ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ফ্ল্যাটমেটের সাথে বিরোধে জিনিসপত্র নষ্ট করা ও প্রতিশোধ নেওয়ার বিধান জানতে চাই?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
আমাদের ফ্লাটমেট, আমাদেরকে হটাৎ তুচ্ছ কারনে কোনো ওয়ার্নিং ছাড়া (আমি+আমার রুমমেট) তাদের সুবিধাজনক মত aug -sept এ বাসা ছাড়তে বলেছিল। আমাদের এমন হেনস্ত করার জন্য আমরা তাদের ১৯ জুন মাসে বললাম " আমরা গেলে জুলাইতেই চলে যাব, আমাদের সুবিধাজনক সময়ে আমরা যাব"। aug-sept এ আমাদের পরীক্ষা, তাই july আমাদের সুবিধাজনক সময়। তারা মেনেও গেল, বলেছিল যদি আমরা বাসা নাহ পাই তারাও আমাদের এক মুহুর্তও ১ জুলাইতে রাখবে নাহ। আমরাও সেই রিস্ক নিলাম।
এখন তারা যখন রুমমেট পায় নি, এখন তারা নিয়ম অনুযায়ী আমার রুমমেট এর সার্ভিস চার্জ, যেটা ফেরত দেবার কথা তা দিচ্ছে নাহ, বলছে... আমরা রুম এ মেয়ে উঠাতে পারি নি জুলাই মাসের জন্য, তাই এই সার্ভিস চার্জ তারা দিবে নাহ, তারা মেয়ে উঠাতে পারে নি, সেটা তাদের ব্যার্থতা --এটা র জন্য তার (আমার রুমমেট) টাকা কেন দিবে নাহ, আর আমরা বাসা নাহ পেলে কি তারা আমাদের রাখতো। অবশ্যই নাহ।
তাই আমরা বাড়িওয়ালাকে এনে কথা বলালাম, তিনি সুবিধাবাদী, তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বললো, অথচ আমাদের অভিবাবককে বলেছিল, তিনি তাদের অনুরোধ করবে যে, চার্জ যেন দিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তিতে তিনি তাদের হয়ে কথা বললো।
আমরা তাদের মতো এমন ঝগড়া করতে পারি নাহ, আমরা তেমন ঝগড়া নি,সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, সেই টাকার সমপরিমান জিনিস নষ্ট করে দিয়ে আসবো, আমাদের হেনস্ত করেছে, তাদের শিক্ষা দেয়া উচিত। জুলুম সহ্য করবো নাহ, আমি আমার রুমমেটের হয়ে তার পক্ষ হয়ে, কিছু সামগ্রী নষ্ট করেছিলাম,তুচ্ছ... যেমন : পানির ফিল্টার ফুটো, ওয়াইফাই তার কেটে দেয়া।
এখন আবার চিন্তা করছি, কাজগুলো ,এমন প্রতিবাদ এর ব্যাপারে ইসলাম কি বলে?
আমরা কি ভুল করেছি?
আমি আমার রুমমেটের র হয়ে কাজ করেছি, আমিও তাহলে এসবের অন্তর্ভুক্ত। এখন আমি কি ঠিক করেছি? নিজের ব্যাপার হলে মাফ করে দিতাম,রুমমেট (অন্যজন) এর হক মারছে তাই আমি এসব পদক্ষেপ নিয়েছিলাম।
এখন আমার যদি ভুলও হয়, কোন দিক দিয়ে, কেন ভুল হলো?
হলেও এর সমাধান কি?
আল্লাহর কাছে যা হয়েছে সেই ব্যাপারে লজ্জিত আছি, যদিও জানি নাহ ভুল করেছি কিনা।
মাফ চাওয়া লাগবে তাদের কাছে? ক্ষতিপূরণও কি দেয়া জরুরি???
আর সেটা কি তাদের দাবি অনুযায়ী নাকি আমার সামর্থ অনুযায়ী?
আর তাদের জুলুম এর এই অভিজ্ঞতা আমরা আমাদের ভার্সিটির টুলেট গ্রুপে শেয়ার করেছিলাম, প্রমান সহ (যেমন: রাতের ১১/১২ টায় ছেলে আনে ফ্লাটে,হুটহাট ফ্লাট ছেড়ে দিতে বলে, সার্ভিস চার্জ দিলো নাহ) সচেতন পোস্ট, যেন এসব ব্যাপার নিয়ে সচেতন থাকে। আমরা বাড়ির ছবি, তাদের ২ জন জুলুমকারীর ফেসবুক আইডি শুধু মেনশন করে দিয়েছিলাম কমেন্টে ।
এটাতে কি কোনো ভুল হয়েছে কি?
আর পরবর্তিতে কোনো এক অজ্ঞাত কেউ আমাদের পোস্ট কপি করে, তাদের (জুলুমকারী ফ্লাটম্যাটদের) ছবি সহ পোস্ট কয়েক জায়গায় করেছিল। এখন আমরা এমন আমাদের ফ্লাটমেট দের ছবি সহ পোস্ট করি নি। এই ব্যাপারের পর আমাদের পোস্টো ডিলিট করে দিয়েছিলাম, এমন সরাসরি আক্রমণ করা আমার কাছে ইতিবাচক লাগছিল নাহ, এখন আমাদের কি এতে গুনাহ হবে? কেন হবে, আমরা তোহ করিনি এমন সরাসরি, হলে করনীয় কি?
অনুগ্রহপূর্বক উত্তর শীগ্রই দিবেন,বেশ অস্থিরতার মাঝে আছি।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রথমেই বলে নিচ্ছি, আপনার অবস্থা বুঝতে পারছি। প্রতারণা ও জুলুমের শিকার হওয়া সত্যিই কষ্টের। কিন্তু ইসলাম আমাদের শেখায়, অন্যায়ের জবাব অন্যায় দিয়ে নয় বরং ন্যায় ও ধৈর্যের সাথে দেওয়া। আসুন আপনার প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের কিতাবের আলোকে দিচ্ছি।
১. ফ্ল্যাটমেটদের জুলুম ও আপনার প্রতিক্রিয়া (জিনিসপত্র নষ্ট করা)
প্রশ্ন: ফ্ল্যাটমেটদের অন্যায় আচরণের জবাবে আপনি ও আপনার রুমমেট পানি ফিল্টার ফুটো করে দেওয়া এবং ওয়াইফাই তার কেটে দেওয়াসহ কিছু জিনিস নষ্ট করেছেন। ইসলাম এ সম্পর্কে কী বলে?
উত্তর:
ইসলামে কারো সম্পদ ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হারাম। এমনকি কেউ আপনার প্রতি জুলুম করলেও আপনি তার সম্পদ নষ্ট করে প্রতিশোধ নিতে পারবেন না। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَلَا تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
"আর সীমালংঘন করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের ভালোবাসেন না।" (সূরা বাকারা: ১৯০)
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسِهِ
"কোনো মুসলিমের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া হালাল নয়।" (বায়হাকী, শুআবুল ইমান)
হানাফি ফিকহের বিখ্যাত কিতাব রদ্দুল মুহতার (৬/৪৭২) এ বলা হয়েছে:
"যদি কেউ অন্যায়ভাবে কারো মাল নষ্ট করে, তবে সে তার মূল্য বা ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য, এবং এটি ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত, উভয় অবস্থায় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।"
আপনার কাজটি দ্বিগুণ হারাম:
- প্রথমত, আপনি অন্যের সম্পদ নষ্ট করেছেন।
- দ্বিতীয়ত, আপনি নিজেই সেটি করেছেন প্রতিশোধ হিসেবে, যা ইসলাম অনুমোদন করে না।
সুতরাং, আপনি ও আপনার রুমমেট উভয়েই এখানে ভুল করেছেন। আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফ্ল্যাটমেটদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের নষ্ট করা জিনিসের মূল্য ফেরত দিতে হবে।
২. ক্ষমা ও ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: আমাদের কি তাদের কাছে মাফ চাওয়া লাগবে? ক্ষতিপূরণ দেওয়া জরুরি? সেটা তাদের দাবি অনুযায়ী নাকি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী?
উত্তর:
জিনিসপত্র নষ্ট করলে তার মূল্য ফেরত দেওয়া ওয়াজিব। এটি আল্লাহ ও বান্দার উভয়ের হক। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হবে নষ্ট করা জিনিসের বাজারমূল্য, তাদের দাবি বা আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী নয়। যদি আপনি নিশ্চিত না হন, তাহলে ফিল্টার ও ওয়াইফাই তারের বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণ করে তা তাদের দিয়ে দিন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: ফ্ল্যাটমেটরা আপনার রুমমেটের সার্ভিস চার্জ ফেরত দিচ্ছে না—এটি ভিন্ন একটি বিষয়। আল্লাহর বিধান হলো, প্রত্যেকের হক আদায় করাই বাধ্যতামূলক। আপনার রুমমেটের পাওনা সার্ভিস চার্জ আদায়ের জন্য আপনি তাদের বিরুদ্ধে বৈধ উপায়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন; সেটা বাড়িওয়ালার মাধ্যমে বা আইনি সাহায্যে। কিন্তু তার জবাবে জিনিস নষ্ট করা বৈধ নয়। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণের ব্যাপারটি আলাদা; আপনার জিনিস নষ্ট করার জন্য আপনাকে ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে, আর তাদের সার্ভিস চার্জ দেওয়ার জন্য তাদেরও বাধ্য করতে পারেন (বৈধ উপায়ে)।
হাদিস:
أَدِّ الْأَمَانَةَ إِلَى مَنِ ائْتَمَنَكَ، وَلَا تَخُنْ مَنْ خَانَكَ
"যে তোমার কাছে আমানত রেখেছে তার আমানত ফিরিয়ে দাও, আর যে তোমার সাথে খিয়ানত করেছে তার সাথে তুমি খিয়ানত করো না।" (তিরমিযী: ১২৬৪)
তাই তাদের সার্ভিস চার্জ না দেওয়া অন্যায়, কিন্তু জিনিস নষ্ট করে প্রতিশোধ নেওয়াও অন্যায়। দুই অন্যায়ের সমাধান হলো:
- আপনারা নষ্ট জিনিসের মূল্য ফেরত দিন।
- তারা সার্ভিস চার্জ ফেরত দিন।
একটি অপরটির কাফফারা হতে পারে না।
৩. অনলাইনে পোস্ট শেয়ার করা
প্রশ্ন: আমরা তাদের বিরুদ্ধে অভিজ্ঞতা ভার্সিটি গ্রুপে শেয়ার করেছিলাম, প্রমাণসহ (রাতে ছেলে আনা, হুটহাট ফ্লাট ছাড়তে বলা, সার্ভিস চার্জ না দেওয়া)। পরে কেউ আমাদের পোস্ট কপি করে তাদের ছবিসহ আরও জায়গায় পোস্ট করে। আমরা নিজেরা ছবি পোস্ট করিনি, শুধু ফেসবুক আইডি মেনশন করেছিলাম। এতে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
ইসলামে কারো দোষ প্রকাশ করে তাকে লজ্জা দেওয়া সাধারণত নিন্দনীয়, তবে কিছু শর্তে তা জায়েজ হয়:
- যদি উদ্দেশ্য হয় অন্যায় প্রতিরোধ করা বা মানুষকে সতর্ক করা।
- যদি বলা হয় সম্পূর্ণ সত্য।
- যদি অন্যায়টি প্রকাশযোগ্য হয় এবং সাধারণ কল্যাণের জন্য প্রয়োজন হয়।
ফতোয়া উসমানী (২/৫৩৬) তে এসেছে:
"কোনো জালেমের জুলুমের বিবরণ যদি শুধু সতর্কতার জন্য বর্ণনা করা হয় এবং তাতে পরিমিত ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।"
আপনার পোস্টটি যদি সত্য হয় এবং শুধু অন্য ফ্লাটমেটদের সতর্ক করার জন্য হয়, তবে আপনি এতটুকু করতে পারতেন। তবে ফেসবুক আইডি মেনশন করা অবান্তর নয়, বিশেষ করে যদি তা সঠিক পরিচয় দেওয়ার জন্য হয়। কিন্তু ছবি পোস্ট করাটা (যদিও আপনারা করেননি) আরও আপত্তিকর, কারণ এতে ব্যক্তির সম্মানহানি হতে পারে।
এখন দেখা যাক, আপনাদের পোস্টটি কি শুধু সতর্কতার জন্য ছিল, নাকি তাদের লাঞ্ছিত করার জন্য? আপনি নিজেই লিখেছেন, "সচেতন পোস্ট, যেন এসব ব্যাপার নিয়ে সচেতন থাকে।" সেটি যদি আপনার উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি জায়েজ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে এরপর যখন দেখলেন কেউ তা ছবি সহ আরও ছড়িয়ে দিয়েছে, তখন আপনারা নিজের পোস্ট ডিলিট করে দিয়েছেন। এটি ভালো কাজ করেছেন, কারণ সেটি আর সতর্কতার সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি আক্রমণে পরিণত হয়েছে।
তবে লক্ষণীয়: আপনারা যদি পোস্টে বাড়ির ছবি ও ফেসবুক আইডি দেন, তবে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গের শামিল হতে পারে। সুতরাং, এই কাজটি থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল। তবে এখন তাওবা করলেই আল্লাহ মাফ করবেন, ইনশাআল্লাহ।
ইমাম কাসানী, বাদায়েউস সানায়ে’ (৭/২২৮)-এ উল্লেখ করেছেন:
"যদি কারো অপরাধ প্রকাশ করা ফিতনার কারণ হয়, তবে তা নিষিদ্ধ। আর যদি উপকারের জন্য হয়, তবে তা জায়েজ।"
আপনার পোস্টের পেছনে যেহেতু সতর্কতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার নেক নিয়ত ছিল, তাই আপনি গুনাহগার হবেন না। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিক্রিয়ায় নিজেরাও অন্যায় করে ফেলেছেন জিনিস নষ্ট করে—সেই বিষয়টি বড়। তাই অনলাইন পোস্টের চেয়ে জিনিস নষ্ট করার কাজটি বেশি গুরুতর।
৪. সার্বিক সমাধান ও তাওবা
আপনি বলেছেন, "আল্লাহর কাছে যা হয়েছে সেই ব্যাপারে লজ্জিত আছি।" এটি একটি নেক আলামত। এখন করতে হবে:
১. তাওবা করুন: আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান। নষ্ট জিনিসের মূল্য নির্ধারণ করে তা ফ্ল্যাটমেটদের ফেরত দেওয়ার সংকল্প করুন।
২. ক্ষমা চান: ফ্ল্যাটমেটদের কাছে গিয়ে বা ফোনে বলুন, "আমি আমার রাগের মাথায় আপনার ফিল্টার ও ওয়াইফাই তার নষ্ট করেছি। আমি খুবই লজ্জিত। দয়া করে আমাকে মাফ করুন। আমি তার মূল্য দিতে চাই।"
৩. ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করুন: ফিল্টারের আনুমানিক মূল্য (যেমন ৫০০-১০০০ টাকা) এবং তারের মূল্য (২০০-৩০০ টাকা) হিসাব করে তাদের দিন।
৪. সার্ভিস চার্জের বিষয়: আপনার রুমমেট যদি তার পাওনা সার্ভিস চার্জ আদায় করতে চান, তাহলে আইনি বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে তা করার চেষ্টা করুন। জিনিস নষ্ট করে তার প্রতিশোধ নেওয়া আর নয়।
৫. অনলাইন পোস্টের ব্যাপারে: আপনি ইতিমধ্যেই পোস্ট ডিলিট করেছেন, ভালো করেছেন। আল্লাহর কাছে তাওবা করুন এবং ভবিষ্যতে কারো ছবি ও আইডি প্রকাশ থেকে বিরত থাকুন।
হাদিস:
التَّائِبُ مِنَ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ
"গুনাহ থেকে তাওবাকারী এমন, যার কোনো গুনাহ নেই।" (ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)
আপনি যদি আন্তরিকভাবে ফিরে আসেন, আল্লাহ অবশ্যই মাফ করবেন। আপনার লজ্জা ও অস্থিরতা থেকেই বুঝতে পারছেন, আপনার অন্তর ভালো। তাই আশা রাখুন, আল্লাহ আপনার তাওবা কবুল করবেন।
সারসংক্ষেপ:
- ফ্ল্যাটমেটদের জুলুম অন্যায় হলেও, জিনিস নষ্ট করে প্রতিশোধ নেওয়া অবৈধ।
- আপনাকে সে জিনিসের মূল্য ফেরত দিতে হবে এবং তাদের কাছে মাফ চাইতে হবে।
- সার্ভিস চার্জের বিষয়টি পৃথক; তা বৈধ পথে আদায়ের চেষ্টা করুন।
- অনলাইন পোস্টটি সতর্কতার জন্য করলে জায়েজ, তবে ছবি প্রকাশ ঠিক নয়। আপনি পোস্ট মুছে ফেলায় ভালো করেছেন।
- এখন তাওবা করে সামনে এগিয়ে যান, আল্লাহ ক্ষমাশীল।
উপদেশ: ভবিষ্যতে কারো সাথে বিরোধে ধৈর্য ধরবেন। প্রথমে সালিশ (মধ্যস্থতা) করার চেষ্টা করুন। যদি ব্যর্থ হন, তাহলে আইনি সাহায্য নিন। কিন্তু কখনো নিজে অন্যায় করবেন না।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথ দেখান। আমীন।
উল্লিখিত গ্রন্থ:
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন)
- ফতোয়া উসমানী (মুফতি তাকি উসমানী)
- বাদায়েউস সানায়ে (ইমাম কাসানী)
- আল-হিদায়া (মারগিনানী)
- সহীহ বুখারী ও মুসলিম