টিকটিকির পায়খানা মেঝেতে পরলে তা পাক করার বিধান কি?
Taharah Purity · Hanafi
Question
Answer
প্রশ্ন: টিকটিকির পায়খানা মেঝেতে পড়লে তা পাক করার বিধান কী? হানাফি এবং সালাফি মতে জানতে চাই।
উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين
টিকটিকি (গৃহগোধিকা বা house lizard) এমন একটি প্রাণী যা খাওয়া হারাম। হানাফি ও সালাফি উভয় মতে, যে প্রাণীর মাংস খাওয়া বৈধ নয়, তার পায়খানা-পেশাব নাজিস (অপবিত্র) বলে গণ্য। নিচে উভয় মাজহাবের বিস্তারিত বিধান ও পাক করার পদ্ধতি দলিলসহ উল্লেখ করা হলো।
হানাফি মতে বিধান
১. টিকটিকির পায়খানার হুকুম: হানাফি ফিকহ অনুসারে, যে প্রাণীর মাংস খাওয়া জায়েজ নয় (হারামুল-আকল), তার মল-মূত্র নাজিস। টিকটিকি হারাম প্রাণী হওয়ায় তার পায়খানা নাজিস। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪; ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৪৬; বেহেশতি জেওর, ১/৮৬-৮৭)
২. মেঝে পাক করার পদ্ধতি:
-
মসৃণ ও অশোষণকারী মেঝে (টাইলস, মার্বেল, পাকা সিমেন্ট):
শুধু নাজিসের স্থানটি মুছে ফেললেই তা পাক হয়ে যায়। তিনবার পানি ঢালার প্রয়োজন নেই। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কোনো চকচকে জিনিস (যেমন আয়না, চামড়া, শক্ত মেঝে) নাজিস হলে তা পাক করার জন্য নাজিস দূর করাই যথেষ্ট। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/২৯; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৫০) -
শোষণকারী মেঝে (কাঁচা মাটি, কাঠ, কার্পেট):
এ ধরনের মেঝেতে নাজিস শোষিত হয়ে যায় বলে পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে এবং পানি সম্পূর্ণরূপে নিঃসৃত না হওয়া পর্যন্ত ধোয়া চালিয়ে যেতে হবে। অন্তত একবার পানি ঢেলে তা সরিয়ে ফেলা আবশ্যক। অধিক উত্তম হলো তিনবার ধোয়া। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৯; আল-হিদায়া, ১/২৪)
৩. গুরুত্বপূর্ণ নোট:
- টিকটিকির ‘পায়খানা’ যদি শক্ত (গুটিকা) হয় এবং মেঝেতে কোনো ভেজা দাগ বা গন্ধ না রেখে তুলে ফেলা যায়, তবে শুধু তা সরিয়ে ফেললেই মেঝে পাক হয়ে যাবে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে এরূপ শুকনো নাজিসের স্থান মুছে ফেলা যথেষ্ট। (শরহু মাআনিল আসার, ১/১০৩)
- যদি নাজিস ভেজা অবস্থায় মেঝেতে লেগে যায়, তবে তা পাক করতে পানি ব্যবহার আবশ্যক।
সালাফি মতে বিধান
সালাফি (যারা কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবাদের বুঝ অনুসরণ করেন) মতে টিকটিকির পায়খানার হুকুম হানাফি মাজহাবের মতোই। কারণ টিকটিকি খাওয়া জায়েজ নয় এবং নবী করীম ﷺ টিকটিকি মারার নির্দেশ দিয়েছেন (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২২৩৮)। এ প্রাণীর মল-মূত্র নাজিস।
১. পাক করার পদ্ধতি: সালাফি বিদ্বানগণ সাধারণত নিম্নোক্তভাবে মেঝে পাক করার কথা বলেন:
- নাজিসের পদার্থ সম্পূর্ণরূপে দূর করতে হবে।
- যদি মেঝে শক্ত ও মসৃণ হয়, তাহলে নাজিস দূর করলেই তা পাক। শাইখ ইবনে বায (রহ.) বলেন: “যেকোনো শক্ত জায়গায় নাজিস লাগলে তা মুছে ফেলা বা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলাই যথেষ্ট, তিনবার ধোয়া জরুরি নয়।” (ফাতাওয়া ইবনে বায, ১০/২২০)
- যদি মেঝে শোষণকারী হয় (যেমন কার্পেট, কাঁচা মাটি), তাহলে নাজিস অপসারণের পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং পানি শুকানোর পরই তা পাক হবে। (ফাতাওয়া লাজনা দায়িমা, ৪/২৭৫)
২. উল্লেখযোগ্য বিষয়: সালাফি মতে টিকটিকির পায়খানা নাজিস হওয়ায় নামাজের পোশাক বা শরীরে লাগলে তা ধোয়া আবশ্যক। মেঝেতে লাগলে শুধু মুছে ফেলা যথেষ্ট, যদি মেঝে শক্ত হয়। (শাইখ উসাইমীন, ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব)
আমলিক নির্দেশনা (সংক্ষিপ্ত):
- প্রথমে টিকটিকির পায়খানাটি টিস্যু বা কাগজ দিয়ে সরিয়ে ফেলুন।
- স্থানটি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
- টাইলস বা পাকা মেঝে হলে এই পর্যন্তই যথেষ্ট; পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
- যদি কার্পেট বা কাঁচা মেঝে হয়, তবে কিছু পানি ঢেলে ধুয়ে নিন এবং শুকাতে দিন।