হায়েযের সময়সীমা ও ইস্তিহাযার বিধান।

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 2378
Questioner: Mariya Rahman
Question Asked: 06 Jul 2026, 09:18 AM
Reviewed & Published: 06 Jul 2026, 09:25 AM
Views: 64
Tokens: 5,157
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

الســــــلام  عليــــــكم ورحمة الله وبركاته
নারী সাহাবা(র:) তাঁরা পবিত্রতাকে প্রাধান্য দিয়ে মাসয়ালা জানতে লজ্জাবোধ করতেন না আলহামদুলিল্লাহ্ সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ্
উস্তায আমার প্রশ্ন হচ্ছে নরমালি আমার হায়েয ৩৪/৩৫ দিন পর হয়, তো এইবার ৩৮দিন হয়ে যাওয়ার পরেও হায়েয হচ্ছিল না গতকাল ৩৯ দিনের দিন জোহরের ওয়াক্তে হালকা হলদে রঙের স্রাব দেখে আমি হায়েয ভেবে বাকি সালাত কন্টিনিউ করি নি, অথচ ওই সামান্য হলদে স্রাব দেখার পর আবারও স্রাব সাদা ছিল, আর গতকালের পর থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনো হায়েযের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না, এ অবস্থায় আমার করনীয় কী? আমি কি গতকাল থেকে যেই সালাত গুলো পড়ি নি সেগুলো কাজা আদায় করে ফেলবো নাকি আরও একটু অপেক্ষা করবো?

Answer

জবাব

وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ

প্রশ্নের উত্তর: আপনার অবস্থা বিশ্লেষণ করে হানাফি ফিকহের আলোকে বলা যাচ্ছে—

মাসআলার মূলনীতি:

হানাফি মাযহাবে হায়েযের ন্যূনতম সময় ৩ দিন (৭২ ঘণ্টা) এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন (২৪০ ঘণ্টা)। আর দুই হায়েযের মধ্যকার পবিত্রতার (তুহর) ন্যূনতম সময় ১৫ দিন। আপনার স্বাভাবিক চক্র ৩৪/৩৫ দিন হওয়ায় এটি বৈধ। কিন্তু আপনি গতকাল শুধুমাত্র একবার হালকা হলদে স্রাব দেখেছেন, যা পরে সাদা হয়ে গেছে এবং আজ পর্যন্ত কোনো রক্ত/হলদে স্রাব আসেনি। এই এক দিনের (২৪ ঘণ্টার কম) স্রাব হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। কেননা হানাফি মতে, কমপক্ষে ৩ দিন একনাগাড়ে রক্ত বা হলদে/মাঠা স্রাব না আসলে সেটাকে হায়েয ধরা যায় না। (সূত্র: রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৬; বাহেশতি জেওর, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪২-৪৪)

আপনার করণীয়:

আপনি এখন থেকে নামাজ আদায় করুন। যদি ৩য় দিনে আবারো ব্লিডিং হয় বা ৩ দিনের পর ১০ দিনের আগেই আবারো ব্লিডিং হয়,সেক্ষেত্রে পুরো এই দিনগুলিকে হায়েজ ধরবেন। ব্লাড আসা মাত্র নামাজ অফ করে দিবেন।

তবে যদি আপনার আর কোনো ব্লিডিং না হয়,সেক্ষেত্রে ৩য় দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর দিন হতে নামাজ আদায় করুন, এমতাবস্থায় এই কয়দিনের অনাদায়ী সব সালাত (প্রত্যেক ওয়াক্তের) কাজা করে ফেলুন।**। (সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/১০২; ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/৩৭৪)

সতর্কতা:

  • যদি আপনার হায়েয সাধারণত ৩ দিন বা তার বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে এই একবারের স্রাব হায়েয নয়। যদি আপনার হায়েয কখনো ২ দিনেও হয় (যা হানাফি মতে নাজায়েজ), তবুও সেটা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে না। তবে আপনি পবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করবেন।
  • ভবিষ্যতে যদি কোনো স্রাব টানা ৩ দিন পর্যন্ত আসে, তাহলে সেটা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে এবং তখন সালাত ছেড়ে দেবেন। আর বর্তমানে আপনার অবস্থা সম্পূর্ণ পবিত্র।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনি এখন থেকে নামাজ আদায় করুন। যদি ৩য় দিনে আবারো ব্লিডিং হয় বা ৩ দিনের পর ১০ দিনের আগেই আবারো ব্লিডিং হয়,সেক্ষেত্রে পুরো এই দিনগুলিকে হায়েজ ধরবেন। ব্লাড আসা মাত্র নামাজ অফ করে দিবেন।

তবে যদি আপনার আর কোনো ব্লিডিং না হয়,সেক্ষেত্রে ৩য় দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে তারপর দিন হতে নামাজ আদায় করুন, এমতাবস্থায় এই কয়দিনের অনাদায়ী সব সালাত (প্রত্যেক ওয়াক্তের) কাজা করে ফেলুন।**

আল্লাহ তাআলা আপনার ইবাদত কবুল করুন এবং আপনার জন্য সহজ করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.