২০ বছর বয়সী জেনারেল শিক্ষার্থী দ্বীনি ইলম (কুরআন তেলাওয়াত, হিফজ, আরবি) শিখতে চাইলে কীভাবে মাদরাসায় ভর্তি হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
একজন ২০ বছর বয়সী জেনারেল পড়ুয়া যদি চাই, সে দ্বীনি ইলম অর্জন করবে,অর্থাৎ সহীহ শুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত,হিফজ,আরবি ভাষাসহ শুরু করে আরো উচ্চতর ইলম অর্জন করতে চাই,তাহলে সে কী মাদ্রাসায় ভর্তি হতে পারবে?যদি পারে তাহলে তাকে কোন মাদ্রাসায় ভর্তি হতে হবে,কোন শ্রেণীতে ভর্তি হবে?
কুরআন তেলাওয়াত কিছুট সহীহ আছে
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি ২০ বছর বয়সী একজন জেনারেল শিক্ষার্থী, দ্বীনি ইলম অর্জনে আগ্রহী। এটি একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় সিদ্ধান্ত। হাদীসে এসেছে, “প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ” (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২২৪)। তাই আপনার এই আগ্রহ নিঃসন্দেহে ইবাদতের অংশ।
আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো—
১. মাদরাসায় ভর্তি হওয়া যাবে কী?
হ্যাঁ, আপনি মাদরাসায় ভর্তি হতে পারবেন। দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। অনেক মাদরাসায় বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কুরআন তেলাওয়াত, হিফজ ও আরবি ভাষার আলাদা ব্যবস্থা থাকে। যদি কোনো মাদরাসায় নিয়মিত শাখায় বয়স বেশি হয়, তাহলে আলাদা “আদর্শ শিক্ষা” বা “প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা” বিভাগে ভর্তি করানো হয়।
২. কোন মাদরাসায় ভর্তি হবেন?
আপনি নিজ এলাকায় স্বীকৃত কওমি মাদরাসায় যোগাযোগ করতে পারেন। যেমন—
- জামিয়া কাসিমুল উলুম বা জামিয়া আরাবিয়া টাইপের প্রতিষ্ঠান।
- কিংবা স্থানীয় মাদরাসার নাজিরা/হিফজ বিভাগ।
- IOM বা ইসলামিক অনলাইন মাদরাসাতে প্রাথমিকভাবে ভর্তি হতে পারেন।
৩. কোন শ্রেণীতে ভর্তি হবেন?
যেহেতু আপনার কুরআন তেলাওয়াত কিছুটা সহীহ আছে, তাই:
- প্রথম ধাপ: মাদরাসায় ভর্তি হয়ে “নাজিরা” বা “তাজবীদ” ক্লাসে বসতে পারেন। সেখানে কুরআন বিশুদ্ধকরণ ও তাজবীদ শেখানো হয়।
- দ্বিতীয় ধাপ: পরে আরবি ভাষা শেখার জন্য “ইলমুস সরফ/নাহু” বা “আরবি গ্রামার” ক্লাসে ভর্তি হতে পারেন।
- তৃতীয় ধাপ: হিফজ করার আগ্রহ থাকলে হিফজ বিভাগে ভর্তি হতে পারেন। তবে হিফজ সাধারণত সময়সাপেক্ষ, তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিতে পারেন।
- চতুর্থ ধাপ: উচ্চতর ইলমের জন্য “কিতাব বিভাগ” বা “দাওরায়ে হাদীস” পর্যন্ত পড়তে চাইলে মাদরাসার নিয়মিত “ইলমি” শ্রেণীতে ভর্তি হতে হবে। সেখানে সাধারণত “প্রাইমারি” থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে পড়ানো হয়। আপনার বয়স ২০ হলেও মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আপনাকে উপযুক্ত ক্লাসে ভর্তি করানো হবে (যেমন: ৬ষ্ঠ-৭ম শ্রেণীর সমতুল্য “মিশকাত” বা “জালালাইন” এর পূর্ববর্তী শ্রেণী)।
৪. হানাফি ফিকহের দিকনির্দেশনা
ইমাম আবু হানীফা (রহ.) বলেছেন: “জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য ফরজ” (আল-ফিকহুল আকবর)। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে, প্রাপ্তবয়স্ক হয়েও দ্বীনি শিক্ষা শুরু করা জায়েয ও প্রশংসনীয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ফাতাওয়া উসমানী, ইমদাদুল ফাতাওয়া, রদ্দুল মুহতার প্রভৃতি গ্রন্থে প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
৫. ব্যবহারিক পরামর্শ
- নিজের এলাকার কোনো আলেম বা মাদরাসার মুহতামিমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।
- অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন: অনেক মাদরাসার এখন ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ আছে।
- ধৈর্য ধারণ করুন: দ্বীনি ইলম ধীরে ধীরে অর্জন করতে হয়। শুরুতে সহজ নিয়মে পড়ুন, তারপর উচ্চতর স্তরে যান।
- নিয়ত শুদ্ধ রাখুন: শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পড়বেন।
শেষ কথা
আপনার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দ্বীনি ইলম অর্জন ও আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
রেফারেন্স:
- কুরআন: “অতএব, জ্ঞানীদের মধ্যে থেকে কিছু লোক কেন বেরিয়ে যায় না, যাতে তারা দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করে এবং...” (সূরা আত-তাওবা: ১২২)
- হাদীস: “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ।” (ইবনে মাজাহ: ২২৪)
- হানাফি ফিকহ: রদ্দুল মুহতার (১/৪২), ফাতাওয়া উসমানী (৩/৫২), ইমদাদুল ফাতাওয়া (৪/১২০)