নাপাক কাপড় পাক করা পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাই?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 1804
Questioner: Mahee
Question Asked: 19 Jun 2026, 02:36 PM
Reviewed & Published: 19 Jun 2026, 02:42 PM
Views: 52
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
১. আমি নাপাক কাপড় নিয়ম মতো ধুয়ে প্রতিবার নিংড়ানো শেষ করে একই জায়গায় রেখেছিলাম। মানে প্রথমবার নিংড়ানো শেষ করে এক জায়গায় রেখেছি, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বা শেষবার একই জায়গায় রেখেছি। আমার কাপড় কি পাক আছে?

২. কাপড় গুলো ধুয়ে সেখানে রাখার পরে আমি গোসল করছিলাম। গোসলের শরীরের পানি সেই ধোয়া কাপড়ে গিয়ে লেগে যথেষ্ট ভিজে গিয়েছিল। আমার মনে হচ্ছে আমার শরীর নাপাক। গতকাল গোসল করে অপবিত্র কাপড় দিয়ে শরীর মুছেছিলাম। (অপবিত্র বলছি কারণ সে কাপড়টা আগে নাপাক ছিল, সুন্নত অনুসারে সে কাপড় তিনবার নিংড়ানো হয়নি তাই)। এই কাপড়ে কি নামাজ হবে?

Answer

উত্তর
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্ন ১:
আপনি নাপাক কাপড় তিনবার ধুয়ে প্রতিবার নিংড়ানোর পর একই জায়গায় রেখেছেন। এটি দ্বারা কাপড় পাক হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না। কারণ কাপড়ের পবিত্রতা নির্ভর করে নাপাকি দূর হওয়ার ওপর, কাপড় কোথায় রাখা হয়েছে তার ওপর নয়। কাপড় ধোয়ার সময় যদি নাপাকির রং, গন্ধ বা অন্যান্য চিহ্ন সম্পূর্ণভাবে চলে যায় এবং পানি নিংড়িয়ে ফেলা হয়, তাহলে কাপড় পাক হয়ে যায়।

তিনবার নিংড়ানো সুন্নত পদ্ধতি, তবে তা ওয়াজিব নয়। কাপড় পাক হওয়ার জন্য নাপাকি দূর হওয়াই শর্ত, তিনবার নিংড়ানো শর্ত নয়। যেহেতু আপনি নিয়ম অনুযায়ী ধুয়ে তিনবার নিংড়িয়েছেন, তাই আপনার কাপড় পাক আছে।

📚 কিতাবি দলিল:

  • রদ্দুল মুহতার (১/২১২): নাপাক কাপড় ধুয়ে পানি নিংড়িয়ে ফেলা এবং নাপাকির চিহ্ন দূর হলে কাপড় পাক হয়ে যায়।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/১১১): পাত্র বা কাপড় পাক করার জন্য তিনবার ধোয়া সুন্নত, ওয়াজিব নয়। একবার ধুলেই পাক হয়ে যায় যদি নাপাকি দূর হয়।

প্রশ্ন ২:
গোসলের সময় আপনার শরীর থেকে যে পানি ঐ কাপড়ে লেগেছে, তা দ্বারা আপনার শরীর নাপাক হয়নি। কারণ কাপড়টি যদি আগের মতো পাক হয় (যেমন প্রথম প্রশ্নে বর্ণিত), তাহলে পাক কাপড়ের পানি দ্বারা শরীর নাপাক হয় না। আর যদি কাপড়টি প্রকৃতপক্ষে নাপাক হয় (যেমন নাপাকির চিহ্ন বিদ্যমান ছিল এবং তা ধোয়ার মাধ্যমে দূর হয়নি), তাহলে ভেজা অবস্থায় শরীরে লাগলে শরীর নাপাক হয়ে যেত। কিন্তু আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, কাপড়টি আপনি ধুয়েছেন, শুধু তিনবার নিংড়ানোর সুন্নত পদ্ধতি পালন করেননি—এতে কাপড়টি অপবিত্র হয়ে যায় না যদি নাপাকির চিহ্ন দূর হয়ে থাকে।

অতএব, আপনি গোসলের পর যে কাপড় দিয়ে শরীর মুছেছেন, তা যদি পাক হয় (অর্থাৎ নাপাকির চিহ্ন নেই), তাহলে শরীর পাক আছে এবং সেই কাপড়ে নামাজ পড়া জায়েজ আছে। যদি কাপড়ে নাপাকির চিহ্ন (রং, গন্ধ) থেকে থাকে, তাহলে তা অপবিত্র এবং সেই কাপড় পরে নামাজ পড়া যাবে না—তবে নামাজের সময় যদি কাপড়টি শরীরে লেগে থাকে এবং কাপড়ের নাপাকি জায়গায় সতর্কতা না থাকে, তাহলে নামাজ ফাসিদ হবে না, তবে যতটুকু স্থান নাপাক হয়েছে তা ধুয়ে ফেলা বা কাপড় পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

📚 কিতাবি দলিল:

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/২৯): কাপড় ধোয়ার পর যদি নাপাকির চিহ্ন না থাকে, তাহলে কাপড় পাক।
  • ফাতাওয়া উসমানী (১/৩০৮): নাপাক কাপড় একবার ধুয়ে নাপাকির চিহ্ন দূর হলেই পাক হয়ে যায়। তিনবার ধোয়া সুন্নত।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/১১৫): গোসলের সময় পাক কাপড়ের পানি শরীরে লাগলে শরীর নাপাক হয় না।

সারসংক্ষেপ:

  • আপনার ধোয়া কাপড় পাক আছে (প্রশ্ন ১)।
  • গোসলের পর শরীর মুছার কাপড়টিও পাক, যদি তাতে নাপাকির চিহ্ন না থাকে। তাই সেই কাপড় পরে নামাজ পড়া জায়েজ। তবে নিশ্চিত হতে পারেন: কাপড়টি ভালোভাবে দেখুন—যদি রং বা গন্ধ থাকে, তাহলে আবার ধুয়ে নিন; অন্যথায় পাক।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.