সুন্নাত নামাজ ছেড়ে দিলে কি গুনাহ হয়?
Salah-Prayer · Hanafi
Question
এই ক্ষেত্রে কি হবে
সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া কি গুনাহ নয়?
Answer
উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্য—শুধু ফরজ নামাজ পড়ব, সুন্নাত পড়ব না—এবং একে ‘অপছন্দনীয় গুনাহ’ না বলা—এ কথা হানাফি মাজহাবের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ ভুল। বরং সুন্নাতে মুয়াক্কাদা (যেমন ফজরের দুই রাকাত, জোহরের চার রাকাত, মাগরিবের দুই রাকাত, এশার দুই রাকাত ইত্যাদি) ছেড়ে দেওয়া গুনাহ এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ।
হানাফি ফিকহের দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. সুন্নাতে মুয়াক্কাদার গুরুত্ব:
রাসূলুল্লাহ (সা.) সর্বদা সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায় করতেন এবং কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছাড়তেন না। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও অন্যান্য হানাফি ফুকাহার মতে, সুন্নাতে মুয়াক্কাদা তরক করা (ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া) গুনাহ এবং মাকরুহ তাহরিমি (অর্থাৎ নিষিদ্ধের কাছাকাছি) বলে গণ্য। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/১১২)
২. ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.)-এর বক্তব্য:
“সুন্নাতে মুয়াক্কাদা পরিত্যাগকারীকে ধমক দেওয়া উচিত এবং সে পাপী হবে।” (রদ্দুল মুহতার, ২/৪৩৫)
৩. ফাতাওয়া উসমানি:
মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) বলেন:
“সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ফরজের মতো বাধ্যতামূলক না হলেও, ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে দেওয়া নিকৃষ্ট অভ্যাস এবং শরিয়তের নির্দেশনার প্রতি উদাসীনতা। এর ফলে ব্যক্তি গুনাহগার হবে।” (ফাতাওয়া উসমানি, ২/২৯২)
৪. বেহেশতি জেওর-এ আল্লামা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) লিখেছেন:
“যে ব্যক্তি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দেয়, তার নামাজে ক্রটি থাকে এবং সে অবশ্যই পাপী।” (বেহেশতি জেওর, ১/১৫৫)
উত্তরের সারসংক্ষেপ:
- যারা বলে ‘সুন্নাত ছেড়ে দেওয়া গুনাহ নয়’ – তাদের কথা শরিয়তসম্মত নয়।
- সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় এবং তা নিন্দনীয়।
- **কিন্তু যদি কেউ মাঝে মাঝে কোনো বৈধ ওজর বশত ছেড়ে দেয়, সেক্ষেত্রে গুনাহ হবেনা। তবে ওযর বশত নিয়মিত ছেড়ে দেওয়া বড় গুনাহ।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ফরজ ও সুন্নত উভয়ের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাওফিক দান করুন। (আমিন)