জানাবাত অবস্থায় ফজরের নামাজ পড়লে করণীয় কি?

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 2734
Questioner: Raju Raj
Question Asked: 15 Jul 2026, 11:53 AM
Reviewed & Published: 15 Jul 2026, 12:05 PM
Views: 48
Tokens: 5,228
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।আমি আজকে ফজরের সময় নামাজ পড়তে গেছে সুন্নত পড়ে পেলছি। তখন কাপড়ে চোখ পরলে দেখি আমার সপ্ন দূষ হয়ছে। তখন সূর্য ওঠার সময় আছে আর ৮মিনিট। বাড়ি এসে গোসল করে নামাজ পড়তে গেলে নামাজ কাযা হয়ে যাবে। তাই আমি কিছু বুঝতে না পেরে এমত অবস্থায় নামাজ পড়ে পেলছি। এখন মনে হচ্ছে ভুল করেছি। এর জন্য কি আমার বড় গুনাহ হবে, এখন আমার করণীয় কি।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার ঘটনাটি স্পষ্ট। আপনি ফজরের সুন্নত পড়ার পর জানতে পারেন যে আপনার স্বপ্নদোষ হয়েছে (জানাবাত)। তখন সূর্যোদয়ের আর মাত্র ৮ মিনিট বাকি। গোসল করতে গেলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তাই আপনি অপবিত্র অবস্থায়ই ফজরের ফরজ পড়ে নিয়েছেন। এখন জানতে চান এটি কত বড় গুনাহ এবং করণীয় কী।

১. অপবিত্র অবস্থায় নামাজ পড়ার বিধান

ইসলামে পবিত্রতা নামাজের শর্ত। কুরআনে আল্লাহ বলেন:
”يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْرَبُوا الصَّلَاةَ وَأَنْتُمْ سُكَارَىٰ حَتَّىٰ تَعْلَمُوا مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغْتَسِلُوا“
(সূরা নিসা: ৪৩)
অর্থ: “হে মুমিনগণ! তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার। আর জানাবাত অবস্থায়ও নয়, তবে পথ অতিক্রমকারী ছাড়া, যতক্ষণ না গোসল কর।”

হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
”لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إِلَّا بِخِمَارٍ“ (আবু দাউদ, তিরমিজি)
অর্থ: “আল্লাহ ঋতুবতী নারীর নামাজ গ্রহণ করেন না যতক্ষণ না সে মাথা ঢাকে।”
এ থেকে বোঝা যায়, পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ কবুল নয়। জানাবাত অবস্থায় নামাজ পড়া হারাম এবং নামাজ শুদ্ধ হয় না। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে করলে কবিরা গুনাহ।

২. আপনার করণীয় কী ছিল?

আপনার কাছে পানি ছিল, কিন্তু সময় খুব কম ছিল। হানাফি মাজহাবের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যদি সময় এতটুকু থাকে যে গোসল করলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে, তাহলে আপনি তায়াম্মুম করে নামাজ পড়তে পারতেন। ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে, এমতাবস্থায় তায়াম্মুম জায়েজ এবং পরে গোসল করে নামাজ পুনরায় পড়া (কাজা) করবেন। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে তায়াম্মুম জায়েজ নয়, তবে হানাফি ফতোয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমাম মুহাম্মদের মতের ওপর দেওয়া হয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/৩৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৩)

কিন্তু আপনি তায়াম্মুম না করে সরাসরি অপবিত্র অবস্থায় নামাজ পড়ে ফেলেছেন—এটি সঠিক হয়নি। এতে আপনার নামাজ আদায়ই হয়নি। বরং তা বাতিল (অশুদ্ধ) গণ্য হবে।

৩. গুনাহের পরিমাণ ও তওবা

ইচ্ছাকৃতভাবে জানাবাত অবস্থায় নামাজ পড়া কবিরা গুনাহ। তবে আপনি যদি বিষয়টি না জানতেন বা বিভ্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে গুনাহ কম হবে। কিন্তু আপনাকে এখনো তওবা করতে হবে। তওবা হলো:
(ক) আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া,
(খ) ভবিষ্যতে এ কাজ না করার সংকল্প,
(গ) বাদ পড়া নামাজ কাজা করা।

৪. এখন করণীয়

  • গোসল করুন: জানাবাত থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল ফরজ।
  • নামাজ কাজা করুন: ফজরের সুন্নত (২ রাকাত) ও ফরজ (২ রাকাত)—এই চার রাকাত নামাজ পুনরায় পড়বেন। যেহেতু আপনি অপবিত্র অবস্থায় পড়েছিলেন, তা গণ্য হবে না। তাই এখন যেকোনো সময়ে (সূর্যোদয়ের পর বা অন্য কোনো সময়) গোসল করে নামাজ কাজা করে নিন। হানাফি মতে, ফরজের কাজা করা ওয়াজিব; সুন্নতের কাজা মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া উসমানি, ৪/২৩৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২৪০)
  • আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন: মনে মনে বলুন, “আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাগফিরুকা লি জামী‘ই যুনুবি” অথবা “রব্বিগফিরলী ওয়া তুব ‘আলাইয়্যা ইন্নাকা আনতাত তাওওয়াবুর রাহীম।”

৫. গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে ফজরের সুন্নত পড়ার আগেই যদি জানাবাতের বিষয়টি জানতে পারেন, তবে প্রথমে গোসল বা তায়াম্মুম করে ফরজ পড়বেন। সময় না থাকলে তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে পরে কাজা করবেন।
  • গোসলের সময় বেশি না লাগলে (প্রায় ২-৩ মিনিট) সেটাই উত্তম। তখন কাজা এড়ানো যায়।
  • নামাজের সময় আগে থেকেই পবিত্রতা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

রেফারেন্স

  • কুরআন: সূরা নিসা ৪:৪৩
  • হাদিস: আবু দাউদ, তিরমিজি (পবিত্রতা শর্ত)
  • ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (১/৩৩৪), ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৩), ফাতাওয়া উসমানি (৪/২৩৮), ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২৪০)
  • ফতোয়া: দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া অনুরূপ পরিস্থিতিতে কাজার নির্দেশ দেয়।

সারকথা:

  • আপনার ওই নামাজ শুদ্ধ হয়নি।
  • গুনাহ হবে, তবে তওবা করে আল্লাহ ক্ষমা করবেন।
  • এখন গোসল করে ফজরের নামাজ কাজা করুন।
  • ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন।

আল্লাহ আপনার তওবা কবুল করুন এবং ভুলত্রুটি মার্জনা করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.