নামাজের নিয়ত কিভাবে করতে হয়?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
بسم الله الرحمن الرحیم
প্রশ্ন:
নামাজের নিয়ত কিভাবে করা জরুরী? যদি কেউ মাগরিবের নামাজের জন্য অজু করে এবং প্রস্তুতি নেয় এবং তার মাথায় থাকে যে মাগরিবের নামাজ পড়তে হবে বা পড়াইতে হবে, এটাই কি তার নিয়তের জন্য যথেষ্ট নয়?
উত্তর:
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين
নামাজের জন্য নিয়ত অপরিহার্য। তবে নিয়তের স্থান হলো অন্তর। মুখে উচ্চারণ করা ফরজ বা ওয়াজিব নয়; বরং এটি মুস্তাহাব (উত্তম) যাতে অন্তরের ইচ্ছা আরও দৃঢ় হয়। হানাফি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, যদি কেউ মাগরিবের নামাজের উদ্দেশ্যে অজু করে, কিবলামুখী হয় এবং তার মনে স্পষ্টভাবে থাকে যে সে মাগরিবের ফরজ নামাজ পড়ছে, তাহলে তার নিয়ত শুদ্ধ হয়েছে এবং নামাজ আদায় হয়ে যাবে। মুখে ‘নাওয়াইতু’ ইত্যাদি বলা কোনো শর্ত নয়।
হানাফি কিতাবের দলিল:
১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
"وَمَحَلُّ النِّيَّةِ الْقَلْبُ ... وَالتَّلَفُّظُ بِهَا سُنَّةٌ ... فَلَوْ نَوَى بِقَلْبِهِ وَلَمْ يَتَكَلَّمْ بِهَا جَازَ"
(নিয়তের স্থান হলো অন্তর ... আর মুখে বলা সুন্নত ... যদি কেউ অন্তরে নিয়ত করে কিন্তু মুখে না বলে, তবুও তা জায়েজ।)
(রদ্দুল মুহতার, ১/৪৫৬, কিতাবুস সালাহ, বাব সিফাতিস সালাহ)
২. ফতোয়ায়ে আলমগিরি (হিন্দিয়া):
"وَتَحْصِيلُ النِّيَّةِ أَنْ يَعْلَمَ أَنَّهُ يُصَلِّي صَلَاةً مَخْصُوصَةً كَالظُّهْرِ مَثَلًا ... وَيَكْفِي فِي النِّيَّةِ الْعِلْمُ وَالْإِرَادَةُ"
(নিয়ত অর্জনের পদ্ধতি হলো— সে জানবে যে সে নির্দিষ্ট একটি নামাজ পড়ছে, যেমন জোহর ... আর নিয়তের জন্য জ্ঞান ও ইচ্ছা (অন্তরের সংকল্প) যথেষ্ট।)
(ফতোয়ায়ে আলমগিরি, ১/৫৮, কিতাবুস সালাহ, ফাসল ফি নিয়্যাত)
৩. আল-হিদায়া:
"وَشَرْطُهَا النِّيَّةُ ... وَلَا يَفْتَقِرُ إلَى التَّلَفُّظِ"
(নামাজের শর্ত হলো নিয়ত ... আর তা মুখে বলা আবশ্যক নয়।)
(আল-হিদায়া, ১/৪৪, কিতাবুস সালাহ, বাব ফরজিস সালাহ)
৪. ইমদাদুল ফতোয়া (আশরাফ আলী থানভি):
"نیت دل کا ارادہ ہے، زبان سے کہنا ضروری نہیں۔"
(নিয়ত হলো অন্তরের ইচ্ছা, জবান দ্বারা বলা জরুরি নয়।)
(ইমদাদুল ফতোয়া, ১/৬৩, কিতাবুস সালাহ)
৫. মা‘আরিফুল কোরআন (মুফতি মুহাম্মদ শফি):
سورۂ بقرہ (২:২৩৮) এর তাফসিরে উল্লেখ করেছেন যে নামাজের মধ্যে নিয়ত অন্তরের কাজ, মুখে উচ্চারণ করা বিদ‘আত নয় তবে জরুরি নয়।
আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:
যদি কোনো ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের জন্য অজু করে, কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ায় এবং তার মাথায় (অন্তরে) স্পষ্ট থাকে যে ‘আমি মাগরিবের ফরজ নামাজ পড়ছি’ — তাহলে এটি তার নিয়তের জন্য সম্পূর্ণ যথেষ্ট। মুখে ‘নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া’ বলা আবশ্যক নয়। অধিকন্তু, অনেক মুজতাহিদের মতে, অজু করার সময়ই যদি তার ইচ্ছা মাগরিবের নামাজ পড়ার থাকে এবং তিনি অজু শেষে সরাসরি নামাজে দাঁড়ান, তবে সেই ইচ্ছাটিই নিয়তের জন্য কাফি।
তবে ভালো হয়— নামাজ শুরুর সময় (তাকবিরে তাহরিমা বলার মুহূর্তে) অন্তরে নামাজের নির্দিষ্টতা (যেমন মাগরিবের ফরজ) ও ইচ্ছা জাগ্রত রাখা। আর যদি মুখে বলে নিয়ত পড়েন, তাহলে তা উত্তম, কিন্তু না বললেও নামাজ শুদ্ধ।
সারসংক্ষেপ:
- নিয়তের স্থান অন্তর, মুখে বলা ফরজ নয়।
- মাগরিবের নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া ও মনে মনে ‘মাগরিব পড়ব’—এটাই যথেষ্ট।
- হানাফি মাজহাবে নামাজের আগে ‘নাওয়াইতু’ পড়তে হবে বলে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; বরং অনেক কিতাবে এটিকে বিদ‘আত বা খিলাফে সুন্নাহ বলেও উল্লেখ নেই, বরং মুস্তাহাব বলা হয়েছে।
- সুতরাং আপনার পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ সহিহ এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
والله أعلم بالصواب