স্বপ্নে মৃত ব্যক্তির সাথে খাবার খাওয়ার অর্থ ও ব্যাখ্যা।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
স্বপ্নে মৃত ব্যক্তির সাথে খাবার খেতে দেখলে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি ইঙ্গিত হতে পারে। হানাফী ফিকাহ ও তাফসীরের কিতাব অনুযায়ী, স্বপ্ন সাধারণত তিন প্রকার: (১) সত্য স্বপ্ন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে, (২) মনের কল্পনা বা শয়তানের প্ররোচনা, (৩) দৈনন্দিন চিন্তার প্রতিফলন।
স্বপ্নে মৃতের সাথে খাবার খাওয়া মৃত ব্যক্তির অবস্থা বা স্বপ্নদ্রষ্টার জীবনের কোনো ঘটনার প্রতীক হতে পারে। তবে একক স্বপ্নের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ইসলামে সমর্থনযোগ্য নয়। উলামায়ে কেরাম (যেমন ইবনে আবেদীন, রদ্দুল মুহতার; ইমাম তাহাবী) বলেছেন, স্বপ্নের ব্যাখ্যা কেবলমাত্র যোগ্য ও আল্লাহওয়ালা আলেমদের দ্বারাই করা উচিত, এবং সেটা শরিয়তের কোনো বিধান পরিবর্তন করে না।
হানাফী কিতাবের রেফারেন্স:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন): স্বপ্নের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, স্বপ্ন যদি কল্যাণকর হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর অকল্যাণকর হলে শয়তানের পক্ষ থেকে। মৃতের সাথে খাবার খাওয়ার স্বপ্ন সাধারণত মৃতের জন্য দান-সাদাকাহ বা ইসালে সওয়াবের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তকী উসমানী): তিনি উল্লেখ করেছেন, মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে দেখা এবং তার সাথে কোনো কার্যকলাপ করা মৃতের অবস্থা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় না; বরং এটি স্বপ্নদ্রষ্টার নিজের অবস্থার প্রতিফলন হতে পারে।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): এই কিতাবে বলা হয়েছে, যদি কেউ মৃত ব্যক্তিকে স্বপ্নে ভালো অবস্থায় দেখে, তাহলে তা মৃতের জন্য কল্যাণের ইঙ্গিত। খারাপ অবস্থায় দেখলে দান-সাদাকাহ ও ইস্তিগফারের তাগিদ।
- বাহিশ্তি জেওয়ার (মাওলানা থানভী): স্বপ্নের ব্যাপারে সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, ভালো স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে এবং খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে থুথু ফেলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে।
- কিতাবুল আথার (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ): স্বপ্নের গুরুত্ব ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে হাদীস বর্ণিত আছে, তবে তা শরিয়তের মূল ভিত্তি নয়।
সারসংক্ষেপ:
- স্বপ্নে মৃতের সাথে খাবার খাওয়া কোনো সুস্পষ্ট শুভ বা অশুভ লক্ষণ নয়।
- মৃত ব্যক্তির আত্মার জন্য দান-সাদাকাহ, কুরআন তিলাওয়াত ও ইসালে সওয়াব করা উচিত।
- স্বপ্ন দেখার পর তা নিয়ে ভীতি বা আশঙ্কা না করে আল্লাহর কাছে দু‘আ করা উচিত।
- কোনো অবস্থাতেই স্বপ্নের ভিত্তিতে দ্বীনি ফরজ বা ওয়াজিব পরিবর্তন করা জায়েজ নয়।