যেখানে কুরআন ও হাদীস রাখা ছিল এবং পরবর্তীতে রাখা হবে, সেখানে পা রাখার বিধান?
Miscellaneous Fiqh · Ahle Hadith / Salafi
Question
তবে জেনারেল বিষয়ের ক্লাসের সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকটি মেঝেতে না বসে চেয়ারে বসেন এবং তাঁর সামনে থাকা ঐ বেঞ্চটির ওপর পা রাখেন। উল্লেখ্য যে, ওই সময়ে বেঞ্চটির ওপর কোনো কিতাব বা অন্য কিছু থাকে না। অর্থাৎ, শিক্ষক চেয়ারে বসে তাঁর পায়ের কাছে থাকা খালি বেঞ্চটির ওপর পা তুলে রাখেন।
প্রশ্ন হচ্ছে: যে বেঞ্চটিতে একটু আগেও পবিত্র কুরআন বা হাদীসের কিতাব রাখা ছিল এবং পরবর্তীতে আবারও রাখা হবে, (সাময়িকভাবে খালি থাকা অবস্থায়) সেখানে পা রাখা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?
১. এটা স্বাভাবিক
২. জায়েজ
৩. না-জায়েজ
৪. অপছন্দনীয়
৫. গুনাহের কাজ
৬. অন্য কিছু?
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—যে বেঞ্চটি নিয়মিত পবিত্র কুরআন ও হাদীসের কিতাব রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং পুনরায় রাখা হবে—সেখানে পা রাখা না-জায়েজ (নিষিদ্ধ) ও গুনাহের কাজ। এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অসম্মানের শামিল।
দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. কুরআনের প্রতি সম্মানের আদেশ:
আল্লাহ বলেন,
"যে ব্যক্তি আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সম্মান করে, তা তো তার অন্তরের তাকওয়ার ফল।" (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)
পবিত্র কুরআন ও হাদীসের কিতাব আল্লাহর নিদর্শন। যে বেঞ্চটি তাদের ধারণের জন্য নির্ধারিত, সেটিকে সম্মানের স্থান হিসেবে গণ্য করতে হবে। পায়ে রাখা তার প্রতি অসম্মান।
২. সাহাবা ও সালাফের আমল:
সাহাবায়ে কেরাম ও পূর্ববর্তী সালাফগণ কুরআন মাজীদকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতেন। তারা কুরআনের কপি বা তাফসীরের বই রাখার স্থানকে সম্মান করতেন এবং সেখানে পা রাখা বা অন্য কোনো অপমানজনক কাজ থেকে বিরত থাকতেন। (ইবনু আবী শাইবা, মুসান্নাফ; বাইহাকী, শু‘আবুল ঈমান)
৩. শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যার মত:
ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন, "কুরআন বা হাদীসের কিতাব রাখার স্থানকে সম্মান করা ওয়াজিব। সেখানে পা রাখা, বসার জন্য ব্যবহার করা বা অন্য কোনো অপমানজনক কাজ করা জায়েজ নয়।" (মাজমূ‘উল ফাতাওয়া, ২৭/৩৫৪)
৪. শায়খ ইবনু বাযের ফতোয়া:
শায়খ আব্দুল আযীয বিন বায (রহ.) বলেন, "যে টেবিল বা বেঞ্চের উপর নিয়মিত কুরআন ও হাদীসের কিতাব রাখা হয়, সেখানে পা রাখা বা বসা জায়েজ নয়, এমনকি খালি অবস্থায়ও। কারণ এটি আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাহর সম্মানের পরিপন্থী।" (মাজমূ‘ ফাতাওয়া, ৯/২৯২)
৫. শায়খ আলবানীর মত:
শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন, "কুরআন বা হাদীসের কিতাব রাখার স্থানকে সাধারণ আসবাবের মতো মনে করা ঠিক নয়। বরং তা সম্মানের পাত্র। পা রাখা তো দূরের কথা, সেখানে অসম্মানজনক কোনো কাজ করা উচিত নয়।" (সিলসিলা সহীহা, ১/১৭৬)
উত্তর নির্বাচন:
প্রশ্নের অপশনগুলো থেকে সঠিক উত্তর হলো:
- ৩. না-জায়েজ (নিষিদ্ধ)
- ৫. গুনাহের কাজ
এছাড়া এটি অপছন্দনীয় (মাকরূহ) বললে যথেষ্ট নয়, বরং এটি আরও কঠিন।
ব্যবহারিক সমাধান:
শিক্ষকের উচিত বেঞ্চটি ব্যবহার না করে পা রাখার জন্য আলাদা কোনো ফুটরেস্ট বা অন্য জায়গার ব্যবস্থা করা। অথবা বেঞ্চটি পবিত্র কিতাবের জন্য নির্ধারিত না করে অন্য একটি সাধারণ বেঞ্চ ব্যবহার করা। তবে যদি পূর্বনির্ধারিত বেঞ্চই ব্যবহার করেন, তাহলে পা রাখা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
মোটকথা: কুরআন ও হাদীসের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনকারী যে কোনো কাজ থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন।