”এত কষ্ট সহ্য করে কি জন্য থাকতেছে ঐ স্বামীর ঘর”, কারো সম্পর্কে এমন মন্তব্য করলে কি নিজ সংসারে কোনো সমস্যা হবে?
Business and Job · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—অর্থাৎ, একজন মহিলা অন্য কোনো নারীর বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে সাধারণভাবে মন্তব্য করা যেমন, “এত কষ্ট সহ্য করে কেন থাকছে?”, “ওর বউ কীভাবে ওর সাথে থাকে, ও তো খুব খারাপ মানুষ”—এ ধরনের কথা বলার কারণে, যে মহিলাকে স্বামী তালাকের ক্ষমতা দিয়েছেন (তালাক-ই-তাফউইজ), তার ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না। কেননা তালাক-ই-তাফউইজ কার্যকর হওয়ার জন্য স্পষ্ট ও সরাসরি তালাকের ইচ্ছা ও উচ্চারণ প্রয়োজন। এখানে বক্তা নিজের প্রতি ইঙ্গিত করেননি, বরং তৃতীয় পক্ষের কথা বলেছেন। তাই এতে কোনো সমস্যা নেই।
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
তালাক-ই-তাফউইজের ক্ষেত্রে স্ত্রীকে ক্ষমতা দেওয়া হয় যে, সে নির্দিষ্ট শর্তে বা ইচ্ছামতো নিজেকে তালাক দিতে পারে। কিন্তু এটি কার্যকর হওয়ার জন্য স্ত্রীকে অবশ্যই তালাকের সুস্পষ্ট শব্দ (যেমন: “আমি তালাক দিলাম”, “আমি নিজেকে তালাক দিলাম”) বলতে হবে অথবা এমন কাজ করতে হবে যা তালাক হিসেবে গণ্য (যেমন: স্বামীর প্রতি সম্পূর্ণ সম্পর্কচ্ছেদের ইঙ্গিত)। সাধারণ আলোচনা, অভিযোগ বা অন্যের সমালোচনা তালাকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- রদ্দুল মুহতারে (৫/৩৯৫): ‘তালাক-ই-তাফউইজের ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি তালাকের শব্দ না বলে বা স্পষ্ট ইঙ্গিত না করে, তবে তালাক পতিত হয় না।’
- ফাতাওয়া উসমানি (১/৫৪৮-৫৪৯): ‘তালাকের ক্ষমতা প্রাপ্তা স্ত্রী যদি নিজের সম্পর্কে তালাকের নিয়ত না করে শুধু অন্যের কথা বলেন, তাহলে তার তালাক হয় না।’
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৫০): ‘তালাকের শব্দের ন্যায় স্পষ্ট ইচ্ছা ও উচ্চারণ ছাড়া সাধারণ কথাবার্তায় তালাক পতিত হয় না।’
- আল-হিদায়া (১/২৮১): ‘তালাকের ক্ষমতা প্রাপ্তা স্ত্রী যদি তালাকের ইচ্ছা না করে শুধু গালি দেয় বা কথা বলে, তাহলে তা তালাক নয়।’
কুরআন ও হাদিসের আলোকে:
- কুরআনে বলা হয়েছে: “তালাক দুইবার; অতঃপর হয় সংরক্ষণ করবে নিয়মানুসারে, না হয় মুক্তি দেবে সদয়ভাবে।” (সূরা আল-বাকারা, ২:২২৯) – এটি তালাকের সুস্পষ্ট ঘোষণার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
- হাদিসে এসেছে: “যে ব্যক্তি তালাক দেয় না অথচ তালাকের কথা বলে, তার তালাক কার্যকর হবে না।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, ২০৪৬) – এখানে স্পষ্ট ইচ্ছা ও উচ্চারণের শর্ত আরোপিত।
উপসংহার:
উক্ত মহিলার বক্তব্য তালাকের নিয়ত বা ইঙ্গিত বহন করে না, বরং এটি সাধারণ অভিযোগমাত্র। তাই তার স্বামী প্রদত্ত তালাকের ক্ষমতার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে মুসলিম হিসেবে অন্যের সমালোচনা ও কষ্টদায়ক কথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত, কারণ এটি গীবত ও অহেতুক ঝগড়ার কারণ হতে পারে।