স্ত্রী কি তার স্বামীর লিঙ্গ চুষে দিতে পারবে?
Halal and Haram · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্ত্রী তার স্বামীর লিঙ্গ চুষে দেওয়ার বিষয়টি হানাফী ফিকহে নিম্নরূপ বিবেচিত হয়:
হানাফী মতে বিধান
হানাফী মতে, স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের শরীরের যেকোনো অংশ স্পর্শ করা, চুম্বন করা বা মুখে নেওয়া জায়েয (অনুমোদিত), তবে শর্ত হচ্ছে কোনো অপবিত্র বস্তু (যেমন: বীর্য বা মযি) গলাধঃকরণ না করা। কারণ বীর্য ও মযি হানাফী মতে নাপাক (অপবিত্র) এবং তা গলাধঃকরণ করা হারাম। তাই স্ত্রী যদি স্বামীর লিঙ্গ চুষে দেয় এবং তা থেকে কোনো নাপাক বস্তু মুখে না আসে বা গিলে না ফেলে, তাহলে তা রুখসতযোগ্য। কিন্তু যদি তা এড়ানো সম্ভব না হয় বা নাপাক গলাধঃকরণের আশঙ্কা থাকে, তাহলে তা মাকরুহে তাহরীমি (হারামের কাছাকাছি) বা নাজায়েয হতে পারে।
বিশুদ্ধ মত
আধুনিক হানাফী ফকীহগণ, যেমন মুফতী তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম, এই বিষয়ে বলেন:
“স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের লজ্জাস্থানে মুখ দেওয়া জায়েয, তবে নাপাক বস্তু (বীর্য, মযি ইত্যাদি) গলাধঃকরণ করা নাজায়েয এবং তা হারাম। তাই যদি তা থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয় এবং কোনো নাপাক গিলে ফেলা না হয়, তবে অনুমোদিত। তবে উচিত হলো এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকা, কারণ এটি মর্যাদা ও শালীনতার পরিপন্থী।”
(মাসায়িলে উসমানী, জামে‘আ ফাতাওয়া, খণ্ড ৬)
কিতাবের উল্লেখ
১. ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী):
“স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর লিঙ্গ চুষে নেওয়া বা চুম্বন করা জায়েয, তবে বীর্য বা মযি গিলে ফেলা হারাম।”
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৭৫)
২. রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন):
স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের যৌনাঙ্গে মুখ দেওয়া জায়েয, তবে নাপাক বস্তু গলাধঃকরণ না করার শর্তে।
(রদ্দুল মুহতার, ৬/৪১০)
৩. বেহেশতী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহ.):
এখানে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের লজ্জাস্থানে চুম্বন করতে পারে, কিন্তু মযি বা বীর্য মুখে নেওয়া উচিত নয়।
(বেহেশতী জেওর, বিবাহ অধ্যায়)
৪. ইমদাদুল ফাতাওয়া (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রাহ.):
এতে উল্লেখ আছে, স্ত্রী স্বামীর লিঙ্গ মুখে নিতে পারে যদি তা থেকে নাপাক গলাধঃকরণ না হয়, তবে উত্তম হলো এরূপ কাজ থেকে বিরত থাকা।
(ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২৫)
সারকথা
- জায়েয: স্ত্রী স্বামীর লিঙ্গ চুষতে পারে যদি কোনো প্রকার অপবিত্রতা (বীর্য, মযি) মুখে না আসে বা গলাধঃকরণ না করে।
- মাকরুহ (অপছন্দনীয়): অধিকাংশ হানাফী ফকীহের (যেমন ইবনে আবেদীন ও থানভী রাহ.) মতে, এটি মাকরুহে তানজিহী (অপছন্দনীয়) কারণ এটি লজ্জাস্থানের প্রতি অসম্মানজনক এবং রুচি ও মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
- হারাম: যদি নাপাক বস্তু গলাধঃকরণ করা হয়, তাহলে তা হারাম।
সতর্কতা: যেহেতু বাস্তবে নাপাক বস্তু মুখে আসা বা গিলে ফেলার আশঙ্কা থাকে, তাই সাধারণত ফকীহগণ এ কাজ থেকে বিরত থাকারই পরামর্শ দেন। উত্তম হলো সহবাসের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক পন্থা অবলম্বন করা এবং এ ধরনের কাজ এড়িয়ে চলা।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।