মেডিকেল প্র্যাকটিক্যাল খাতার কাজ অন্যের দিয়ে করানো কি জায়েজ?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2493
Questioner: Tahia Tabassom toly
Question Asked: 09 Jul 2026, 10:31 PM
Reviewed & Published: 09 Jul 2026, 10:35 PM
Views: 62
Tokens: 3,483
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

السلام عليكم و رحمت الله و بركاته
উস্তাদ যারা আমরা মেডিকেল এ পরি তাদের অনেক প্র্যাকটিক্যাল করতে হয় , এই প্র্যাকটিক্যাল খাতা খুলেও দেখে না স্যার রা পরীক্ষার সময় , শুধু জমা দিলেই হবে এরকম , প্র্যাকটিক্যাল অনেকেই অন্যকে দিয়ে করায় যাদের ছবি আঁকা ভালো হয়না , স্যাররা জানে এই ব্যাপারে এবং উনাদের মৌন সম্মতি আছে এই ব্যাপারে , এক্ষেত্রে কি অন্যকে দিয়ে প্র্যাকটিক্যাল করানো যাবে ?

Answer

উত্তর দেওয়া হলো:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় প্রশ্নকারী, আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল খাতা (যেখানে ছবি আঁকা ইত্যাদি থাকে) পরীক্ষার সময় শিক্ষকরা খুলেও দেখেন না, শুধু জমা দিলেই চলে। অনেকে নিজের ছবি আঁকা ভালো না হওয়ায় অন্যকে দিয়ে করিয়ে নেয়। শিক্ষকরা বিষয়টি জানেন এবং চুপচাপ থাকেন (মৌন সম্মতি)। এ অবস্থায় অন্যকে দিয়ে প্র্যাকটিক্যাল করানো কি জায়েজ?

উত্তর: না, অন্যকে দিয়ে নিজের প্র্যাকটিক্যালের কাজ করানো জায়েজ নয়, যদিও শিক্ষকরা চুপচাপ থাকেন বা জানেন। কারণ এটি প্রতারণা (গিশ) ও মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত। ইসলাম শিক্ষার্থীকে নিজের কাজ নিজে করার নির্দেশ দেয়। কেউ যদি নিজের নামে অন্যের কাজ জমা দেয়, তবে তা মিথ্যা উপস্থাপন ও বিশ্বাসঘাতকতা। শিক্ষকের নীরবতা এটিকে বৈধ করে না, বরং শিক্ষকের দায়িত্বশীলতার অভাবের কারণে তিনি জিজ্ঞাসিত হবেন, কিন্তু শিক্ষার্থীর গুনাহ তার নিজের জন্যই থাকবে।

দলিল:

  • হাদিসে এসেছে, "مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي" (যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়) – সহিহ মুসলিম।
  • প্র্যাকটিক্যাল খাতা শিক্ষার্থীর নিজের দক্ষতা ও চেষ্টার মূল্যায়নের মাধ্যম। অন্যের কাজ নিজের বলে পেশ করা সুস্পষ্ট প্রতারণা।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (৬/২৪৪) ও ফাতাওয়া উসমানি (২/৫২৭) তে এসেছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় প্রতারণা করা বা অন্যের কাজ নিজের নামে পেশ করা হারাম।
  • ইবনে আবেদিন (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৪২৯) তে বলা হয়েছে, ক্রয়-বিক্রয়ে যদি কোনো ত্রুটি লুকানো হয় তবে তা নাজায়েজ। অনুরূপভাবে, নিজের অজ্ঞতা বা অক্ষমতা লুকিয়ে অন্যের কাজ নিজের বলে চালানোও নাজায়েজ।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:

  • শিক্ষকের মৌন সম্মতি বা অনুমোদন কাজটিকে হালাল করে না, কারণ শরিয়তের বিধান মানুষের অনুমতির ওপর নির্ভরশীল নয়।
  • যদি শিক্ষার্থী ছবি আঁকায় দুর্বল হয়, তবে উচিত হলো নিজে চেষ্টা করে শেখা। প্রয়োজনে শিক্ষকের সাহায্য নেওয়া, কিন্তু অন্যের কাজ নিজের নামে জমা দেওয়া নয়।
  • এটি একটি নৈতিক ও ধর্মীয় ব্যাপার; এতে ছাত্রের আমানতদারি ও সততার পরীক্ষা হয়।

সারসংক্ষেপ:
প্র্যাকটিক্যাল খাতার কাজ অন্যের দিয়ে করানো এবং জমা দেওয়া জায়েজ নয়। শিক্ষকের নীরবতা এ ব্যাপারে কোনো বৈধতা দেয় না। নিজে চেষ্টা করুন, না পারলে শিক্ষকের কাছ থেকে সরাসরি সাহায্য নিন, কিন্তু প্রতারণা করবেন না।

আল্লাহ তাআলা সবাইকে সত্যের পথে চলার তাওফিক দিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.