কেউ অজ্ঞতাবশত ধর্মকে নিয়ে খেলার ছলে কথা বললে ঈমান ও বিবাহের কী হবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 2454
Questioner: Akhi
Question Asked: 08 Jul 2026, 08:26 PM
Reviewed & Published: 08 Jul 2026, 08:33 PM
Views: 72
Tokens: 4,166
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওরাহমাতুল্লাহ। কেউ ঈমানে সমস্যা হতে পারে কিনা না জেনে যদি বলে ফেলে খেলার এসবে ধর্ম টেনে আন কেন বললে পরে বুঝার পর তওবা করলে কি ঈমান ও বিবাহ ঠিক থাকে? মানে বলার কয়েক বছর পর জানলে বা বুঝতে পারলে?ধর্মকে তুচ্ছ করা কোন উদ্দেশ্য না হলে এবং এটা ঈমানে সমস্যা হতে পারে কিনা মোটেও না জেনে করলে এমনকি জানলে জীবনেও করত না এমন হলে কি ঈমান ি বিবাহ ঠিক থাকে? মুফতি সাহেবের কাছে জানার ছিল।

Answer

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো: কেউ যদি অজ্ঞতাবশত, ধর্মকে তুচ্ছ করার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া, এবং এটি ঈমানের জন্য সমস্যা হতে পারে—এটা না জেনে এমন কোনো কথা বলে ফেলে যা পরে বুঝতে পারে যে এটি ঈমানের পরিপন্থী হতে পারে, তাহলে তার ঈমান ও বিবাহের কী হুকুম? বিশেষ করে যখন সে কয়েক বছর পর জানতে পারে এবং তওবা করে।

মূল নীতি

হানাফি ফিকহে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো: আল-উমুরু বি মাকাসিদিহা—অর্থাৎ প্রতিটি কাজের ফলাফল নির্ভর করে তার নিয়ত ও ইচ্ছার ওপর। যদি কেউ কুফরি শব্দ উচ্চারণ করে কিন্তু তার অন্তরে ঈমান থাকে এবং সে তা তুচ্ছ করার বা কুফর করার নিয়তে না বলে, বরং অজ্ঞতা বা ভুলবশত বলে ফেলে, তাহলে সে কাফির হয় না। (ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৫৭)

এর পাশাপাশি, দ্বীনের কোনো বিষয়কে তুচ্ছ করা বা হেয় করার ইচ্ছা থাকা শর্ত। যদি কোনো ব্যক্তি দ্বীনের কোনো বিষয়কে তুচ্ছ বা বিদ্রুপ করার উদ্দেশ্য ব্যতিরেকে, শুধু খেলার ছলে বা অজ্ঞতাবশত এমন কথা বলে যা সাধারণত কুফরি হিসেবে গণ্য হতে পারে, তবে সে কাফির হবে না। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৫/২৪৫; ফাতাওয়া উসমানি, ১/৩০১)

উক্ত ঘটনার বিচার

১. ঈমানের অবস্থা: যদি ব্যক্তি অজ্ঞতাবশত এবং ধর্মকে তুচ্ছ করার কোনো ইচ্ছা ছাড়াই বলে: “খেলার এসবে ধর্ম টেনে আন কেন?”—এবং সে যদি জানত না যে এ কথা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, আর জানলে কখনোই বলত না, তাহলে তার ঈমান নষ্ট হয়নি। কারণ তার অন্তর ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তার উচ্চারণের পেছনে দ্বীন বিদ্রুপের বা অবজ্ঞার কোনো নিয়ত ছিল না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ২/২৫৭; রদ্দুল মুহতার, ৪/২৩৭)

২. তওবা ও ঈমানের পুনরুদ্ধার: তওবা করার মাধ্যমে তার ঈমান পূর্বের মতোই শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য থাকে। যেহেতু মূলত ঈমান নষ্টই হয়নি, তাই তওবা করলে সেটি অধিক ফজিলতপূর্ণ ও গুনাহ মাফের কারণ হবে। (শরহু মাআনিল আসার, ইমাম তাহাবি; বাহিশতি জেওর, ১/২০৪)

৩. বিবাহের বিধান: যেহেতু ঐ কথার কারণে ঈমান নষ্ট হয়নি, তাই বিবাহও নষ্ট হয়নি। বিবাহ ঠিক ও সহীহ অবস্থায়ই আছে। (আল-হিদায়া, ২/৩০০; ফাতাওয়া আলমগিরি, ১/৪৮০)

৪. বহু বছর পর জানা ও তওবা করা: যদি ব্যক্তি কয়েক বছর পর জানতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে তওবা করে, তাহলেও তা গ্রহণযোগ্য। বিলম্বে তওবা করলেও আল্লাহ তাআলা খালেস তওবা কবুল করেন, তবে দ্রুত তওবা করা উচিত। (কুরআন: সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩; ইবনে আবেদীন, ২/৪৯৫)

উপসংহার

আপনার বর্ণিত পরিস্থিতিতে—

  • ব্যক্তি যদি ধর্মকে তুচ্ছ করার কোনো নিয়ত না রাখে,
  • এবং সে জানে না যে এ কথা ঈমানের জন্য সমস্যা হতে পারে,
  • এবং আসলেই এ কথা বলার সময় তার ঈমানের দুর্বলতা না থাকে,
  • আর পরে বুঝতে পেরে তওবা করে নেয়,

তাহলে তার ঈমান ও বিবাহ উভয়ই ঠিক আছে। তবে তাকে আগামীতে দ্বীনি বিষয়ে সতর্ক হতে হবে এবং এমন সব কথা এড়িয়ে চলতে হবে যা কুফরি বা বেয়াদবি হিসেবে গণ্য হতে পারে। তওবা করাই যথেষ্ট, কোনো পুনঃবিবাহ বা ঈমানের পুনর্গঠনের প্রয়োজন নেই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন এবং ভুল-ত্রুটি থেকে হেফাজত করুন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.