স্ত্রীকে ৬ তালাক দেয়ার পর মাযহাব পরিবর্তন ।

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 2885
Questioner: Josim Sk
Question Asked: 19 Jul 2026, 08:41 PM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 09:15 PM
Views: 79
Tokens: 10,320
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Asslamulaikum "
এক ব্যক্তি হানাফী মাযহাব অনুযায়ী চলতো , এখন সে আহেল হাদীস অনুযায়ী চলছে এবং তার জীবনের সব কিছুই আহেল হাদীস অনুযায়ী চলার চেষ্টা করছে ।
বিষয় হলো যখন সে হানাফী ছিল তখন একবার স্ত্রী কে একটা তালাক বলেছিল এবং ফিরিয়ে নিয়ে সংসার করছিল। তার পর আবার স্ত্রীর সাতে তুমুল ঝগড়া শুরু হয় ,,,, তখন সে কিছু কথা বলে অনেক মুখ সামলিয়ে । কিন্তু পরিস্থিতি এমন বাজে হয়েছে সে ভেবেছে হালালা করতে হলে করবো বলে একসঙ্গে 6 বার তালাক বলেছে । এর কিছুক্ষণ পর সব শান্ত হলে বাড়ির সবাই পাগল হয়ে যাচ্ছিল যে কি করবে ,,, তাই সেই ব্যক্তি একজন হানাফী আলেম কে ডেকে নিয়ে আসে বাড়িতে সেই আলেম তাকে শিখিয়ে দিয়েছে তুমি এই বলবে যা আমি বলেছি। কিন্তু ছেলেটি বলে এই ভাবে তো কিছুই হবে না হলালা ছাড়া। তাই আপনি বাড়িতে নরমাল ভাবে বলেন কিছু হয়নি পরে আমরা হালালা করে নিবো।
তার স্ত্রী প্রেগন্যান্ট ছিল । হঠাৎ তার স্ত্রী বলে তিন বার এর বেশি বললে বা তিন বার বললে সেটা এক বার ধরা হয়। এই নিয়ে সে অনেক হাদীস দেখে। এবং এটাও দেখে যে হালালা কে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হারাম বলেছেন ।সেই ব্যক্তির মাথায় কিছুই আসছে না কি করবে । আহলে হাদীস এর ফতোয়া দেখলো । এবং স্ত্রীর কথা শুনে বিখ্যাত বিখ্যাত কিছু আলেম কে জিজ্ঞাসা করল সে কি আহেল হাদীস অনুযায়ী চলতে পারবে? এবং ঘর সংসার করতে পারবে। 6 থেকে 7 টা আহেল হাদীস এর আলেম কে জিজ্ঞাসা করে । সে যে সুবিধা বাদী এমন না । সে হালাল অবস্থায় স্ত্রী কে ফিরে পেতে চেয়েছে। সে হালালা করতে রাজি ছিল। কিন্তু সে একটি মত পাই। সেই মত কে মন দিয়ে বিশ্বাস করে মেনে নিয়েছে । অনেক আলেম মত দিয়েছে। সে এখন আহেল হাদীস অনুযায়ী চলছে। সে আহলে হাদীস আমলে কে জিজ্ঞাসা করেছে এটি কি প্রবৃত্তির পূজারী? তারা তাকে বলছে ন না। তারা তাকে gudie করে । হাদীস দেখিয়ে বুঝিয়েছে ।
সে আহেল হাদীস কে সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্বাস করে মেনে নিয়েছে । এবং সেই অনুযায়ী চলছে । তার কাছে এই মত টা ঠিক মনে হয়েছে। তা ছাড়া সে ক্রস ভেরিফিকেশন এর জন্য অনেক আলেম কে জেনেছে।
তারা কি সংসার করতে পারে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সালাফি মতানুসারে উক্ত প্রশ্নের জবাব দেয়া হলোঃ-

প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহী মাসআলা নিয়ে: একসঙ্গে একাধিক তালাক দেওয়া এবং তার পরবর্তী করণীয়। প্রশ্নকারী ব্যক্তি পূর্বে হানাফী মাযহাব অনুসরণ করতেন, এখন আহলেহাদীস (সালাফী) মানহাজ অনুযায়ী চলতে চান। তিনি রাগের মাথায় একসঙ্গে ৬ বার তালাক বলেছেন। পরে তিনি হাদীস গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে, একসঙ্গে তিন বা তার বেশি তালাক বললে তা এক তালাকই গণ্য হয় (ইবনে আব্বাস রা.-এর হাদীস ও ইবনে তায়মিয়্যা রহ.-এর মত অনুসারে) এবং হালালা (স্ত্রীকে দ্বিতীয় বিবাহ দিয়ে পুনরায় গ্রহণ) হারাম। তিনি এখন আহলেহাদীসের আলেমদের কাছে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করেছেন এবং তারা তাকে এই মত গ্রহণ করতে গাইড করেছেন। তার স্ত্রী গর্ভবতী।

সঠিক সিদ্ধান্ত:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি আহলেহাদীসের আলেমদের কাছ থেকে জেনেছেন এবং দলীল ভিত্তিক মত গ্রহণ করেছেন যে, একসঙ্গে তিন বা তার বেশি তালাক বললে তা একটি তালাকই গণ্য হবে (যদি তা একই বৈঠকে এবং একই সঙ্গে বলা হয়)। এই মতটি ইমাম ইবনে তায়মিয়্যা, ইবনুল কাইয়্যিম, ইমাম শওকানী ও অন্যান্য সালাফী আলেমদের দলীলভিত্তিক মত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তালাক হচ্ছে ইদ্দতের জন্য (অর্থাৎ এক তালাকের পর ইদ্দত পালন করবে, তারপর ফিরিয়ে নেবে বা ছেড়ে দেবে)” (সহীহ মুসলিম)। তিনি আরও বলেছেন: “আমার সময়ে এবং আবু বকর ও উমরের সময়ের দুই বছর পর্যন্ত একসঙ্গে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবেই গণ্য করা হতো” (সহীহ মুসলিম)। এছাড়া রুকানা ইবনে আব্দে ইয়াজিদ রা. একসঙ্গে তিন তালাক দিলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এক তালাকই গণ্য করেছিলেন (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস সহীহ)।

সুতরাং আপনার দেয়া ৬টি তালাকও এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে (যেহেতু একই সঙ্গে বলেছেন)। তাই আপনার স্ত্রীর সাথে বিবাহ সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়নি। আপনাকে এখন যা করতে হবে:

১. তাওবা ও ইস্তিগফার: রাগের মাথায় তালাক দেওয়া এবং একসঙ্গে একাধিক তালাক বলা গুনাহ। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন।
২. স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া: যেহেতু এটি একটি রজয়ী তালাক (যা ফিরিয়ে নেওয়া যায়), আপনি ইদ্দতের মধ্যে থাকলে (গর্ভবতী স্ত্রীর ইদ্দত সন্তান প্রসব পর্যন্ত) যে কোনো সময় বলতে পারেন: “আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম” অথবা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেই তা ফিরিয়ে নেওয়া গণ্য হবে।
৩. হালালা প্রয়োজন নেই: হালালা (স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ দিয়ে পুনরায় গ্রহণ) হারাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে হালালা করে এবং যার জন্য হালালা করা হয়, তাদের উভয়ের উপর লানত” (সুনানে ইবনে মাজাহ, সহীহ)।
৪. ইদ্দত শেষ হলে: যদি ইদ্দত শেষ হয়ে যায় (অর্থাৎ সন্তান জন্মের পর), তাহলে নতুন করে বিবাহ পড়াতে হবে – মেয়ের সম্মতি ও ওলীর মাধ্যমে, নতুন মাহর দিয়ে। তবে আপনি চাইলে ইদ্দতের ভেতরেই ফিরিয়ে নিতে পারেন।

আলেমদের উক্তি:

  • শায়খুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়্যা (রহ.) বলেন: “একসঙ্গে তিন তালাক বর্তমানে এক তালাক গণ্য হবে, যদি তা একই বৈঠকে দেওয়া হয়।”
  • ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেন: “সাহাবী ও তাবেঈনদের একটি বড় জামাত এই মত পোষণ করতেন।”
  • শায়খ আলবানী (রহ.) প্রাথমিকভাবে এই মত গ্রহণ করেছিলেন।
  • বর্তমান যুগের অনেক আহলেহাদীস আলেম (যেমন শায়খ সালেহ আল-ফাওযান ও অন্যান্য) এই মতকে দলীলভিত্তিক মনে করেন এবং সাধারণ মানুষকে এই অনুমতি দেন।

আপনার অবস্থা:
আপনি আহলেহাদীসের মানহাজ গ্রহণ করেছেন এবং দলীল বিশ্লেষণ করে এই মতকে সঠিক মনে করেছেন। এটি আপনার প্রবৃত্তির পূজা নয়, বরং কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণ। তাই আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। আপনার স্ত্রীকে জানিয়ে দিন যে, ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী তালাকটি একটিই গণ্য হয়েছে এবং আপনি তাকে ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পরিবারে শান্তি ফিরবে, ইনশাআল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:

  • একসঙ্গে ৬ বার তালাক বলায় আহলে হাদীস মতানুসারে একটি তালাক গণ্য হবে।
  • স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় ইদ্দত প্রসব পর্যন্ত।
  • আপনি এখনই তাকে ফিরিয়ে নিন (মৌখিকভাবে বা সহবাসের মাধ্যমে)।
  • হালালা সম্পূর্ণ হারাম, প্রয়োজন নেই।
  • আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে সংসার চালিয়ে যান।

উল্লেখ্য:
আপনার স্ত্রী যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে থাকে, তাহলে সন্তান বৈধ হবে এবং আপনারই সম্পত্তি হবে। কোনো সমস্যা নেই।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.