গোসলখানায় মূত্রত্যাগের পর ৩-৭ বার পানি দিয়ে ধৌত করলে ঐ জায়গায় ওযু করা জায়েয কিনা?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
بسم اللہ الرحمٰن الرحیم
উত্তর: আপনার প্রশ্নের সারমর্ম হলো—যে স্থানে কেউ মূত্রত্যাগ করেছে এবং উক্ত স্থানটি তিন থেকে সাতবার পানি দিয়ে ধোয়ার পর পরিষ্কার করা হয়েছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে ওযু করা কি জায়েয? হানাফি মাযহাবের আলোকে এর বিস্তারিত উত্তর নিম্নরূপ:
মূত্র হলো নাজাসাতে গালিজা (শক্ত নাপাকি)। এর পবিত্রতার শর্ত হলো—অবশিষ্ট কোনো রং, গন্ধ ও স্বাদ দূর হয়ে যাওয়া এবং তা চলে যাওয়ার পরিমাণ পানি ঢেলে বা ধুয়ে ফেলা। ভূমি বা মেঝে পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা (যেমন ৩ বার বা ৭ বার) ফরজ নয়; বরং যতবার ধুলে নাপাকির চিহ্ন সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়, ততবার ধৌত করাই যথেষ্ট। তবে উত্তম হলো ক্বুল্লা বা পাত্রের ন্যায় মাটিও ৩ বার ধুয়ে নেওয়া। (রদ্দুল মুহতার, ১/২১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/২৯)
অতএব, আপনি যদি উক্ত স্থানে মূত্রত্যাগের পর এমনভাবে ধৌত করেন যে তার কোনো নিশানা (রং, গন্ধ, স্বাদ) অবশিষ্ট নেই, তাহলে সে স্থান পবিত্র গণ্য হবে। সেখানে দাঁড়িয়ে বা বসে ওযু করা জায়েয। তিন থেকে সাতবার ধৌত করলে সাধারণত তা পরিষ্কার হয়ে যায়—এটাই যথেষ্ট।
তবে একটি বিষয় লক্ষণীয়: ধোয়ার সময় যে পানি নাপাকি বহন করে ফেলা হয়, সেই পানি (নিজে) নাপাক হলেও মেঝে শুকিয়ে গেলে কিংবা নাপাক পানি সরিয়ে ফেললে মেঝে পবিত্রই থাকে। আর ওযুর সময় যদি আপনার পা বা কাপড় ওই ভেজা স্থানে লাগে, তবে তা পাক কিনা বিবেচনা করতে হবে। যদি স্থান শুষ্ক হয় বা নাপাক পানি সরানো থাকে, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। যদি সেখানে এখনও নাপাক পানির ভেজা থাকে, তাহলে সেটি থেকে পায়ে বা কাপড়ে নাপাকি লেগে যেতে পারে—এমতাবস্থায় সতর্কতা হিসেবে শুকনো জায়গায় ওযু করা বা পা ফেলার পূর্বে স্থানটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া ভালো। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/১৩৪; বেহেশতি জেওর, ১/২১)
সারসংক্ষেপ:
- মূত্রত্যাগের পর মেঝে ভালোভাবে ধৌত করলে (যাতে কোনো চিহ্ন না থাকে) সেই স্থান পবিত্র।
- ওযু করা সম্পূর্ণ জায়েয।
- নির্দিষ্ট সংখ্যায় (৩-৭ বার) ধোয়া জরুরি নয়, অপবিত্রতা দূর হওয়াই শর্ত।
- ধৌত করার পর যদি স্থান শুকিয়ে যায়, তাহলে আর কোনো উদ্বেগ নেই।
সূত্র:
- রদ্দুল মুহতার (১/২১৬-২১৭): “মাটি থেকে নাপাকি দূর করার জন্য রং, গন্ধ ও স্বাদ চলে যাওয়া পর্যন্ত পানি ফেলা ফরজ। তিনবার ধোয়া সুন্নত।”
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৯): “যদি জমিন নাপাক হয়, তাহলে পানি ঢেলে অথবা বৃষ্টিতে ধুয়ে গেলে পাক হয়।”
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/১৩৪): “মেঝে নাপাক হলে তাতে পানি ঢেলে সাফ করলে পাক হয়ে যায়।”
উপসংহার: আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে (৩-৭ বার পানি দিয়ে ধোয়া) মূত্রের স্থানটি পবিত্র হয়ে গেছে বলে মনে করলে সেখানে ওযু করা জায়েয।
واللہ تعالیٰ أعلم بالصواب