ফ্লোরের পানিকে ব্যঙয়ের প্রস্রাব সন্দেহ হলে, করণীয় কি?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2856
Questioner: Tisa Moni
Question Asked: 19 Jul 2026, 02:48 AM
Reviewed & Published: 19 Jul 2026, 04:48 AM
Views: 66
Tokens: 4,354
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ফ্লোরে কিছু পানি দেখতে পাই, সন্দেহ লাগছিলো এগুলো ব্যঙের প্রস্রাব কিনা, অনেক শুঁকেও কোনো গন্ধ পেলাম না, আবার এটাও সিউর ছিলাম এখানে কোনো পানি আসার কথা না - তাও গন্ধ পাইনি দেখে এগুলো পা দিয়ে মাড়ানোর পরও ওই অবস্থায় নামাজ পড়েছি ।

এখন প্রায় ৪/৫ঘণ্টা বাদেও ওই হাতের তালু পরিমাণ পানি এখনো আছে আগের মতো, অথচ নরমাল পানি হলে ফ্যানের বাতাসে এতক্ষণে শুকিয়ে যাওয়ার কথা ।

প্রশ্ন হচ্ছে,
অজুর পর ওই পানি পায়ে লাগে, তো গন্ধ যেহেতু পাইনি তাই জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছি + পুরো রুমে হেঁটেছি । এখন সব নাপাক হয়ে যাবে?

আমি সিজারিয়ান, বৃষ্টির দিনে সব ধোয়াধোয়ি কিভাবে কি করবো জানিনা!....

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনি ফ্লোরে কিছু পানি দেখে সন্দেহ করেছিলেন যে এটি ব্যাঙের প্রস্রাব কিনা, কিন্তু কোনো গন্ধ পেলেন না। সুতরাং আপনি এটাকে পাক (পবিত্র) ধরে নিয়ে পায়ে মাড়িয়ে নামাজ পড়েছেন এবং রুমে হেঁটেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এতে কি সব কিছু নাপাক হয়ে গেছে?

মূলনীতি:

ইসলামী ফিকহের একটি মৌলিক নীতি হলো:
"اليقين لا يزول بالشك"
অর্থাৎ, নিশ্চিত অবস্থা সন্দেহ দ্বারা দূর হয় না
যতক্ষণ পর্যন্ত নাপাকির কোনো স্পষ্ট প্রমাণ (যেমন: গন্ধ, রং, স্বাদ) না পাওয়া যায়, ততক্ষণ বস্তুটি পাকই গণ্য হবে।

আপনার ক্ষেত্রে প্রয়োগ:

১. আপনি পানি দেখে সন্দেহ করলেও গন্ধ পাননি এবং আগে থেকেও আপনি নিশ্চিত ছিলেন যে ওখানে পানি আসার কথা নয়। কিন্তু সন্দেহের কারণে নাপাকি সাব্যস্ত হবে না।
২. পরবর্তীতে ৪/৫ ঘণ্টা পরও পানি শুকায়নি—এটা কোনো নির্দিষ্ট নাপাকির প্রমাণ নয়। হতে পারে মেঝেতে তেল বা অন্য কোনো পিচ্ছিল পদার্থ ছিল, অথবা ঘরের আর্দ্রতার কারণে পানি ধীরে শুকিয়েছে।
৩. যেহেতু আপনি সন্দেহের ভিত্তিতে পাক ধরে নিয়েছিলেন, তাই আপনার নামাজ ও রুমের জায়নামাজ, মেঝে ইত্যাদি পাকই আছে। আপনাকে কিছু ধোয়া বা পুনরায় নামাজ পড়ার প্রয়োজন নেই।

যদি নিশ্চিত হতেন যে এটি প্রস্রাব:

ব্যাঙের প্রস্রাব নাপাক। (ব্যাঙের গোশত হালাল নয়, তাই তার প্রস্রাবও নাপাক।) কিন্তু এখানে আপনি নিশ্চিত নন, শুধু সন্দেহ। তাই কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে না।

সিজারিয়ান রোগী ও বৃষ্টির দিনে পবিত্রতা রক্ষা:

আপনার প্রশ্নের শেষে বৃষ্টির দিনে ধোয়াধোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। সিজারিয়ান অপারেশনের পর আপনার জন্য পূর্ণ পবিত্রতা বজায় রাখা কষ্টকর হতে পারে। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়ত সহজতা দিয়েছে:

  • মাস্হ (ভিজে হাত বুলানো) : যদি পানি ব্যবহার করা কঠিন হয়, তবে পা ধোয়ার বদলে ভিজে হাত মোজার ওপর মাস্হ করার অনুমতি আছে (মোজা পরে থাকলে)। আর যদি মোজা না থাকে, তবে যতটুকু সম্ভব পা ধুয়ে নিন, বাকি অংশের ওপর মাস্হ করলেও চলবে (দুর্বল ওজর অবস্থায়)।
  • তায়াম্মুম : যদি পানি ব্যবহার করলে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে (যেমন: ক্ষতস্থানে পানি লাগলে সংক্রমণ), তবে তায়াম্মুম করা জায়েজ।
  • কাপড় দ্রুত শুকানো : বৃষ্টির দিনে কাপড় ভিজে গেলে সেগুলো বদলে ফেলা বা শুকনো কাপড় ব্যবহার করা। সম্ভব না হলে পাক কাপড়ের ওপর কিছু বিছিয়ে নামাজ পড়তে পারেন।

চূড়ান্ত ফতোয়া:

  • আপনার পূর্বের নামাজ ও রুমের সবকিছু পাক আছে। কোনো কিছু নাপাক হয়নি।
  • ভবিষ্যতে যদি কোনো জায়গায় পানি দেখে সন্দেহ হয়, তাহলে গন্ধ, রং, স্বাদ দেখে নিন। কিছু না পেলে সেটাকে পাক ধরা জায়েজ।
  • বৃষ্টি ও অসুস্থতার সময় পবিত্রতা রক্ষার ব্যাপারে ইসলাম সহজতা দিয়েছে। আপনি যতটুকু সম্ভব পবিত্রতা রক্ষা করবেন, বাকিটা আল্লাহ মাফ করবেন।

দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২১০-২১১): "নাপাকি সন্দেহে নয়, বরং নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/২৮০): "যদি কোনো বস্তুকে পাক ধরে কাজ করা হয়, পরে জানা যায় যে তা নাপাক ছিল, তাহলে শুধু সেই স্থান ধুতে হবে, পূর্বের আমল সহীহ থাকবে।"
  • সহিহ মুসলিম: "তুমি যা নিশ্চিত জানো তা ছেড়ে দাও আর যা সন্দেহ হয় তা গ্রহণ করো না।"

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.