রথম অংশ: মাটিতে পড়ে থাকা ফুল কুড়ানো

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি শুধু গাছ থেকে ফুল ছেঁড়া (তোলা) নিষেধ করে, কিন্তু মাটিতে পড়ে থাকা ফুল কুড়ানোর ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট নিষেধ না থাকে, তাহলে সেগুলো কুড়ানো জায়েজ এবং গুনাহ হবে না। কারণ পড়ে থাকা ফুল সাধারণত মালিকের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত বা অন্যের গ্রহণের জন্য অনুমোদিত বলে গণ্য হয়। তবে শর্ত হলো, ফুলগুলো যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে না রেখে বরং প্রাকৃতিকভাবে ঝরে পড়ে, তাহলে সেগুলো ‘মুবাহ’ (অনুমোদিত) বলে গণ্য হবে।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) – ৬/৩৪৪:
    “পড়ে থাকা জিনিস যদি পরিত্যক্ত বা মালিকের অনুমানের ভিত্তিতে অন্যের জন্য হালাল হয়, তবে তা নেওয়া জায়েজ।”
  • ফাতাওয়া আলমগীরী – ৪/১১৮:
    “যদি কোনো জিনিস মাটিতে পড়ে থাকে এবং তা মালিকের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত মনে করা হয়, তবে তা কুড়ানো হালাল।”

তবে, যদি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে সব ধরনের ফুল (পড়ে থাকা সহ) কুড়ানো নিষেধ করে, তাহলে সেই নিয়ম ভঙ্গ করা জায়েজ হবে না। কারণ ইসলামী শরিয়তে কোনো স্থানের কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মানা ওয়াজিব, যদি তা হারাম না হয়। (সূত্র: ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২২১)


দ্বিতীয় অংশ: অন্যের মালিকাধীন ফুল কুড়ানো

অন্যের মালিকাধীন ফুল (গাছ থেকে বা জমি থেকে) তাদের অনুমতি ছাড়া কুড়ানো হারাম এবং গুনাহের কাজ। ফুল যদি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয় (যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাগান কর্তৃপক্ষের মালিকাধীন), তবে তা নেওয়া চুরির শামিল। এমনকি পড়ে থাকা ফুলও যদি মালিক নিজের জন্য রেখে দেয় (যেমন বর্জন না করে), তবে তা নেওয়া জায়েজ নয়।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়া – ৩/১১৯:
    “অন্যের সম্পত্তি বিনা অনুমতিতে নেওয়া হারাম।”
  • ফাতাওয়া উসমানী – ২/৪৫৬:
    “কারো জমিনের ফুল বা ফল তার অনুমতি ছাড়া নেওয়া চুরি হিসেবে গণ্য হবে।”

ব্যতিক্রম: যদি ফুল এমন জায়গায় পড়ে থাকে যেখানে সাধারণত মালিক অন্যের নেওয়ার অনুমতি দেয় (যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বসাধারণের ব্যবহার্য এলাকা), এবং মালিক স্পষ্টভাবে নিষেধ না করে, তবে কুড়ানো জায়েজ হতে পারে। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।


সারসংক্ষেপ:

  1. মাটিতে পড়ে থাকা ফুল:

    • কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা না থাকলে জায়েজ
    • স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকলে অমান্য করা গুনাহ
  2. অন্যের মালিকাধীন ফুল:

    • অনুমতি ছাড়া কুড়ানো হারামগুনাহ
    • মালিকের পরিত্যক্ত বা সাধারণ অনুমতি থাকলে জায়েজ হতে পারে।

সুন্নাহ ভিত্তিক পরামর্শ: সর্বোত্তম হলো কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া অথবা তাদের নিয়ম মেনে চলা।

আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.