শর্ত তালাক হবে কিনা জানতে চাই।

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2889
Questioner: Josim Sk
Question Asked: 19 Jul 2026, 11:12 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 11:28 PM
Views: 50
Tokens: 4,809
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
আমি স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করে একবার তালাক বলেছিলাম । পরবর্তী তে স্ত্রী কে ফিরিয়ে নিয়ে সংসার করছি। শাসন করার জন্য বলেছিলাম , 1.""এমন কাজ করলে আবার বলবো তখন একবারে শেষ হয়ে যাবে।"

2. ""আর আমার মুখের ওপর কথা বলবি যদি বলিস তাহলে আবার শুনবি।""

স্ত্রী যদি ভুল করে বা মুখের ওপর কথা বলে তাহলে কি তালাক পতিত হবে? এই দুটো প্রশ্নের জবাব পেলে ভালো হয় আহেল হাদীস ও হানাফী মত অনুযায়ী।

Answer

উত্তর:
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার প্রশ্নটি দুটি বক্তব্য সম্পর্কে:

  1. প্রথম বক্তব্য: "এমন কাজ করলে আবার বলবো তখন একবারে শেষ হয়ে যাবে।"
  2. দ্বিতীয় বক্তব্য: "আর আমার মুখের ওপর কথা বলবি যদি বলিস তাহলে আবার শুনবি।"

এই বক্তব্য দুটো শর্তসাপেক্ষ তালাক (conditional divorce) নয়, বরং তা হচ্ছে ভবিষ্যতে তালাক দেওয়ার হুমকি বা শাসন করার জন্য বলা কথা

আহলে হাদীস / সালাফী মত:

  • সালাফী স্কলারদের মতে (শায়খ ইবন বায, শায়খ আল-আলবানী, শায়খ ইবন উসাইমীন, শায়খ সালিহ আল-ফাওযান), তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট তালাকের শব্দ ব্যবহার করতে হবে, যেমন "তালাক", "তুমি তালাক", অথবা "আমি তোমাকে তালাক দিলাম"।
  • এখানে আপনি বলেছেন "আবার বলবো" এবং "আবার শুনবি" – অর্থাৎ আপনি বলছেন যে ভবিষ্যতে তালাক দেবেন, কিন্তু এখনই দিচ্ছেন না। তাই যতক্ষণ না আপনি সরাসরি "তালাক" বলেন, ততক্ষণ কোনো তালাক পতিত হবে না, এমনকি স্ত্রী সেই কাজ করলেও।
  • তবে শর্তসাপেক্ষ তালাক যদি সরাসরি বলা হয়, যেমন "যদি তুমি এ কাজ করো, তাহলে তুমি তালাক" – তাহলে সেই কাজ করলেই তালাক পতিত হবে (যদি নিয়ত তালাকের হয় বা শর্ত পূরণ হয়)। কিন্তু আপনার বক্তব্য তা নয়।

শায়খ ইবন উসাইমীন (রহ.) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি শর্তসাপেক্ষ তালাক দেয়, যদি তার নিয়ত তালাক দেওয়ার হয় বা শর্ত পূরণ হলে তালাক পতিত করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে শর্ত পূরণে তালাক হবে। কিন্তু যদি তার নিয়ত শুধু শাসন করা বা ভয় দেখানো হয়, তাহলে তা শপথ (ইয়ামীন) হিসেবে গণ্য হবে এবং কাফফারা দিতে হবে, কিন্তু তালাক হবে না।"
(মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন উসাইমীন, ২০/২৫৮)

তবে আপনার বক্তব্য যেহেতু সরাসরি তালাকের শব্দ নয়, বরং ভবিষ্যতে তালাক দেওয়ার হুমকি, তাই কোনো অবস্থাতেই তালাক পতিত হবে না – তা সে স্ত্রী যাই করুক না কেন।

হানাফী মত:

হানাফী ফিকহেও অনুরূপ নীতি:

  • তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট তালাকের শব্দ (যেমন: "তালাক", "তুমি তালাক") অথবা কিনায়া (অস্পষ্ট) শব্দ যার দ্বারা তালাক উদ্দেশ্য নেওয়া হয় – প্রয়োজন।
  • আপনার বক্তব্য "আবার বলবো" বা "আবার শুনবি" কিনায়া শব্দও নয়, কারণ এখানে তালাকের প্রতি ইঙ্গিত নেই, বরং ভবিষ্যতে তালাক বলার হুমকি আছে। তাই হানাফী মতে-ও কোনো তালাক পতিত হবে না।
  • তবে হানাফী মতে শর্তসাপেক্ষ তালাক সাধারণত পতিত হয় (যেমন: "যদি তুমি অমুক কাজ করো, তাহলে তুমি তালাক") – কিন্তু আপনার বক্তব্য সে ধরনের নয়।

আপনার পূর্বের তালাক প্রসঙ্গ:

আপনি আগে ঝগড়ার সময় একবার তালাক বলেছিলেন, যা একটি তালাক পতিত হয়েছিল। পরবর্তীতে আপনি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে সংসার করছেন – এটি বৈধ হয়েছে (যেহেতু এক তালাকের পর ইদ্দতের ভিতরে ফিরিয়ে নেওয়া যায় বা নতুন করে বিয়ে করা যায়)। কিন্তু এখন থেকে তালাকের শব্দ ব্যবহার করে শাসন করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি একটি গুরুতর বিষয়।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার বক্তব্য দুটো শর্তসাপেক্ষ তালাক নয়, বরং ভবিষ্যতে তালাক দেওয়ার হুমকি
  • সুতরাং, স্ত্রী যদি সেই কাজ করে বা মুখের ওপর কথা বলে, তাহলে কোনো তালাক পতিত হবে না – শুধুমাত্র তখনই পতিত হবে যখন আপনি সরাসরি "তালাক" বলবেন।
  • তবে তালাকের বিষয়কে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তালাক হলো বৈধ জিনিসগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত।" (আবু দাউদ, হাদীস নং ২১৭৮)
  • আপনার উচিত স্ত্রীকে শাসনের জন্য তালাকের হুমকি না দিয়ে অন্য উপায় (যেমন: কথাবার্তা, পরামর্শ, ইত্যাদি) ব্যবহার করা।

উপদেশ: আপনি যদি উত্তমরূপে সংসার করতে চান, তাহলে তালাকের শব্দ পুরোপুরি পরিহার করুন এবং আল্লাহকে ভয় করুন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.