can husband see deceased wife's picture in Islam,
Faith and Belief · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
সংক্ষিপ্ত উত্তর
স্বামী তার মৃত স্ত্রীর ছবি দেখতে পারবেন, তবে কিছু শর্ত সাপেক্ষে। যেহেতু স্ত্রী জীবিত অবস্থায় স্বামীর জন্য তার চেহারা ও হাত-পা দেখা বৈধ ছিল, মৃত্যুর পরও এই অনুমতি বর্তমান থাকে—বিশেষ করে গোসল ও কাফনের ক্ষেত্রে। তাই মৃত স্ত্রীর ছবি (বিশেষত চেহারার ছবি) দেখা জায়েয, যদি এটি কোনো কু-প্রবৃত্তি বা কঠোর শোকের কারণ না হয়। তবে ছবি তোলা বা ধারণ করা নিজে একটি ভিন্ন মাসআলা, এবং সেটি যাতে হারাম পর্যায়ে না পৌঁছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকা কর্তব্য।
বিস্তারিত উত্তর
ইসলামী ফিকহে ছবি বা ফটোগ্রাফের বিধান নিয়ে হানাফি মাযহাবে বিভিন্ন মত রয়েছে। তবে প্রসিদ্ধ হানাফি ফুকাহার মতে, প্রাণীর সম্পূর্ণ চিত্র অঙ্কন বা নির্মাণ হারাম, কিন্তু ফটোগ্রাফি যদি বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয় এবং তা পূজা বা শিরকের উপকরণ না হয়, তবে তা বৈধ বলে গণ্য হয়। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৫; ফাতাওয়া উসমানি, ২/৩৫৯)
স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলে স্বামীর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শরীয়ত তাকে কিছু বিশেষ অধিকার দেয়। যেমন—স্ত্রীর গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাযা পড়ানো এবং তার দাফনের ব্যবস্থা করা। এসব সময় স্বামী তার স্ত্রীর চেহারা ও হাত-পা দেখতে পারেন। (বাহিশতী জেওর, ২/৪৫১; আল-হিদায়া, ১/৮৬)
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) রদ্দুল মুহতারে লিখেছেন:
"এক ব্যক্তি তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখতে পারে, যেমন জীবিত অবস্থায় দেখত।" (রদ্দুল মুহতার, ১/৬০৪)
এ থেকে বোঝা যায়, মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখার অনুমতি জীবিত অবস্থার মতোই। যেহেতু ছবি তার চেহারার প্রতিচ্ছবি, তাই তা দেখা জায়েয। তবে শর্ত হলো, ছবিটি এমন না হয় যা দেখে কু-প্রবৃত্তি জাগ্রত হয় বা অতিরিক্ত শোক-বিলাপের সৃষ্টি হয়। (ফাতাওয়া উসমানি, ৪/২৩১; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৫৭)
অনেক হানাফি আলেমের মতে, মৃত স্ত্রীর ছবি দেখা যদি শুধু স্মৃতিচারণার জন্য হয় এবং তাতে ব্যথা বা অতিরিক্ত আবেগ না থাকে, তবে তা মাকরূহও নয়। তবে যদি ছবিটি অশ্লীল বা অর্ধনগ্ন অবস্থার হয়, তাহলে তা দেখা নাজায়েয। (মাআরিফুল কুরআন, ৮/২৭৫; ফাতাওয়া আলমগিরি, ৫/৩৫৫)
মোটকথা:
স্বামী তার মৃত স্ত্রীর সাদাসিধে চেহারার ছবি (যেটি জীবিত অবস্থায়ও সে দেখতে পেত) দেখতে পারেন। তবে ছবি যদি অশালীন বা উত্তেজক হয়, তাহলে দেখা হারাম। ছবি রাখা বা তোলার বিষয়টিও আলাদাভাবে বিবেচনায় আনতে হবে—অপ্রয়োজনে ছবি তোলা বা সংরক্ষণ করা অনুত্তম।
উল্লেখযোগ্য কিতাব ও রেফারেন্স
- রদ্দুল মুহতার (كتاب الحظر والإباحة) – ইবনে আবেদীন
- ফাতাওয়া উসমানি (জামিউল ফাতাওয়া) – মুফতি তাকি উসমানি
- ইমদাদুল ফাতাওয়া – মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
- বাহিশতী জেওর (প্রথম খণ্ড) – মাওলানা আশরাফ আলী থানভী
- আল-হিদায়া (كتاب الطهارة ও كتاب النكاح) – বুরহানুদ্দিন আল-মারগিনানী
- ফাতাওয়া আলমগিরি (كتاب الكراهية) – আওরঙ্গজেব আমলে সংকলিত