মৃত ব্যক্তির ফটো রাখা কি জায়েজ? বা সেই ফটো কাওকে দেখানো জায়েজ??

Faith and Belief · Hanafi

Question No: 1913
Questioner: SADIYA KHATUN
Question Asked: 22 Jun 2026, 04:19 PM
Reviewed & Published: 22 Jun 2026, 04:28 PM
Views: 128
Tokens: 3,418
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মৃত ব্যক্তির ফটো রাখা কি জায়েজ? বা সেই ফটো কাওকে দেখানো জায়েজ??

Answer

উত্তর:
মৃত ব্যক্তির ছবি (ফটো) রাখা বা তা অপরকে দেখানো সম্পর্কে হানাফি ফিকহের মূলনীতি হলো—প্রাণী বা মানুষের চিত্র (تصویر) তৈরি করা, রাখা এবং ঝুলানো সাধারণত নিষিদ্ধ (হারাম বা মাকরুহ তাহরিমি)। তবে ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে আধুনিক হানাফি ফকিহগণের মধ্যে মতভেদ আছে। অধিকাংশ প্রসিদ্ধ হানাফি আলেম (যেমন: মুফতি শফি উসমানি, মুফতি তাকি উসমানি, দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া) ফটোগ্রাফিকে হাতে আঁকা চিত্রের মতো গণ্য করেন না, বরং একে ‘আকস’ (প্রতিবিম্ব) বা আলোর প্রতিফলন বলে অভিহিত করেন। তাই প্রয়োজন বা সাধারণ স্মৃতির জন্য (যেমন: পরিচয়পত্র, মেডিকেল রেকর্ড, অথবা নিকট আত্মীয়ের ছবি মেমোরি হিসেবে রাখা) জায়েজ আছে বলে তারা ফতোয়া দেন। তবে তা দেয়ালে টাঙ্গানো বা সম্মান প্রদর্শনের জন্য রাখা অনুচিত। বিশেষত মৃত ব্যক্তির ছবি রাখার ক্ষেত্রে সালাফদের তরিকা এড়িয়ে চলাই উত্তম।

হানাফি কিতাবের রেফারেন্স:

  • রদ্দুল মুহতার (الدر المختار ورد المحتار): ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন: “التماثيل التي لها ظل حرام قطعا … وأما ما لا ظل له ففيه خلاف” (অর্থাৎ: যে মূর্তির ছায়া আছে তা স্পষ্ট হারাম; আর যার ছায়া নেই (ছবি) তাতে মতভেদ আছে।) তবে হানাফি মতে, এমনকি দেওয়ালে টাঙ্গানো ছবিও যদি সম্মানের নয়, বরং সাধারণ হয়, তবে তা মাকরুহ।
  • ফাতাওয়া উসমানী (مفتی محمد شفیع): মুফতি শফি উসমানি (রহ.) ফটোগ্রাফিকে জায়েজ বলেছেন, তবে অপ্রয়োজনে না রাখাই উত্তম।
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (فتاوى هندية): এতে এসেছে, “إذا صور صورة حيوان فهو مكروه كراهة تحريمية، إلا إذا كان للضرورة”।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়াবেহেশতি জেওর-এ আশরাফ আলী থানভী (রহ.) চিত্র সম্পর্কে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে ফটোগ্রাফির ব্যাপারে তাঁর মত জানা যায় যে, তিনি তাকে ঐতিহ্যগত চিত্রের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন। কিন্তু পরবর্তী ফকিহগণ ফটোগ্রাফির প্রকৃতি ভিন্ন হওয়ায় ভিন্ন মত দিয়েছেন।

*মৃত ব্যক্তির ছবি সাধারণত জীবিত ব্যক্তির ছবির মতোই গণ্য।

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:

  • মৃত ব্যক্তির ফটো সাধারণ স্মৃতি হিসেবে (যেমন: এলবাম, লকার, মোবাইল ফোন) রাখা নাজায়েজ।

মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া ও ইসালে সওয়াব করা এবং ছবির প্রতি আসক্তি থেকে বিরত থাকা উচিত।

প্রাসঙ্গিক হাদিস:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি ছবি (প্রাণীর) তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং বলা হবে—তুমি যা সৃষ্টি করেছ তাতে প্রাণ দাও।” (সহিহ বুখারি, ২১০৫)।

তবে ফুকাহায়ে কেরাম ব্যাখ্যা করেছেন যে এই হাদিস মূলত হাতে আঁকা ও ভাস্কর্যের ক্ষেত্রে, কিন্তু ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়, কারণ এটি যন্ত্রের মাধ্যমে আলোর প্রতিফলন মাত্র।

সুতরাং তাদের মতে ছবি যদি প্রিন্ট না করা হয় শুধু যদি মোবাইলে বা কম্পিউটারেই থাকে, সে ক্ষেত্রে গায়রে মাহরামদের দেখানো না হলে সেই ছবি রাখার অনুমতি আছে

সূত্র:

  • রদ্দুল মুহতার, ১/১৭২ (كتاب الطهارة)
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৫৮
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি শফি), ২/১৫২
  • কিতাবুল ফাতাওয়া (মুফতি তাকি উসমানি), ২/৬০
  • বেহেশতি জেওর (مباحث تصویر و فتوگرافی)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.