BRDB (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) তে চাকরীর বেতন এবং পেনশন কি হালাল?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2586
Questioner: Abu Nayeem
Question Asked: 12 Jul 2026, 12:29 PM
Reviewed & Published: 12 Jul 2026, 01:04 PM
Views: 137
Tokens: 20,204
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
ফতোয়া আবেদন
বরাবর,
মুফতি সাহেব / দারুল ইফতা

বিষয়: সুদ-সংশ্লিষ্ট চাকরি, অবসরকালীন অর্থ, ব্যাংক আমানত, অতীতের আয়-ব্যয় ও সম্পদের শরয়ী হুকুম এবং প্রকৃত তাওবার করণীয় সম্পর্কে ফতোয়া আবেদন।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু
সম্মানিত মুফতি সাহেব,
আল্লাহ তাআলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি আমার দীর্ঘ কর্মজীবন, আয়-ব্যয় ও বর্তমান আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক বিধান জানতে চাই। আমার উদ্দেশ্য কোনো অজুহাত খোঁজা নয়; বরং আল্লাহ তাআলার নিকট আন্তরিক তাওবা করা, অতীতের ভুলত্রুটি থেকে মুক্তির উপায় জানা এবং অবশিষ্ট জীবন সম্পূর্ণ হালালভাবে পরিচালনা করা।
নিচে আমার অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরছি।
১. চাকরির বিবরণ
১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BRDB)-এ হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করি। ২০০৬ সালে অবসর গ্রহণ করি।
চাকরির পুরো সময়ে আমার বেতন সরকারি রাজস্ব (Government Treasury/Revenue) থেকে প্রদান করা হতো।
তবে BRDB-এর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) পরিচালিত হতো এবং আমার দাপ্তরিক দায়িত্বের মধ্যে সুদভিত্তিক ঋণের হিসাব সংরক্ষণ, হিসাব প্রস্তুত, অডিট এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণমূলক কাজ করির দায়িত্ব হিসেবে করতাম।
২. অবসর-পরবর্তী আর্থিক অবস্থা
চাকরিজীবনে অর্থ ব্যাংকে সঞ্চয় করিনি।
২০০৬ সালে অবসর গ্রহণের পর অবসরকালীন প্রাপ্য অর্থের একটি অংশ, আনুমানিক ৩৫ লক্ষ টাকা, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করি। সুদের ভয়াবহতা জানার পরে সঞ্চয়পত্রের প্রথম মেয়াদ শেষ হলে আর নবায়ন না করে ভেঙে ফেলি।
তবে সঞ্চয়পত্রের প্রাপ্ত অতিরিক্ত সুদ পারিবারিক বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যয় হয়ে যায়।
৩. বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা একটি প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকে তিন মাস মেয়াদি সেভিংস আমানত হিসেবে রাখা আছে।
প্রতি তিন মাস অন্তর এর ওপর সুদ যোগ হয় এবং আমানতটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন (Auto Renewal) হয়ে যায়।
আমি প্রতি মাসে প্রায় ৩৫,০০০ টাকা সরকারি পেনশন ভাতা পাই।
৪. অন্যান্য সম্পদ
পৈতৃকসূত্রে কিছু জমি পেয়েছি। সেখান থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হয় না; অতীতে সামান্য আয় হতো।
চাকরিজীবনে একটি জমি ক্রয় করেছিলাম। বর্তমানে সেই জমি থেকে বছরে কিছু ধান উৎপন্ন হয়।

৫. গত কয়েক দশকে আমার ব্যয়ের প্রধান খাতসমূহঃ

➤ পরিবারের ভরণপোষণ,
➤ সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়,
➤ ছেলে-মেয়েদের বিবাহের ব্যয়,
➤ আত্মীয়-স্বজনকে উপহার,
➤ স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রবধূকে কিছু অলংকার প্রদান,
➤ যাকাত আদায়,
➤ হজ্জ পালন,
➤ জমি ক্রয়

৬. পরিবারের বর্তমান অবস্থা
আমার উপার্জনক্ষম ছেলে সপরিবারে আমার সঙ্গে একই পরিবারে বসবাস করে।
ছাত্রাবস্থায় আমি তাকে একটি ল্যাপটপ কিনে দিয়েছিলাম।
বর্তমানে সে একটি হালাল পেশায় ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে উপার্জন করছে।
সে তার উপার্জন থেকে সংসারে প্রতি মাসে আনুমানিক ১০,০০০ টাকা সহযোগিতা করে। কখনো কমবেশি হয়।
৭. আমার বর্তমান মানসিক অবস্থা
সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে জানার পর আমি এবং আমার পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে অনুতপ্ত। আমরা আল্লাহ তাআলার অসীম রহমত ও ক্ষমা প্রত্যাশী। আমাদের আন্তরিক ইচ্ছা হলো প্রকৃত তাওবা করে ভবিষ্যৎ জীবন সম্পূর্ণ শরীয়তসম্মতভাবে পরিচালনা করা।
৮. সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহঃ
১. আমার চাকরির প্রকৃতি বিবেচনায় চাকরির বেতন সম্পূর্ণ হালাল, সম্পূর্ণ হারাম, নাকি আংশিক ?
২. যদি আমার চাকরির বেতনের কোনো অংশ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম সমস্যাযুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য এখন আমার করণীয় কী?
৩. বর্তমানে ব্যাংকে থাকা মূল ৩৫ লক্ষ টাকার শরয়ী হুকুম কী?
৪. পূর্বের সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ এবং এ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদের অর্থের ব্যাপারে এখন কী করণীয়?
৫. চাকরিজীবনে ক্রয়কৃত জমি ও বর্তমানে সেই জমি থেকে উৎপাদিত ফসলের শরয়ী হুকুম কী?
৬. অতীতে স্ত্রী, কন্যা, পুত্রবধূ ও আত্মীয়-স্বজনকে দেওয়া অলংকার ও উপহারের ব্যাপারে কোনো করণীয় আছে কি?
৭. অতীতে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের শিক্ষা, বিবাহ, যাকাত ও হজ্জে ব্যয়কৃত অর্থের বিষয়ে শরীয়তের সিদ্ধান্ত কী?
৮. ছাত্রাবস্থায় পিতার দেওয়া ল্যাপটপ বর্তমানে ছেলের হালাল উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কোনো শরয়ী সমস্যা আছে কি?
৯. আমার বর্তমান পেনশন ভাতার শরয়ী হুকুম কী?
১০. প্রকৃত তাওবা সম্পন্ন করতে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে সম্পূর্ণ হালাল আর্থিক জীবন যাপনের জন্য শরীয়তের আলোকে ধাপে ধাপে আমার কী কী করণীয়?
১১. যদি আমার বিবরণে কোনো তথ্যের ঘাটতি থাকে, তাহলে অনুগ্রহ করে যে অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন তা জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাযাকুমুল্লাহু খাইরন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের ইলম, আমল ও খেদমতে বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করুন। আমীন। ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

Answer

بسم اللہ الرحمن الرحیم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، وعلى آله وصحبه أجمعين

প্রশ্ন: বিআরডিবি-তে চাকরির বেতন ও পেনশন হালাল না হারাম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে শরয়ী নির্দেশনা।

উত্তর:
আপনার দীর্ঘ বিবরণ ও আন্তরিক তাওবার ইচ্ছার জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আপনি যে বিষয়গুলো জানতে চেয়েছেন, তার প্রতিটির উত্তর নিম্নে ক্রমান্বয়ে দেওয়া হলো।


১. চাকরির বেতনের শরয়ী হুকুম (সম্পূর্ণ হালাল, নাকি আংশিক হারাম?)

আপনি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (BRDB)-এ হিসাবরক্ষক হিসেবে ১৯৭৬ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত চাকরি করেন। আপনার দায়িত্বের মধ্যে ক্ষুদ্রঋণের (মাইক্রোক্রেডিট) হিসাব রাখাও ছিল, যা সুদভিত্তিক ছিল। শরীয়তে সুদের সাথে সংশ্লিষ্ট যেকোনো কাজ (হিসাব লেখা, সংরক্ষণ, অডিট) করা হারাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সুদ গ্রহীতা, সুদ প্রদানকারী, সুদের দলিল লেখক ও সাক্ষী সকলেই লানতের অধিকারী।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৫৯৭)

অতএব, সুদের হিসাব লেখা ও সংরক্ষণের কাজ করা আপনার জন্য গুনাহের কাজ ছিল। তবে প্রশ্ন হলো, আপনার বেতন কি সম্পূর্ণ হারাম নাকি হালাল?

হানাফী ফিকহের নীতিমালা:

  • কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল কাজ যদি হারাম হয় (যেমন সুদী ব্যাংক), তবে সেখানে চাকরির বেতন হারাম। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানের কাজ মিশ্র হয় (যেমন সরকারি অফিস), এবং কর্মচারীর মূল দায়িত্ব বৈধ কাজ, তবে বেতন হালাল, যদিও কোনো হারাম কাজ করতে বাধ্য হন। তবে সেই হারাম কাজের জন্য তাকে গুনাহ হবে এবং তাওবা করতে হবে। (আল-হিদায়া, ফাতাওয়া শামী, ৬/৩৮৭; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮)
  • আপনার ক্ষেত্রে BRDB একটি সরকারি উন্নয়ন সংস্থা, যার মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ একটি অংশ। আপনার বেতন সরকারি রাজস্ব (ট্রেজারি) থেকে আসত, যা সুদ থেকে সরাসরি আসেনি। তাই আপনার বেতনের মূল অংশ হালাল, তবে সুদের হিসাব রাখার কারণে আপনি গুনাহগার হয়েছেন।

সিদ্ধান্ত: আপনার চাকরির বেতন সম্পূর্ণ হালাল নয়, সম্পূর্ণ হারামও নয়; বরং মূল বেতন হালাল, তবে সুদ সংশ্লিষ্ট কাজ করার কারণে আপনার ওপর গুনাহ রয়েছে। আপনাকে এই গুনাহের জন্য তাওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রমাণ:

  • فتاوی عثمانی (جلد ২، صفحہ ۲۶۱): "اگر کوئی شخص سرکاری دفتر میں ملازم ہو اور اس کے کچھ کام سود سے متعلق ہوں تو اس کی تنخواہ حلال ہے، لیکن سود والے کاموں سے بچنا ضروری ہے۔"
  • البحر الرائق (٨/٢٨٠): "يكره كتابة وثائق الربا ويكسب صاحبها إثماً، وأما الأجرة فتحل إذا كانت على عمل جائز في الأصل."

করণীয়: এখন তাওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। প্রয়োজনে কিছু সাদকা করুন। বেতন ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই।


২. অতীতের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য এখন করণীয় কী?

আপনি যদি আন্তরিকভাবে তাওবা করেন, তবে আল্লাহ ক্ষমাশীল। তাওবার শর্ত হলো:
(ক) সুদ সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা।
(খ) অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া।
(গ) ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প করা।
(ঘ) যেহেতু আপনি সুদের হিসাব রেখেছেন, আপনি চাইলে অতিরিক্ত নফল সাদকা দিতে পারেন। তবে এটি ফরজ নয়। (তাফসীর মাআরিফুল কুরআন, সূরা আত-তওবা, আয়াত ১০২ এর ব্যাখ্যা)

প্রমাণ: قال الله تعالى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: ٣١]


৩. ব্যাংকে থাকা মূল ৩৫ লক্ষ টাকার শরয়ী হুকুম কী?

বর্তমানে এই টাকা একটি ইসলামী ব্যাংকে "সেভিংস আমানত" হিসেবে রয়েছে এবং প্রতি তিন মাস পর পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয় এবং সুদ (যাকে 'লাভ' বলা হয়) যোগ হয়। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান ইসলামী ব্যাংকগুলোর সেভিংস অ্যাকাউন্টে যে 'প্রত্যাশিত লাভ' দেওয়া হয়, তা অনেক হানাফী আলিমের মতে সন্দেহযুক্ত এবং সুদের কাছাকাছি। কারণ এখানে মূলধন সুরক্ষিত এবং লাভের হার পূর্বনির্ধারিত থাকে (যা মুদারাবার শর্তের বিপরীত)।

করণীয়:

  • আপনি আপনার মূল ৩৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে একটি সম্পূর্ণ শরয়ী সম্মত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখুন (যেমন- কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) অথবা কোনো হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন।
  • এ পর্যন্ত ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত 'লাভ' বা সুদকে (যা আপনি নিয়েছেন) সাদকা করে দিন, কারণ তা হারাম। তবে মূল টাকা আপনার হালাল।
  • প্রমাণ: فتاوی عثمانی (جلد ২، صفحہ ۳۵۰): "بینک میں رکھی ہوئی رقم پر ملنے والا نفع سود ہے، اسے صدقہ کرنا واجب ہے۔"

৪. পূর্বের সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ ও ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সুদের অর্থের বিধান কী?

জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত সুদ স্পষ্টতই হারাম। আপনি ইতিমধ্যে সেই সুদ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যয় করেছেন। এখন আপনার করণীয়:

  • যদি সুদের কিছু টাকা এখনও আপনার কাছে থাকে, তবে তা সাদকা করে দিন।
  • যদি সব ব্যয় হয়ে যায়, তবে তাওবা করুন এবং অতিরিক্ত নফল সাদকা দিয়ে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা করুন। তবে এটি ফরজ নয়, বরং উত্তম। (ফাতাওয়া শামী, ৬/৩৮৪)
  • ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত 'লাভ' একই হুকুমে পড়ে; এটি সাদকা করা আবশ্যক।

প্রমাণ: قال رسول الله ﷺ: "لعن الله آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه." (مسلم)


৫. চাকরিজীবনে ক্রয়কৃত জমি ও তার ফসলের হুকুম কী?

যেহেতু আমরা আপনার বেতনকে মূলত হালাল বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছি, তাই সেই বেতন দিয়ে কেনা জমি হালাল এবং এর ফসলও হালাল। এতে কোনো শরয়ী সমস্যা নেই। তবে মনে রাখবেন, আপনি সুদের হিসাব রেখেছেন বলে গুনাহগার, কিন্তু সেই জমি বা ফসল হারাম নয়। (আল-হিদায়া, ৩/৮৫)


৬. স্ত্রী, কন্যা, পুত্রবধূকে দেওয়া অলংকার ও উপহারের ব্যাপারে করণীয় কী?

আপনার বেতন হালাল হওয়ায় এগুলো দেওয়া জায়েয ছিল। তবে যদি আপনার কাছে প্রমাণ থাকে যে এসব দেওয়ার সময় আপনি সরাসরি সুদের টাকা ব্যবহার করেছেন (যেমন সঞ্চয়পত্রের সুদ), তবে তার পরিমাণ সাদকা করতে হবে। অন্যথায় কোনো করণীয় নেই। শুধু তাওবা করুন।


৭. অতীতের ভরণপোষণ, শিক্ষা, বিবাহ, যাকাত, হজ্জের ব্যয়ের হুকুম কী?

এসব ব্যয় যদি আপনার হালাল বেতন থেকে হয়, তবে তা বৈধ এবং আল্লাহর কাছে কবুলের আশা রাখে। যদি সুদের টাকা মিশ্রিত থাকে, তবে হিসাব করে সেই পরিমাণ সাদকা করা শ্রেয়। তবে সাধারণ নিয়ম: যে ব্যক্তি তাওবা করে, আল্লাহ তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেন। (সূরা আত-তাহরীম: ৮, সূরা আয-যুমার: ৫৩)


৮. পিতার দেওয়া ল্যাপটপ ছেলের হালাল উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা কি জায়েয?

ল্যাপটপটি আপনার হালাল বেতন দিয়ে কেনা। তাই এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েয। ছেলে হালাল পেশায় তা ব্যবহার করছে, এতে কোনো সমস্যা নেই।


৯. বর্তমান পেনশন ভাতার শরয়ী হুকুম কী?

পেনশন আপনার চাকরির অবসরকালীন সুবিধা, যা সরকারি নিয়মে দেওয়া হয়। যেহেতু আপনার বেতন হালাল ছিল এবং পেনশন তারই অংশ, তাই পেনশন গ্রহণ করা হালাল। আপনি নিশ্চিন্তে তা ব্যবহার করতে পারেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৪)


১০. প্রকৃত তাওবা ও ভবিষ্যৎ হালাল জীবনের জন্য ধাপে ধাপে করণীয়:

১. এখনই ব্যাংকের সেভিংস অ্যাকাউন্ট বন্ধ করুন এবং মূল টাকা উঠিয়ে একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্টে রাখুন।
২. ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত লাভ সাদকা করে দিন (নিয়ত করুন: সুদের টাকা সাদকা করছি, সওয়াবের আশা নেই)।
३. সঞ্চয়পত্রের সুদ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে গেলে, তাওবা করুন এবং নফল সাদকা দিন।
৪. এখন থেকে সম্পূর্ণ হালাল আয়ের পথে চলুন। হালাল বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করুন।
৫. নিয়মিত যাকাত প্রদান করুন এবং নফল ইবাদত বাড়ান।
৬. পরিবারকেও সতর্ক করুন এবং হালাল রিযিকের গুরুত্ব বোঝান।
৭. এই ফতোয়ার উত্তর অনুযায়ী আমল করুন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।

প্রমাণ: قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا} [التحريم: ٨]


১১. অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন?

আপনার বিবরণই যথেষ্ট। কোনো কিছু অস্পষ্ট থাকলে আমরা পুনরায় উত্তর দিতে প্রস্তুত।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.