হায়েজের প্রাথমিক পর্যায়ে রক্ত না ঝরলেও ভেতরে টিস্যু দিয়ে চেক করলে হালকা রক্ত দেখা গেলে করণীয় কি?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1924
Questioner: nasa
Question Asked: 23 Jun 2026, 01:32 AM
Reviewed & Published: 23 Jun 2026, 02:38 AM
Views: 78
Tokens: 5,372
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুয়ালাইকুম, হায়েজের সম্ভাবনা যখন আসে, ওই সময়ে অজু করার আগে পরিস্কার হতে গিয়ে টিসুতে হালকা হলুদ দেখে পিরিয়ডের সাইন কিনা চেক করার জন্যে টিস্যু দিয়ে কিছুটা ভিতরে চেক করে এবং হাল্কা রক্ত দেখতে পায়। কিন্তু এরপর বেশ কয়েক ঘণ্টা আর রক্ত দেখে না এবং বেশি ভিতরে টিস্যু ইনসার্ট করলে তখন আবার কিছুটা রক্ত দেখতে পায়। এক্ষেত্রে সালাত আদায় করবে নাকি ওয়াক্তের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেক করে তারপর সালাত আদায় করবে নাকি বাদ রাখবে?

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

হায়েজ (মাসিক) হওয়ার জন্য ফিকহে হানাফিতে মূল শর্ত হলো—রক্ত যোনিপথ থেকে বের হয়ে আসা (بخروج الدم إلى خارج الفرج) অর্থাৎ অন্তত লজ্জাস্থানের বাইরের অংশ পর্যন্ত পৌঁছানো। শুধু ভেতরে টিস্যু দিয়ে চেক করলে অথবা টিস্যুতে রক্ত দেখা গেলেও তা যদি বের না হয়, তবে তা হায়েজ গণ্য হবে না। বরং তা ইস্তিহাদা (অনিয়মিত রক্ত) হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনি যখন টিস্যু ভেতরে দিয়ে চেক করছেন এবং হালকা রক্ত দেখতে পাচ্ছেন, কিন্তু তা বের হয়ে আসছে না এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে কোনো রক্ত প্রবাহ নেই, তখন আপনি পবিত্র (তাহির) গণ্য হবেন। তাই আপনার ওপর নামাজ পড়া ওয়াজিব। কোনো নামাজ বাদ দেওয়া যাবে না।

বিস্তারিত মাসআলা

১. হায়েজের সংজ্ঞা (হানাফি মতে):

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, হায়েজ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য রক্ত জরায়ু থেকে বের হয়ে লজ্জাস্থানের বাইরে আসা আবশ্যক। শুধু ভেতরে থাকলে বা টিস্যুতে দাগ দেখলে তা হায়েজ নয়। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৮৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৫)
  • ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতেও রক্ত যদি বের না হয় তবে তা হায়েজ নয়। (শরহু মা‘আনিল আসার, ১/২২২)

২. আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান:

  • আপনি যখন টিস্যু দিয়ে ভেতরে চেক করে রক্ত দেখেছেন, কিন্তু তা বের হয়নি এবং কয়েক ঘণ্টা কোনো রক্তের迹象 নেই, তখন আপনি পবিত্র। তাই আপনাকে নামাজ পড়তে হবে এবং রোযা রাখতে হবে (যদি রমজান হয়)।
  • যদি পুনরায় রক্ত বের হয়ে আসে (অর্থাৎ লজ্জাস্থানের বাইরে) এবং তা টানা তিনদিন বা তার বেশি চলতে থাকে, তবে তখন হায়েজ শুরু হবে এবং নামাজ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু শুধু ভেতরে চেক করে রক্ত দেখা মাত্রই হায়েজ সাব্যস্ত হবে না।

৩. ইস্তিহাদার ক্ষেত্রে করণীয়:

  • যেহেতু আপনার রক্ত ইস্তিহাদা হিসেবে গণ্য, তাই প্রত্যেক নামাজের সময় নতুন অজু করে নামাজ পড়বেন। (বেহেশতী জেওর, হায়েজ অধ্যায়)
  • নামাজের আগে যদি রক্ত বের হলে পরিষ্কার করে নেবেন এবং ওযু করবেন।

৪. চেক করার পদ্ধতি:

  • আপনার উচিত টিস্যু গভীরভাবে না দিয়ে বাহিরের অংশে হালকা চেক করা। যদি রক্ত বের হয়ে বাহিরে আসে (অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে প্যাডে বা কাপড়ে লেগে যায়), তখনই হায়েজ ধরবেন।
  • শুধু ভেতরে টিস্যু দিয়ে চেক করে রক্ত দেখার কারণে নামাজ বন্ধ করবেন না।

৫. ফতোয়া ও নির্দেশনা:

  • হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বেহেশতী জেওরে বলেন: “যদি লজ্জাস্থানের ভিতর টিস্যু দিয়ে দেখে রক্ত লেগে থাকে, কিন্তু বাহিরে না আসে, তবে তা হায়েজ নয়।”
  • হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) ও মুফতি তকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম) স্পষ্ট বলেছেন: “হায়েজ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য রক্তের প্রবাহ বাহিরে আসা জরুরি।” (ফাতাওয়া উসমানী, ১/২৯৮)

সারসংক্ষেপ:

  • আপনি পবিত্র হিসেবে গণ্য হবেন, নামাজ আদায় করবেন।
  • ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে স্বাভাবিক সময়ে নামাজ পড়বেন।
  • যদি পরে রক্ত বের হয়ে আসে এবং টানা তিন দিন বা তার বেশি চলতে থাকে, তবে তখন হায়েজ ধরবেন এবং নামাজ বন্ধ করবেন।

আল্লাহ তাআলা সহজ পথ দেখান।

উল্লেখিত কিতাবসমূহ:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২৮৫-২৮৬)
  • বেহেশতী জেওর (হায়েজ অধ্যায়)
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/২৯৮)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৫)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২২)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.