নারীদের জন্য ইসলামী চাকরি, বিসিএস সাথে পর্দা মানার বিষয়ে প্রশ্ন।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমি একজন মেয়ে,পড়ছি দেশের নামকরা প্রাইভেট ভার্সিটিতে। বাবা মা চায় আমি যেনো জব করি, আর উনারা এত টাকা দিচ্ছেন এটা আমারও খারাপ লাগে
মা কল দিলেই,আম্মু জব কিন্তু করা লাগবে। তোমার বাবার এটাই স্বপ্ন তুমি অনেক ভালো জব করবো।
পরিবারে আমি একাই পর্দা করি,তবে খাস না।মাহরাম মেইনটেইন করতে পারি নি এখনো।
উনাদের জন্য আমি চাচ্ছি বিসিএস প্রিপারেশন নিতে।বিসিএসের ভাইভায় মুখ দেখনো লাগে
আমার জন্য উচিত হবে বিসিএস নিয়ে ভাবা?
Answer
উত্তরঃ বিসিএস চাকরি ও পর্দার ক্ষেত্রে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নকারী বোন, আপনি আপনার পরিবারের একমাত্র পর্দাকারী সদস্য। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত। পর্দা করা ফরজ এবং এর উপর টিকে থাকা সওয়াবের কাজ। পিতামাতার ইচ্ছা ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমি নিম্নোক্ত দিকনির্দেশনা পেশ করছি।
১. বিসিএস চাকরি ও পর্দা:
বিসিএস পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে সাধারণত নারী-পুরুষ উভয় সদস্য উপস্থিত থাকেন। ভাইভায় পুরুষ সদস্যের সামনে মুখ খোলা (যা পর্দার নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদিত নয়) এবং বেশ কিছু অনিবার্য মিশ্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে, একজন নারীর জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ। তাই এমন চাকরি বেছে নেওয়া উচিত যেখানে পর্দার শর্ত পূরণ করা সম্ভব।
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ:) বলেন: "নারীর জন্য পর্দা ফরজ এবং সে নিজেকে পুরুষদের সন্মুখে পেশ করা থেকে বিরত থাকবে, তবে নিতান্ত প্রয়োজনে পর্দার শর্ত রক্ষাকরে বের হতে পারে।" (রদ্দুল মুহতার, ৯/৩৪২)
২. পিতামাতার ইচ্ছা ও ইসলামী সীমারেখা:
আপনার পিতামাতা আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চান। তাদের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে আপনি ইসলামী পর্দার আওতায় ফিট করে এমন চাকরি খুঁজতে পারেন। যেমন:
- শিক্ষকতা (নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে)
- গবেষণা, অনলাইন ভিত্তিক কাজ (যেখানে পর্দা রক্ষা করা যায়)
- মহিলা ব্যাংকিং বা কর্পোরেট অফিসের নারী বিভাগ (যেখানে নারী সহকর্মীদের সাথে কাজ করা যায় এবং পুরুষদের সাথে কম মিশতে হয়)
- হোম বেসড ফ্রিল্যান্সিং
পর্দা না করে চাকরি করা ইসলামী দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। পিতামাতার ইচ্ছা পূরণ করতে গিয়ে আল্লাহর ফরজ বিধান লঙ্ঘন করা উচিত নয়। কুরআনে বলা হয়েছে: "তোমরা ঘরে অবস্থান করো এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না।" (সূরা আহযাব: ৩৩)
৩. আপনার করণীয়:
- পিতামাতার সাথে ভালোভাবে বসে ইসলামী পর্দা সম্পর্কে আলোচনা করুন। তাদের বোঝান যে আপনি তাদের ইচ্ছাকে মূল্য দেন, তবে এমন চাকরি করুন যা পর্দার প্রতি সহায়ক হয়।
- বিসিএসের পরিবর্তে নারী উপযোগী অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতি নিন, যেমন: নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, ব্যাংকের নারী পার্সোনাল অফিসার (মহিলা শাখা), ইসলামী ব্যাংকের নারী শাখা, ফ্রিল্যান্সিং (যেখানে পর্দা সুরক্ষিত থাকে) ইত্যাদি। এগুলো পিতামাতাকেও প্রস্তাব দিতে পারেন।
- আপনি বর্তমানে পর্দা করছেন এবং মাহরাম নিয়ম মেনে চলতে পারেননি, এটি ধাপে ধাপে শিখুন। চাকরি জীবনে পর্দা ও মাহরাম নিয়ম পালন করা আবশ্যক।
৪. ফতোয়ার সারমর্ম:
আপনার জন্য সরাসরি বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত হবে না, যদি তাতে পর্দা লঙ্ঘন করতে হয় (তবে কিছু ইসলামী স্কলারগন এক্ষেত্রে অনুমতিও প্রদান করেছেন)। বরং আপনি পর্দা সুরক্ষিত রেখে চাকরি করার চেষ্টা করুন। আপনার বাবা-মা আপনার খুশি চান, তাই আপনি যদি পর্দার গুরুত্ব ও শরিয়তের বিধান মেনে চলার মাধ্যমে সম্মানজনক চাকরি পান, তাহলে তারাও খুশি হবেন ইনশাআল্লাহ। পর্দা বজায় রেখে ভালো চাকরি করা সম্ভব, সেটিই সর্বোত্তম পথ।
উল্লেখিত কিতাবাদি:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন), ৯/৩৪২
- সূরা আহযাব: ৩৩
- ফতোয়ায়ে উসমানি, ২/২৭৫
- বেহেশতি জেওর, ১/২৫০ (আশরাফ আলী থানভী)
- ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/২৯৪
- হেদায়া (ফুকাহা গ্রন্থ), ৪/৫১
আল্লাহ তায়ালা আপনাকে পর্দার উপর অবিচল রাখুন এবং আপনার পিতামাতার জন্য উত্তম বিনিময় দান করুন। (আমিন)