”হে আল্লাহ এমন ঈমান দান করেন যে ঈমান কখনো কুফুরের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না” এভাবে কি দোয়া করা যাবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2479
Questioner: abul kalam azad (304)
Question Asked: 09 Jul 2026, 05:41 PM
Reviewed & Published: 09 Jul 2026, 05:46 PM
Views: 66
Tokens: 3,716
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

"হে আল্লাহ আপনি আমাকে এমন ঈমান দান করেন যে ঈমান কখনো কুফুরের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না, এমন নেয়ামত দান করেন যে নিয়ামত কখনো শেষ হবে না, আপনার হাবিব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর সাথে জান্নাতে থাকার তৌফিক দান করুন।" আমিন।।৷ এই দোয়াটার সত্যতা নিশ্চিতসহ রেফারেন্স ও মূল হাদিস দরকার

Answer

উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত দোয়াটি—"হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এমন ঈমান দান করুন যা কখনো কুফুরের দিকে ফিরে যাবে না, এমন নেয়ামত দান করুন যা কখনো শেষ হবে না, এবং আপনার হাবীব হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর সাথে জান্নাতে থাকার তাওফীক দান করুন।"—এই নির্দিষ্ট শব্দবিন্যাসে কোনো সহীহ হাদিসে বর্ণিত নেই। এটি ব্যক্তিগতভাবে রচিত একটি দোয়া। তবে এর মর্মার্থ কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

দোয়ার সত্যতা ও মূল হাদিসের অবস্থান:

  • কোনো সহীহ হাদিসে এই শব্দগুলো পাওয়া যায়নি। ইমাম বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ প্রভৃতি বিশুদ্ধ হাদিস গ্রন্থে অথবা মুসনাদে আহমাদ, মুসতাদরাকে হাকিম, সুনানে দারেমী, মিশকাত, মাজমাউয যাওয়াইদ ইত্যাদিতেও এ শব্দের উল্লেখ নেই।
  • তবে এর অর্থবোধক দোয়া কুরআন ও সহীহ হাদিসে বিদ্যমান। যেমন—
    • ঈমান অটুট রাখার দোয়া:
      সূরা আলে ইমরান (৩:৮)-এ আছে:
      ﴿رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا﴾
      “হে আমাদের রব! আমাদের হেদায়েত দেওয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহকে সত্যচ্যুত করো না।” (তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন)
    • নিয়ামতের ধারাবাহিকতার দোয়া:
      সহীহ মুসলিমে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
      اللهم إني أسألك العفو والعافية في الدنيا والآخرة
      “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা ও দুনিয়া-আখিরাতের নিরাপত্তা চাই।” (মুসলিম: ২৬৮৮)
    • জান্নাতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে থাকার দোয়া:
      একজন সাহাবী বললেন, “ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি আপনার সাথে জান্নাতে থাকতে চাই।” তিনি বললেন, فَأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ “তবে অধিক সিজদার মাধ্যমে তুমি আমাকে (এ বিষয়ে) সাহায্য কর।” (মুসলিম: ৪৮৯)

হানাফি ফিকহ ও ফতোয়ার আলোকে দোয়া রচনার বিধান:

  • ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত: নিজের ভাষায় দোয়া করা জায়েয, তবে শর্ত হলো এমন কোনো শব্দ না বলা যা কুফুরী বা শিরকী বা অশোভন হয়। (রদ্দুল মুহতার: ১/৪৪০)
  • ফতোয়ায়ে উসমানী ও ফতোয়ায়ে আলমগীরী: যে দোয়া কুরআন-হাদিসের বিরোধী নয়, তা পড়া জায়েয এবং বরকতের আশা রাখা যায়। তবে উত্তম হলো কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলো মুখস্থ করে পড়া। (ফতোয়ায়ে উসমানী: ১/২৪৮)
  • ইমদাদুল ফতোয়া: দোয়ার ক্ষেত্রে নিজের ভাষা ব্যবহার করা জায়েয, কিন্তু ‘আমিন’ বলার আগে বা পরে কোনো বর্ণিত দোয়া থেকে বদল না করাই ভালো। (ইমদাদুল ফতোয়া: ১/১২৯)

মূল্যায়ন:

প্রশ্নোক্ত দোয়াটির মর্মার্থ সঠিক, তবে তা সহীহ হাদিসের গায়রু (غير) বা অপ্রমাণিত। তাই একে ‘হাদিস’ বলে চালানো বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী বলে দাবি করা জায়েয নয়। বরং ব্যক্তিগতভাবে কেউ নিজের ভাষায় এভাবে দোয়া করতে চাইলে তা জায়েয, কিন্তু পূর্ণ সওয়াবের জন্য কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত দোয়া পড়া উচিত।

উত্তম বিকল্প দোয়াসমূহ:

১. রাব্বানা লা তুযিগ কুলূবানা… (সূরা আলে ইমরান ৮)
২. ইয়া মুকাল্লিবাল কুলূব, সাব্বিত ক্বলবী ‘আলা দ্বীনিকা (তিরমিযী: ২১৪০)
“হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর স্থির রাখুন।”
৩. আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল জান্নাতা ওয়া মা ক্বার্রাবা ইলাইহা (ইবনে মাজাহ: ৪৩৩৯)
“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং তার নিকটবর্তী আমল চাই।”

সুপারিশ:

  • শুধু নিজের ভাষায় দোয়া করলে ‘আমিন’ বলার আগে দোয়াটি মন থেকে বলুন।
  • তবে দোয়াটি কোনো মসজিদে সামষ্টিকভাবে বা লিখিত পাণ্ডুলিপিতে বা প্রচারপত্রে এভাবে না ছড়ানোই উত্তম, যাতে কারো মনে হয় এটি কোনো হাদিস।
  • যদি কেউ এটি পড়তে চায়, তবে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ঈমানান লা ইয়ার্তাদ্দু…’ ইত্যাদি শব্দে নিজের ভাষায়, কিন্তু বিনা হাদিসের নামে পড়বেন।

মোটকথা:
প্রশ্নোক্ত দোয়াটি কোনো বর্ণিত হাদিস নয়। এর মর্মার্থ সঠিক হলেও সেটাকে হাদিসের স্তরে না তোলাই কর্তব্য। অনেক হাদিসে একই অর্থের দোয়া আছে, সেগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে দেওয়াই সমীচীন।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের তাওফীক দান করুন। (আমিন)


References Used:

  • সহীহ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী – সংশ্লিষ্ট অধ্যায়
  • তাফসীরে মা‘আরিফুল কুরআন – মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.)
  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) – ১/৪৪০
  • ফতোয়ায়ে উসমানী – ১/২৪৮
  • ইমদাদুল ফতোয়া – ১/১২৯
  • ফতোয়ায়ে আলমগীরী – শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.