বান্ধবীর বন্ধককৃত স্বর্ণ ছাড়িয়ে নিয়ে এসে নিজের কাছে বন্ধক রাখা এবং ব্যবহার করা যাবে কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
কেমন আছেন উস্তাযা?
উস্তাযা আমি ফারজে আইন কাফেলা-৫ এর ত্বলিবা।
আপনাকে এভাবে অনুমতি না নিয়ে মেসেজ দেওয়ার জন্য খুবই আফওয়ান কিন্তু এটা নিয়ে আপনি ব্যতীত আর কাছে যাবো পথ পাচ্ছিলাম না,
আমার বান্ধবী স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিছিলো এখন সেটা সুদ প্রায় ২ বছরে ৯হাজার টাকা হয়েছে। তো এখন ও আমাকে বলেছিলো আমি যেনো কানের দুলগুলো আমার টাকা দিয়ে এনে আমার কাছে রাখি আমি চাইলে ইউজও করতে পারবো সমস্যা নেই,যখন ও টাকা দিতে পারবে তখন আমার থেকে এগুলো নিয়ে যাবে।
এখন আমি কি এই কানের দুলগুলো নিয়ে আসতে পারবো? আমাকে যদি এই ব্যাপারটা বলে দিতেন মিন ফাদ্বলিক।
Answer
উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি। আপনার দ্বীনি আগ্রহ ও আমানতদারি দেখে সত্যিই খুশি হলাম। আল্লাহ তাআলা আপনার ইলম ও আমলে বরকত দান করুন।
আপনার বান্ধবী যে পদ্ধতিতে স্বর্ণ বন্ধক রেখে টাকা নিয়েছে তা স্পষ্ট সুদ (রিবা) ভিত্তিক লেনদেন, যা কুরআন-হাদিসের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন। সুদের কারবার হারাম, এবং এতে অংশগ্রহণ করা, সহায়তা করা বা লেনদেন সম্পাদন করাও হারাম।
আপনি যে প্রস্তাব পেয়েছেন—আপনার টাকা দিয়ে কানের দুলগুলো এনে নিজের কাছে রাখবেন, এবং সেগুলো ব্যবহারও করতে পারবেন—এতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি সমস্যা রয়েছে:
১. সুদের অর্থ পরিশোধ করা
আপনার বান্ধবী পণশিল্পী (যে টাকা দিয়েছে) এর কাছে আসলে টাকা + সুদ (৯০০০ টাকা) দিয়েছে। আপনি যদি সেই সুদের অংশসহ পুরো টাকা পরিশোধ করে দুলগুলো ছাড়িয়ে আনেন, তাহলে সুদ পরিশোধকারী হিসেবে গণ্য হবেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«لَعَنَ اللَّهُ آكِلَ الرِّبَا وَمُؤْكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ»
(সহীহ মুসলিম, ১৫৯৮)
“আল্লাহ লানত করেছেন সুদখোর, সুদদাতা, লেখক ও তার সাক্ষীদ্বয়কে।”
সুতরাং আপনি সুদ পরিশোধের মাধ্যম হতে পারবেন না।
২. বন্ধককৃত বস্তু ব্যবহার
আপনি যদি ঋণদাতা হয়ে বন্ধক (রাহ্ন) হিসেবে কানের দুলগুলো নিজ কাছে রাখেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম হলো: ঋণদাতা বন্ধককৃত বস্তু ব্যবহার করতে পারে না, কারণ এটি সুদের শামিল। ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, বন্ধকদাতার অনুমতি থাকলেও ঋণদাতার জন্য বন্ধক ব্যবহার করা জায়েয নয় (মাকরুহ), কারণ এটি সুদে পৌঁছানোর আশঙ্কা। (আল-হিদায়া, কিতাবুর রাহ্ন; রদ্দুল মুহতার ৫/৩০৪)
তবে কিছু হানাফি ফকিহ দুর্বল মত হিসেবে বন্ধকদাতার অনুমতি থাকলে ব্যবহার জায়েয বলেছেন, কিন্তু সেটি শুধুমাত্র যখন ঋণ নিজেই সুদমুক্ত ও বৈধ হয়। এখানে ঋণ সুদী, তাই তা প্রযোজ্য নয়।
৩. সহিহ ও হালাল পদ্ধতি কী?
আপনি যদি বান্ধবীকে সাহায্য করতে চান, তাহলে নিম্নোক্ত হালাল পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন:
- প্রথমে তাকে সুদ থেকে তওবা করতে বলুন এবং পণশিল্পীর সাথে শুধু আসল টাকা (যা সে নিয়েছিল) পরিশোধ করে দুল ছাড়ানোর জন্য আলোচনা করতে বলুন। সুদের অংশ মাফ করানোর চেষ্টা করা উচিত।
- আপনি কর্জে হাসানা (সুদমুক্ত ঋণ) দিয়ে বান্ধবীকে আসল টাকা জোগান দিতে পারেন, যেন সে নিজে দুল ছাড়িয়ে আনে। পরে বান্ধবী যখন টাকা ফেরত দেবে, আপনি গ্রহণ করতে পারেন।
- আপনি শুধু আমানত হিসেবে তার কাছে কানের দুল রাখতে পারেন, ব্যবহার বা ভোগ করতে পারবেন না। আর টাকা ফেরতের সময় দুল ফিরিয়ে দেবেন।
সারসংক্ষেপ
প্রশ্ন: আমি কি কানের দুলগুলো এনে আমার কাছে রাখতে পারবো?
উত্তর: না, বর্তমান অবস্থায় তা জায়েয নয়, কারণ এতে সুদের অর্থ পরিশোধ ও সুদী লেনদেনে অংশগ্রহণ হবে। আপনাকে সুদ থেকে বাঁচতে হবে এবং বান্ধবীকে উপদেশ দিতে হবে। হালাল উপায়ে সাহায্য করতে চাইলে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে সাহায্য করুন, কিন্তু দুল ব্যবহার করবেন না।
قال الله تعالى: ﴿وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾ [البقرة: ٢٧٥]
“আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন।”
(সূরা বাকারা, ২:২৭৫)
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং সুদের সকল অপবিত্রতা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।