বন্ধুর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে বোরকা ব্যবহারের বিধান ও আযানের জবাব না দিলে পরবর্তী সুন্নাহ পালনের হুকুম।

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 2001
Questioner: Jakia Mim
Question Asked: 25 Jun 2026, 05:08 AM
Reviewed & Published: 25 Jun 2026, 05:11 AM
Views: 92
Tokens: 4,412
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ

১/আমার ফ্রেন্ড থেকে একটা বোরকা নিয়েছি,এখনও টাকা দেইনি।টাকা পরে দিব বলেছি(অর্ধেক কিছুদিনের মধ্যে দিতে পারি ইনশা আল্লহ, বাকিটা পরে দিব)টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বোরকা ইউস করা বৈধ হবে আমার জন্য? উল্লেখ্য যে,সে আমাকে অনুমতি দিয়ে রেখেছে ব্যাবহার করার।

২/আযানের জবাব দিতে না পারলে এর পরের বাকি সুন্নাহগুলা যেমন দুরুদে ইব্রাহিম,আযানের পরের দুয়া ও দুয়া করার সুন্নাহ পালন করা যাবে?

Answer

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين

প্রশ্ন ১: আপনি বন্ধুর কাছ থেকে একটি বোরকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনও টাকা পরিশোধ করেননি। বন্ধু আপনাকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এক্ষেত্রে টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত বোরকা ব্যবহার করা কি জায়েজ?

উত্তর:
হ্যাঁ, এটি জায়েজ। কারণ আপনার বন্ধু আপনাকে বোরকা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, যা ইসলামী ফিকহে ‘আরিয়াহ’ (ধার দেওয়া) হিসেবে গণ্য হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি টাকা পরিশোধ না করছেন, ততক্ষণ বন্ধুর অনুমতি সাপেক্ষে বোরকা ব্যবহার করা আপনার জন্য বৈধ। তবে টাকা পরিশোধ করার পর বোরকাটি আপনার মালিকানায় চলে যাবে। উল্লেখ্য, যদি আপনি টাকা পরিশোধের সময়সীমা নির্ধারণ করে থাকেন, তবে সেই সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা আপনার দায়িত্ব। আর যদি বন্ধু আপনার কাছ থেকে বোরকার মূল্য পাওয়ার পরও আপনাকে ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে তা জায়েজ। তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখবেন: এটি যেন সুদি লেনদেন বা প্রতারণার রূপ না নেয়। বন্ধুর অনুমতি থাকায় বর্তমানে ব্যবহার জায়েজ, কিন্তু পরে যদি টাকা পরিশোধ না করেন, তবে বন্ধুর অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তাই সময়মতো টাকা পরিশোধ করা আপনার জিম্মাদারি।

হানাফি ফিকহের কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার: "আরিয়াহ (ধার) দ্রব্য ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে গ্রহণ করার পর তা ব্যবহার করা জায়েজ, যতক্ষণ পর্যন্ত মালিক অনুমতি প্রত্যাহার না করে।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৫৪৩)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: "যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের বস্তু তার অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করে, তবে তা জায়েজ।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৪/৪৪১)

প্রশ্ন ২: আযানের জবাব দিতে না পারলে, আযানের পরবর্তী সুন্নাহগুলো (যেমন: দুরুদে ইব্রাহিম, আযানের পরের দুয়া এবং দুয়া করা ইত্যাদি) পালন করা যাবে?

উত্তর:
হ্যাঁ, আযানের জবাব না দিতে পারলেও পরবর্তী সুন্নাহগুলো পালন করা জায়েজ এবং সওয়াবের কাজ। আযানের জবাব দেওয়া একটি সুন্নাহ, আর দুরুদে ইব্রাহিম পড়া, আযানের পর দুয়া করা ইত্যাদিও পৃথক পৃথক সুন্নাহ। ইসলামে কোনো একটি সুন্নাহ পালন না করতে পারলে অন্যগুলো পালনে বাধা নেই। তবে উত্তম হচ্ছে, যদি সময় থাকে, আযানের জবাব দেওয়ার পর দুরুদ ও দুয়া পড়া। কিন্তু যদি কোনো কারণে জবাব দেওয়া সম্ভব না হয় (যেমন: ব্যস্ততা, ভুলে যাওয়া ইত্যাদি), তাহলে সরাসরি দুরুদ ও দুয়া পড়তে পারেন। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

হানাফি ফিকহের কিতাবের রেফারেন্স:

  • আল-হিদায়াহ: "আযানের জবাব দেওয়া সুন্নাহ, কিন্তু তা পালনে অক্ষম হলে অন্য সুন্নাহ ত্যাগ করা সঙ্গত নয়।" (আল-হিদায়াহ, ১/৮০)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: "আযানের জবাব না দিলেও আযানের পর দুরুদে ইব্রাহিম ও দুয়া পড়তে কোনো বাধা নেই; বরং এগুলো পৃথক আমল।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ১/২১৪)
  • সহীহ বুখারীর হাদিস: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যখন তোমরা আযান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে তাই বলো (অর্থাৎ জবাব দাও)। অতঃপর আমার ওপর দুরুদ পড়ো। কারণ, যে একবার আমার ওপর দুরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।" (সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬১১) এই হাদিসে জবাবের পর দুরুদের কথা এসেছে, কিন্তু জবাব না দিলে দুরুদ পড়া নিষেধ নয়।

রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (৬/৫৪৩)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৪/৪৪১)
  • আল-হিদায়াহ (১/৮০)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২১৪)
  • সহীহ বুখারী (হাদিস: ৬১১)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.