শিশুর নাম 'ইয়াদ রহমান খান নিহান' রাখা ইসলামী শরিয়তে জায়েয কি?
Faith and Belief · Hanafi
Question
আমার এক বন্ধুর ছেলে হয়েছে। সে তার নাম রাখতে চাইছে ইয়াদ রহমান খান নিহান।
১।এরকম নামের মাঝে রহমান কি রাখা যাবে? যদি না যায় তবে এটি কি অনুত্তম নাকি নাজায়েয?
২।এই নামের অর্থ অনুযায়ী এটা কি রাখা যাবে?
উল্লেখ্য বাবার নাম অর্ক রহমান খান। তাই মিলিয়ে রাখতে চাচ্ছে।
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বন্ধুর ছেলের নাম ‘ইয়াদ রহমান খান নিহান’ রাখা সম্পর্কে ইসলামী শরিয়তের আলোকে বিস্তারিত মতামত নিচে প্রদান করা হলো।
১. ‘রহমান’ নামের অংশ হিসেবে রাখা জায়েয কি?
হানাফি ফিকহের আলোকে ‘রহমান’ (الرَّحْمَن) আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ গুণবাচক নাম, যা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট। এটি মানুষের নাম হিসেবে সরাসরি ব্যবহার করা নাজায়েয। কারণ এটি আল্লাহর সিফাত (গুণ) এবং এই নামে মানুষকে ডাকা শিরকের সাদৃশ্য সৃষ্টি করতে পারে।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহায়ে কেরামের মতে, ‘রহমান’, ‘রহীম’, ‘মালিক’ ইত্যাদি নাম শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য রাখা জায়েয। মানুষের নামের ক্ষেত্রে ‘আব্দুর রহমান’ (রহমানের দাস) রাখা জায়েয।
- সূত্র: রাদ্দুল মুহতার (৫/২৬০), ফাতাওয়া আলমগীরী (৫/৩৬২), ফাতাওয়া উসমানী।
সারমর্ম: ‘ইয়াদ রহমান খান নিহান’-এ ‘রহমান’ অংশটি সরাসরি রাখা নাজায়েয। আপনি চাইলে এটি পরিবর্তন করে ‘আব্দুর রহমান’ ব্যবহার করতে পারেন, যা সম্পূর্ণ জায়েয এবং বাবার নামের 'রহমান' অংশের সাথে মিলও থাকবে।
২. নামের অর্থ ও বৈধতা
নামটির প্রতিটি অংশের অর্থ বিশ্লেষণ:
- ইয়াদ (إياد): আরবি শব্দ, অর্থ: ‘শক্তি’, ‘সক্ষমতা’, ‘সমর্থন’। এটি একটি ভালো অর্থবোধক নাম এবং জায়েয।
- রহমান: উপরে উল্লেখিত কারণে সরাসরি ব্যবহার নাজায়েয।
- খান: ফারসি উপাধি, অর্থ: ‘শাসক’, ‘সর্দার’। এটি জায়েয, তবে অহংকারের কারণ না হলে।
- নিহান (نِهَان): আরবি শব্দ, অর্থ: ‘প্রাচুর্য’, ‘উদারতা’, ‘দানশীলতা’ (নিহান শব্দটির ‘নাহ্য়’ বা নিষেধার্থে নয়; এটি فِعَال ওজনে, যার অর্থ ভালো)। এটি জায়েয ও অর্থপূর্ণ।
মোট কথা: নামটির অর্থ ভালো, কিন্তু শুধু ‘রহমান’ অংশটির কারণে পুরো নামটি অনপোযুক্ত। আপনি যদি ‘আব্দুর রহমান’ বা ‘আব্দুল্লাহ’ জাতীয় নাম যুক্ত করেন, তবে তা জায়েয হবে।
প্রস্তাবিত বিকল্প নাম
বাবার নাম ‘অর্ক রহমান খান’ এর সাথে মিল রেখে নিচের নামগুলো রাখতে পারেন:
- ইয়াদ আব্দুর রহমান খান (এটি সবচেয়ে উত্তম)
ইসলামী নামকরণের সাধারণ নীতি
- সহিহ বুখারি ও মুসলিমের হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো।”
- উত্তম নাম: আব্দুল্লাহ, আব্দুর রহমান, মুহাম্মদ, আহমদ ইত্যাদি।
- বর্জনীয় নাম: শিরকের সাদৃশ্যপূর্ণ নাম, দেব-দেবীর নাম, কুসংস্কারমূলক নাম।
উপসংহার:
- ‘রহমান’ শুধু রাখা নাজায়েয।
- ‘রহমান’ পরিবর্তন করে ‘আব্দুর রহমান’ করলে জায়েয হবে।
- বাবার নামের সাথে মিল রাখতে ‘ইয়াদ আব্দুর রহমান খান’ একটি চমৎকার ও শরিয়তসম্মত নাম।
আল্লাহ তাআলা আপনার বন্ধুকে সন্তানের উত্তম নাম রাখার তাওফিক দিন এবং তাকে ইসলামী আদর্শে গড়ে তোলার শক্তি দিন। আমিন।