অপারেশনের বিল যদি ব্যাংক পরিশোধ করে, এবং আমি পরবর্তিতে কিস্তিতে একটু বেশী পরিশোধ করি তাহলে কি জায়েয হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2566
Questioner: Rashed Khan
Question Asked: 11 Jul 2026, 09:38 PM
Reviewed & Published: 11 Jul 2026, 09:50 PM
Views: 70
Tokens: 3,205
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একটি হসপিটালে একটি অপারেশন করাই। সেই বিল টা আমার ব্যাংক পরিশোধ করে দেয়। পরবর্তীতে আমি সেই টাকা ২৪ ভাগে ভাগ করে কিস্তিতে দিব। সেক্ষেত্রে আমার কিছু টাকা বেশি দিতে হবে। এবং আমি কোনোভাবেই কোন কিস্তি মিস করবো না ইনশাআল্লাহ। এটা কি জায়েজ হবে

Answer

উত্তরের সারসংক্ষেপ

আপনার প্রশ্নটি হলো: আপনি একটি হাসপাতালে অপারেশন করিয়েছেন, ব্যাংক বিলটি পরিশোধ করে দিয়েছে, এবং আপনি ২৪টি কিস্তিতে কিছু অতিরিক্ত টাকা (সুদ) সহ ব্যাংককে ফেরত দেবেন। এই লেনদেন কি জায়েজ?

উত্তর: এটি জায়েজ নয়, বরং হারাম। কারণ এটি একটি সুদী (রিবাভিত্তিক) ঋণের চুক্তি। ব্যাংক আপনাকে যে টাকা অগ্রিম দিয়েছে, তার বিনিময়ে আপনি অতিরিক্ত টাকা (সুদ) দিতে রাজি হচ্ছেন—এটাই রিবা (সুদ), যা কুরআন, হাদিস ও ইজমা দ্বারা স্পষ্টভাবে হারাম।


বিস্তারিত ফিকহি বিশ্লেষণ

১. রিবা কী?

রিবা (সুদ) হলো ঋণের মূলধনের ওপর অতিরিক্ত কোনো বিনিময় গ্রহণ করা, তা যে নামেই হোক না কেন। কুরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا
"আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।" (সূরা আল-বাকারা, ২:২৭৫)

২. আপনার লেনদেন কেন রিবা?

  • আপনি হাসপাতালের বিল পরিশোধের জন্য ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিচ্ছেন।
  • ব্যাংক সম্পূর্ণ বিল (মূল টাকা) পরিশোধ করে দিয়েছে।
  • আপনি তা ২৪টি কিস্তিতে ফিরিয়ে দেবেন, কিন্তু মূল টাকার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে
  • এই অতিরিক্ত টাকাই সুদ (রিবা)। আপনি যতই নিয়মিত কিস্তি দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ হন না কেন, অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার শর্তই লেনদেনটিকে হারাম করে দিচ্ছে।

৩. হানাফি ফিকহের গ্রন্থের উদ্ধৃতি

  • আল-হেদায়া (كتاب البيوع) ও রাদ্দুল মুহতার (كتاب الربا)-এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: ঋণের ওপর কোনো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা বা লাভ গ্রহণ করা হারাম।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগিরি): "ঋণ দেওয়া এবং তার ওপর অতিরিক্ত শর্ত করা জায়েজ নয়; তা যদি নির্ধারিতও হয়, তবে তা সুদ।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৪/১৩২)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): "ঋণের ওপর কোনো লাভ বা মুনাফা চুক্তিবদ্ধ করা সুদ, তা জায়েজ নয়।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/২৪৭)

৪. কিস্তি মিস না করার অঙ্গীকার কি বৈধতা দেয়?

না। শুধু সময়মতো কিস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করলে হারাম লেনদেন্ট হালাল হয় না। মূলত অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার চুক্তিটিই হারাম, তা কিস্তিতে হোক বা একবারে।

৫. হাদিসের নির্দেশনা

রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর ও সুদদাতা উভয়কেই লা‘নত করেছেন:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ
"রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদ খাওয়া, সুদ খাওয়ানো, সুদের লেখক ও তার সাক্ষী—সবার প্রতি লা‘নত করেছেন।" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৯৮)

আপনি এখানে ঋণগ্রহীতা (সুদখোর) হচ্ছেন, কারণ আপনি সুদযুক্ত ঋণ গ্রহণ করছেন।


জায়েজ/হালাল বিকল্প

আপনার যদি জরুরি চিকিৎসার অর্থ না থাকে, তবে ইসলাম নিম্নলিখিত উপায়গুলোর পরামর্শ দেয়:

  1. সুদমুক্ত ঋণ (কর্দে হাসানা): কোনো আত্মীয়, বন্ধু বা ইসলামী সংস্থা থেকে সুদমুক্ত ঋণ নিন।
  2. হাসপাতালের সাথে সরাসরি কিস্তি চুক্তি: হাসপাতালের সাথে কোনো অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই কিস্তি নির্ধারণ করে নিন। যদি হাসপাতাল সম্মত হয়, তাহলে এটি জায়েজ।
  3. ইসলামী ব্যাংকিং: যদি আপনার দেশে ইসলামী ব্যাংকের ‘মুরাবাহা’ বা ‘ইজারা’র মতো সুদমুক্ত ফিন্যান্সিং ব্যবস্থা থাকে, তবে তা ব্যবহার করতে পারেন।
  4. অপেক্ষা করা: সম্ভব হলে টাকা জমা করে পরে অপারেশন করানো।

উপসংহার

  • আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে ব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করা হারাম
  • এটি সুদ (রিবা) হওয়ার কারণে কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
  • আপনি যদি ইতিমধ্যেই এই চুক্তি করে ফেলে থাকেন, তবে তওবা করুন এবং ভবিষ্যতে এমন লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। অপারেশন শেষ হওয়ার পর চুক্তি ভঙ্গ করা যদি কষ্টকর হয়, তবে অন্তত অন্তর থেকে নিন্দা করুন এবং পরবর্তীবার সুদমুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করুন।

আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল উপার্জন ও বৈধ পথের তাওফিক দিন। আমিন।

(প্রামাণ্য হানাফি কিতাব: রাদ্দুল মুহতার, আল-হেদায়া, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ইমদাদুল ফাতাওয়া)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.