ব্রেস্ট ফিডিং বা স্তন্যদানের সময়সীমা সম্পর্কে কি কোনো ইখতিলাফ আছে?

Family Life · Hanafi

Question No: 2578
Questioner: Salwa Safin
Question Asked: 12 Jul 2026, 06:58 AM
Reviewed & Published: 12 Jul 2026, 07:13 AM
Views: 50
Tokens: 3,866
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

এই ওয়েবসাইটে সম্পূর্ণ ভিন্ন ফতোয়া পেলাম ব্রেস্ট ফিডিং এর সময়সীমার ব্যাপারে। এ ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি।
https://islamqa.info/en/answers/721/is-it-prohibited-to-breastfeed-after-2-years-in-islam

Answer

ব্রেস্ট ফিডিং এর সময়সীমা: হানাফী মতে বিস্তারিত ফতোয়া

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

প্রশ্নকারী জানতে চেয়েছেন যে, ব্রেস্ট ফিডিং (স্তন্যদান) এর সময়সীমা সম্পর্কে ইসলামিক স্কলারদের মধ্যে মতভেদ (ইখতিলাফ) আছে কিনা। তিনি একটি ওয়েবসাইটে (ইসলামকিউএ.ইনফো) ভিন্ন ফতোয়া পেয়েছেন এবং হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সঠিক অবস্থান জানতে চেয়েছেন।

হানাফী মতে স্তন্যদানের সময়সীমা

হানাফী ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে নিম্নোক্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো:

১. কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"মাতাগণ তাদের সন্তানদেরকে পূর্ণ দুই বছর স্তন্যদান করিবে, যদি কেউ স্তন্যদানের মেয়াদ পূর্ণ করতে চায়।" (সূরা আল-বাকারা: ২:২৩৩)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, পূর্ণ দুই বছর স্তন্যদান করা সর্বোত্তম ও পরিপূর্ণ পদ্ধতি। তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়; বরং এটি একটি ইচ্ছামূলক (ইখতিয়ারী) নির্দেশনা। যদি কোনো কারণে মা চান বা প্রয়োজন হয়, তবে তিনি এর কম বা বেশি সময়ও স্তন্যদান করতে পারেন।

২. হানাফী ফুকাহাদের অবস্থান

  • ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) -এর মতে, স্তন্যদানের সর্বোচ্চ সময়সীমা দুই বছর। তবে যদি কেউ প্রয়োজনে এর বেশি সময় স্তন্যদান করে, তবে তা নিষিদ্ধ নয়; বরং তা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হতে পারে যদি কোনো অপকার না থাকে। (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ১/৩৪৮)
  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.) -এর মতে, স্তন্যদানের সময়সীমা আড়াই বছর পর্যন্ত হতে পারে। কারণ কিছু হাদীসে শিশুর পূর্ণ স্তন্যদানের মেয়াদ ৩০ মাস (আড়াই বছর) পর্যন্ত উল্লেখ আছে। (শরহু মাআনিল আছার, ৩/৪৫; ফাতাওয়া উসমানী, ৪/২১৫)
  • ইবনে আবেদীন (রহ.) লিখেছেন: "স্তন্যদানের মূল সময় দুই বছর, কিন্তু যদি শিশুর দুর্বলতা বা অন্য কোনো প্রয়োজন থাকে, তবে তা আড়াই বছর পর্যন্ত বাড়ানো জায়েয। তবে এর বেশি করলে তা নিষেধ নয় বরং অপছন্দনীয়।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৩)

৩. দুধপান সম্পর্কিত (রাযা'আত) সময়সীমা

হানাফী মতে, মাহরাম সম্পর্ক স্থাপনের জন্য দুধপানের সময়সীমা হলো দুই বছর। অর্থাৎ, কোনো শিশু যদি দুই বছরের মধ্যে কোনো মহিলার দুধ পান করে, তবে তা মাহরাম সম্পর্ক সৃষ্টি করে। কিন্তু দুই বছরের পর দুধপান করলে সেই সম্পর্ক সৃষ্টি হবে না। (আল-হেদায়া, ৪/২১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ১/৩৪৯)

এর ব্যতিক্রম হলো **ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে, যদি কোনো শিশু আড়াই বছরের মধ্যে দুধপান করে এবং তা পরিপূর্ণভাবে পেট ভরে নেয়, তবে মাহরাম সম্পর্ক সৃষ্টি হবে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৩৪৯)

৪. স্তন্যদান ও রাযা'আত-এর মধ্যে পার্থক্য

  • স্তন্যদান (Breastfeeding for nutrition): এর নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে; আড়াই বৎসর দুধ পান করানো যাবে। তবে দুই বৎসর পর্যন্ত সর্বোত্তম।
  • রাযা'আত (Radha'ah for fosterage): এটি দুধপানের মাধ্যমে মাহরাম সম্পর্ক স্থাপনের জন্য। হানাফী মতে, এর সময়সীমা দুই বছর (**ইমাম আবু হানীফা (রহ.) এর মতে আড়াই বছর)।

৫. মতভেদের কারণ

প্রশ্নে উল্লিখিত ওয়েবসাইট (ইসলামকিউএ.ইনফো) সাধারণত সালাফী মতে ফতোয়া দেয়। তাদের মতে, দুই বছর পর স্তন্যদান করাতে কোনো বাধা নেই, তবে উত্তম হলো দুই বছরেই শেষ করা। এটি হানাফী মতের কাছাকাছি, তবে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে:

  • হানাফী মতে, দুই বছর পর স্তন্যদান মাকরূহ তহারিমি (হারামের কাছাকাছি)।
  • সালাফী মতে, এটিকে মুবাহ (জায়েয) এবং উত্তম হলো দুই বছর।

কিছু সালাফী বা অন্যান্য মাযহাবের আলেম দুই বছর পর স্তন্যদানকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেছেন।

৬. হানাফী গ্রন্থের রেফারেন্স

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): ৬/৩৭২-৩৭৩
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা (আলমগীরী): ১/৩৪৮-৩৪৯
  • শরহু মাআনিল আছার (ত্বহাবী): ৩/৪৫
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): ৪/২১৫-২১৬
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি শফী): ৪/২৪৭

উত্তর সংক্ষেপে

হ্যাঁ, স্তন্যদানের সময়সীমা সম্পর্কে ইখতিলাফ (মতভেদ) বিদ্যমান। হানাফী মতে:

  • সার্বোত্তম সময়: পূর্ণ দুই বছর (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
  • জায়েয সময়: আড়াই বছর পর্যন্ত (ইমাম আবু-হানিফার মতে)
  • এর বেশি করলে: মাকরূহ তাহরিমি (হারামের কাছাকাছি) ।
  • দুধপানের মাধ্যমে মাহরাম সম্পর্ক স্থাপনের সময়সীমা: হানাফী মতে শুধুমাত্র প্রথম দুই বছর (ইমাম আবু হানিফার মতে আড়াই বছর)।

যদি আপনার শিশুর বিশেষ প্রয়োজন থাকে (যেমন দুর্বলতা, অসুস্থতা, বা পুষ্টির চাহিদা), তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দুই বছর পরও স্তন্যদান করানো জায়েয। তবে সাধারণত দুই বছরেই স্তন্যদান সম্পন্ন করাই অধিকতর শ্রেয়।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.