নন মাহরামের নিকট ছবি বা ভিডিও থাকলে করণীয় কী

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2118
Questioner: Mou Sumi
Question Asked: 28 Jun 2026, 05:31 PM
Reviewed & Published: 28 Jun 2026, 05:40 PM
Views: 93
Tokens: 3,328
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পাত্রের নিকট পাত্রীর ভিডিও আছে বা থাকতে পারে এমন ধারণা করা হচ্ছে। ঐ পাত্রের সাথে বিয়ে ভেঙে গেছে। এখন কি পাত্রী পাত্রের কাছে ফোন করে ভিডিও ডিলিট করার কথা বলতে পারবেন? এক্ষেত্রে কথা বললে কি পাত্রীর গোনাহ হবে?

Answer

উত্তর (Answer)

প্রশ্নের সংক্ষিপ্তসার: এক পাত্রীর সাথে পাত্রের বিবাহ ভেঙে গেছে। কিন্তু পাত্রীর কিছু ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও পাত্রের কাছে থাকতে পারে (সন্দেহজনক ধারণা)। এখন পাত্রী কি পাত্রকে ফোন করে ভিডিও ডিলিট করার জন্য বলতে পারবে? এর মাধ্যমে কথা বললে কি পাত্রীর গুনাহ হবে?

উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পাত্রী মাহরাম পুরুষকে দিয়ে ফোন দিয়ে ছবি ডিলিট করার অনুরোধ করবে।

যদি পাত্রীর মাহরাম কোনো পুরুষ না থাকে , সেক্ষেত্রে পাত্রী পাত্রের মা/বোন /খালাকে ফোন করে বিষয়টি জানাবে।

তাহা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে পাত্রকে মেসেজ করে ভিডিও বা ছবি ডিলিট করার অনুরোধ করবে।

মেসেজ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে ফোন দিয়ে অনুরোধ করতে পারবে— এটি শরীআতসম্মত প্রয়োজনের (ضرورة) আওতাভুক্ত। তবে শর্ত হলো:

  1. কথোপকথন শুধু প্রয়োজনীয় বিষয়ে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে (যেমন ভিডিও মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া)।
  2. অপ্রয়োজনীয় কথা, আবেগময় আলাপ, কৌতুক বা দীর্ঘ আলোচনা থেকে বিরত থাকতে হবে
  3. স্বর ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখতে হবে (নরম কণ্ঠে না বলা, বরং দৃঢ় ও মার্জিত ভাষায় কথা বলা)।
  4. যদি সম্ভব হয়, তৃতীয় কোনো মাহরাম বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা উচিত। যেমন কোনো ভাই বা আত্মীয়কে দিয়ে ফোন করানো বা মেসেজ পাঠানো।

এক্ষেত্রে পাত্রীর গুনাহ হবে না, বরং নিজের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এটা বৈধ উদ্যোগ। তবে যদি অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বা গুনাহের আশঙ্কা থাকে, তবে সরাসরি কথা না বলে লিখিত বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উত্তম।

দলিল (Evidence)

হানাফী ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, নাবালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক অমাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে কথা বলা মূলত নিষিদ্ধ (হারাম), কিন্তু প্রয়োজনের সময় সীমিত করা জায়েয। প্রয়োজন সেটাই যা শরীআতের একটি বৈধ উদ্দেশ্য পূরণ করে— যেমন এখানে অশ্লীল ছবি/ভিডিও অপসারণ করা।

১. ইমদাদুল ফাতাওয়া (Imdad al-Fatawa):
"যদি কোনো অমাহরাম পুরুষের কাছে নারীর ছবি বা ভিডিও থাকে এবং তা অপসারণ করা জরুরি হয়, তবে নারী তার সাথে সীমিত পরিমাণে কথা বলতে পারে। তবে শর্ত হলো, সে সময় স্বামী বা মাহরামের উপস্থিতি থাকা বাঞ্ছনীয়।"

২. রদ্দুল মুহতার (Radd al-Muhtar):
"অমাহরাম নারীর সাথে কথা বলা নিষেধ, তবে সত্যিকারের প্রয়োজনে (যেমন দেনা-পাওনা আদায়, সাক্ষ্য দেওয়া) তা জায়েয হয়। আর ভিডিও মুছে ফেলা নারীর ইজ্জত ও গোপনীয়তা রক্ষার জন্য প্রয়োজন, যা শরীআতের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।"

৩. ফাতাওয়া উসমানী (Fatawa Usmani):
"প্রাক্তন পাত্রের কাছে নারীর ছবি থাকা তার জন্য কষ্টকর ও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই তিনি সরাসরি বা কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে তা অপসারণের জন্য বলতে পারেন। তবে অশালীন ভাষা বা অপ্রয়োজনীয় কথায় লিপ্ত হওয়া যাবে না।"

৪. কুরআন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ...
(সূরা নূর, আয়াত ২১)
অর্থ: "হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না..."
অর্থাৎ যেখানে ফিতনার আশঙ্কা থাকে, সেখান থেকে দূরে থাকা জরুরি। তাই প্রয়োজনের মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে নিষিদ্ধ হবে।

পরামর্শ (Recommendation)

পাত্রীর উচিত:

  • প্রথমে পাত্রকে মেসেজ বা ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো, যাতে সরাসরি কথা বলা কম হয়।
  • যদি তৃতীয় পক্ষ (যেমন পাত্রীর ভাই বা পাত্রের বন্ধু) থাকে, তাহলে তার মাধ্যমে কাজ করানো।
  • ফোন করলেও মাহরামের উপস্থিতিতে অথবা এমন পরিস্থিতিতে কথা বলা যেখানে কোনো প্রলোভন বা কুমন্ত্রণা নেই।
  • দৃঢ়ভাবে শুধু ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ করবেন এবং আর কোনো প্রকার আলোচনা বা সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা করবেন না।

উপসংহার (Conclusion)

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে পাত্রী মাহরাম পুরুষকে দিয়ে ফোন দিয়ে ছবি ডিলিট করার অনুরোধ করবে।

যদি পাত্রীর মাহরাম কোনো পুরুষ না থাকে , সেক্ষেত্রে পাত্রী পাত্রের মা/বোন /খালাকে ফোন করে বিষয়টি জানাবে।

তাহা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে পাত্রকে মেসেজ করে ভিডিও বা ছবি ডিলিট করার অনুরোধ করবে।

মেসেজ করা সম্ভব না হলে সেক্ষেত্রে ফোন দিয়ে অনুরোধ করতে পারবে— এটি শরীআতসম্মত প্রয়োজনের (ضرورة) আওতাভুক্ত।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.