বিবাহিত ব্যক্তির যদি এমন অডিও গল্প শোনার প্রয়োজন হয় যা থেকে বৈবাহিক জীবন শেখা যায়, কিন্তু তাতে অশ্লীল কথা থাকে—তাহলে তা জায়েয হবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 1951
Questioner: Fariha Rejoana
Question Asked: 23 Jun 2026, 06:57 PM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 07:00 PM
Views: 87
Tokens: 3,994
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কেউ যদি এমন টাইপ অডিও গল্প শোনে যেগুলো থেকে সে শিখতে পারবে বৈবাহিক জীবনে কাজে লাগাতে পারবে এই উদ্দেশ্যে তাহলে কি গুনাহ হবে? ওই গল্প গুলোতে মিউজিক নেই কিন্তু অনেক সময় অশ্লীল কথা চলে আসে তাহলে শোনা ঠিক হবে? যে শুনতেছে সে বিবাহিত।

Answer

উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—যদি কোনো অডিও গল্পে বা আলোচনায় অশ্লীল ভাষা থাকে, তাহলে তা শোনা জায়েয নয়। আপনার নিয়ত ভালো (বৈবাহিক জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া) হলেও অশ্লীল কথা শোনা নিজেই গুনাহের কাজ। কারণ, ইসলামে অশ্লীলতা ও অশালীন কথাবার্তা শোনা, বলা সবই নিষিদ্ধ। আপনি বিবাহিত হলেও বৈবাহিক জীবনের জন্য জ্ঞান অর্জনের বৈধ ও পবিত্র মাধ্যম রয়েছে। সেগুলো গ্রহণ করা উচিত।

প্রমাণ ও ইলমী দলিল

  • কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে: “আর যারা অশ্লীল ও বেহুদা কথাবার্তা (লাগ্ব) থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।” (সূরা আল-মু’মিনূন, ২৩:৩)
    এই আয়াতে “লাগ্ব” বলতে এমন সব কথা ও কাজ বুঝায় যাতে কোনো উপকার নেই, বরং অপকার ও গুনাহ রয়েছে। অশ্লীল কথা এ-ই বিভাগে পড়ে।
  • হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ৬০১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ৪৭)
    অশ্লীল কথা ভালো কথা নয়, তাই তা বলা যেমন নিষেধ, তা শোনাও চুপ থেকে শোনা নিষিদ্ধ—কারণ শোনার মাধ্যমেই আপনি সেই গুনাহে অংশীদার হন।
  • ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) ‘রদ্দুল মুহতার’ (১/৪৬৭)-এ বলেন: “গান-বাজনা, অশ্লীল কথা ও বেহুদা কথাবার্তা শ্রবণ করা হারাম।”
    তিনি আরও লিখেছেন: “যদি কোনো মজলিসে গুনাহের কাজ হয়, তবে সেখানে বসা হারাম, এমনকি মুখে নিষেধ না করলেও।”
  • হানাফী ফিকাহর প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ফাতাওয়া আলমগীরী’ (৬/৩৩২)-তে উল্লেখ আছে: “যে ব্যক্তি অশ্লীল কথাবার্তা শোনে, সেও গুনাহগার হয় যদি না সে তা প্রতিরোধ করে বা সেখান থেকে চলে যায়।”
  • মুফতী মুহাম্মাদ শফী (রহ.) ‘মা’আরিফুল কুরআন’ (সূরা আল-মু’মিনূন, ২৩:৩-এর তাফসীর)-এ লিখেছেন: “লাগ্ব তথা অশ্লীল ও বেহুদা কথাবার্তা বলা যেমন হারাম, তেমন তা শ্রবণ করাও ফিতনা।”
  • ‘ফাতাওয়া উসমানী’ (মুফতী তাকী উসমানী দা. বা.)-এ এসেছে: “যদি কোনো টেপ রেকর্ড, ভিডিও বা অনুষ্ঠানে অশ্লীলতা থাকে, তবে তা শোনা বা দেখা জায়েয নয়, এমনকি শিক্ষার জন্যও নয়; বরং পবিত্র ও বৈধ উৎস থেকে শিক্ষা নিতে হবে।”
  • ‘ইমদাদুল ফাতাওয়া’ (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এও অনুরূপ নির্দেশনা আছে।

বৈবাহিক জীবনের জন্য কী করণীয়
আপনার উদ্দেশ্য উত্তম—বৈবাহিক জীবন সুন্দর ও ইসলামী পদ্ধতিতে পরিচালনা করার জন্য জ্ঞান অর্জন করা। কিন্তু এর জন্য কখনো অশ্লীলতার আশ্রয় নেওয়া জরুরি নয়। ইসলামী গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আছে, যেমন:

  • বাহিশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ.)-এর বিবাহ ও দাম্পত্য অধ্যায়।
  • হুসনে মুআশারাহ (মুফতী তাকী উসমানী দা. বা.)।
  • শরহে মা‘আনুল আছার ও অন্যান্য হাদীসের কিতাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের আদব বর্ণিত আছে।

এসব পবিত্র উৎস থেকেই আপনি প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। অশ্লীল কথা সংবলিত অডিও গল্প শোনা থেকে বিরত থাকুন এবং তওবা করুন। আপনার নিয়ত ঠিক থাকলে আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল উপায়ে সেই জ্ঞান দান করবেন।

সার কথা

  • যৌন উদ্দিপনা মূলক গল্প,অশ্লীল কথাযুক্ত অডিও গল্প শোনা জায়েয নয়, এমনকি ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও।
  • বৈবাহিক জীবনের জন্য জ্ঞান অর্জন করতে ইসলামী গ্রন্থ ও যোগ্য আলেমের সাহায্য নিন।
  • আপনি বিবাহিত—এ জন্য আপনি বেশি দায়িত্বশীল। অশ্লীলতা শোনা আপনার পরকালীন জীবন এবং বর্তমান সম্পর্কের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে পবিত্র ও বৈধ পথে চলার তাওফীক দান করুন। (আমীন)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.