ব্যাচ স্টুডেন্ট পড়ানোর সময় মাসের মাঝে ভর্তি ছাত্রের কাছ থেকে পুরো মাসের বেতন নেওয়া জায়েজ কি না?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 2077
Questioner: Saimoon Sheikh
Question Asked: 27 Jun 2026, 10:40 AM
Reviewed & Published: 27 Jun 2026, 10:50 AM
Views: 113
Tokens: 3,374
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি যদি ব্যাচ স্টুডেন্ট পড়াই,কোনো স্টুডেন্ট যদি মাসের মাঝে ভর্তি হয় তার থেকে পুরো মাসের বেতন নেওয়া কি জায়েজ হবে?

Answer

উত্তর:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আলহামদুলিল্লাহি ওয়াসসালাতু ওয়াসসালামু আলা রাসূলিল্লাহ

প্রশ্নে উল্লেখিত ‘ব্যাচ স্টুডেন্ট’ পড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষার্থী যদি মাসের মাঝে ভর্তি হয় এবং শিক্ষক তার কাছ থেকে পুরো মাসের বেতন (ফি) গ্রহণ করেন, তাহলে এটির বৈধতা নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত ও পারস্পরিক সম্মতির ওপর। তবে শারঈ মূলনীতি হলো—পারিশ্রমিক প্রদান করতে হবে প্রাপ্ত সেবার অনুপাতে


মৌলিক নীতি

ইসলামী ফিকহে ইজারাহ (ভাড়া বা সেবা চুক্তি)-এর মূলনীতি হলো:

“الأجرة بالعمل”
অর্থ: পারিশ্রমিক কাজের (পরিশ্রমের) অনুপাতে প্রাপ্য।

(রদ্দুল মুহতার, ৪/৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৪/৪০১)

সুতরাং যদি একজন শিক্ষার্থী মাসের মাঝামাঝি ভর্তি হয় এবং শিক্ষক তাকে পুরো মাসের পাঠদান দিতে পারেন না (অর্থাৎ শুধু বাকি দিনগুলোই পড়ান), তাহলে পুরো মাসের বেতন নেওয়া ন্যায্য হবে না—যতক্ষণ না উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো অগ্রিম চুক্তি বা স্পষ্ট শর্ত থাকে যে, “মাসের যেকোনো সময় ভর্তি হলেই সম্পূর্ণ মাসের ফি দিতে হবে” এবং শিক্ষার্থী স্বেচ্ছায় ও জ্ঞাতসারে তা মেনে নেয়।

তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে সুবিচার ও ইনসাফের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সাধারণত মাসের মাঝে ভর্তি হলে আনুপাতিক হারে ফি নেওয়াই উত্তম ও অধিক গ্রহণযোগ্য।


হানাফি ফিকহের দলিল ও ফতোয়া

১. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
ইজারাহ চুক্তিতে মজুর (কর্মচারী) যখন পুরো সময় কাজ করেনি, তখন পুরো মজুরি প্রাপ্য নয়। তবে যদি চুক্তিতে ‘সিট রিজার্ভেশন’ বা ‘কোর্স ফি’ হিসেবে উল্লেখ থাকে এবং শিক্ষার্থী তা জেনে থাকে, তাহলে তা জায়েজ। (রদ্দুল মুহতার, ৪/৪২–৪৩)

২. ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা:

“যদি কেউ কোনো শিক্ষককে এক মাসের জন্য পড়ানোর জন্য ভাড়া করে, আর শিক্ষক অর্ধেক মাস পড়ানোর পর চুক্তি ভঙ্গ করে, তাহলে সে অর্ধেকের বেশি মজুরি পাবে না।”
(ফাতাওয়া হিন্দিয়্যা, ৪/৪০১)

৩. ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী):
এক স্থানে এসেছে:

“মাসের মাঝে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরো মাসের বেতন নেওয়া জায়েজ নয়; বরং অবশিষ্ট দিনের হিসাব করে ফি নেওয়া উচিত। তবে প্রতিষ্ঠান যদি ‘মাসিক প্যাকেজ’ বা ‘এনরোলমেন্ট ফি’ বলে স্বতন্ত্র ফি নির্ধারণ করে, এবং তা শিক্ষার্থীকে জানিয়ে দেয়, তাহলে তা ভিন্ন কথা।”
(ফাতাওয়া উসমানী, ৪/১৯৮–২০০)

৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া (হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী):
তিনি লিখেছেন:

“ছাত্র মাসের মাঝে ভর্তি হলে শিক্ষকের জন্য পুরো মাসের বেতন নেওয়া মাকরূহ (অপছন্দনীয়); বরং আনুপাতিক হারে নেওয়া সুন্নাত ও ইনসাফের কাছাকাছি।”
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৪/২৮০)


ব্যবহারিক সমাধান

১. আনুপাতিক ফি: শিক্ষার্থী যতদিন পড়বে, ততদিনের বেতন নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ ও শরিয়তসম্মত।
২. শর্তসাপেক্ষ পূর্ণ ফি: যদি প্রতিষ্ঠানের নীতি হয় যে, “মাসের মাঝে ভর্তি হলেও পুরো মাসের ফি দিতে হবে” এবং এই শর্তটি ভর্তির আগে শিক্ষার্থীকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, তারপর শিক্ষার্থী তা স্বেচ্ছায় মেনে নেয়, তাহলে তা জায়েজ বলে গণ্য হবে—যদিও ইনসাফের দৃষ্টিতে আনুপাতিক ফিই উত্তম।
৩. মিস করা ক্লাসের ব্যবস্থা: শিক্ষক যদি মিস করা ক্লাসের জন্য আলাদাভাবে সময় দেন বা রেকর্ডেড ক্লাসের ব্যবস্থা করেন, তাহলে পুরো ফি নেওয়া আরও ন্যায্য হয়।


উপসংহার

➡️ সাধারণ অবস্থায় মাসের মাঝে ভর্তি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুরো মাসের বেতন নেওয়া জায়েজ নয়; বরং অবশিষ্ট দিনের অনুপাতে ফি নেওয়া উচিত।
➡️ কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানের স্পষ্ট নীতি থাকে এবং শিক্ষার্থী তা জেনে ও মেনে ভর্তি হয়, তাহলে সেটি জায়েজ, তবে উত্তম ও ইনসাফসঙ্গত পন্থা হলো আনুপাতিক ফি।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হালাল ও ইনসাফপূর্ণ পথে চলার তৌফিক দিন। (আমীন)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.