বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্যান্ট্রি থেকে খাবার গ্রহণের ইসলামি বিধান

Zakat and Charity · Hanafi

Question No: 1646
Questioner: Mst Shapna Akter
Question Asked: 15 Jun 2026, 08:21 AM
Reviewed & Published: 15 Jun 2026, 08:47 AM
Views: 56
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করি, শিক্ষকতা করি। এখানে একটি ফুড প্যান্ট্রি আছে, যেখানে অনেক ফ্রি খাবার থাকে, যেগুলো নিয়ে রান্না করে খাওয়া যায়। তারা বলে যে আমরা কোনো প্রশ্ন করব না—কেউ যদি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক বা স্টাফ হয়ে আসে, সে এসে খাবার নিয়ে যেতে পারে; তারা এর কারণ হিসেবে বলে যে খাবার যেন নষ্ট না হয়, তাই তারা এটা করেছে।

এই খাবারগুলো বিভিন্ন দোকান থেকে ডোনেট করা হয়—যেসব খাবার তুলনামূলকভাবে খুব সস্তা বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, সেগুলো তারা দিয়ে দেয়। এছাড়াও বিভিন্ন দাতারা এই উদ্দেশ্যে খাবার দান করেন, যাতে যারা খাবার কিনতে পারে না তারা উপকৃত হয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি নয় যারা একেবারে খাবার পায় না, তবুও অনেক ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা এসব নিয়ে যায়।

এখন আমার টাকার কোনো সমস্যা নেই, কিন্তু আমি শুধু নিজের জন্য কিছু খাবার নিতে চাই। প্রথমত, এই খাবারগুলো না নিলে নষ্ট হয়ে যাবে, এবং দ্বিতীয়ত, এতে আমার সঞ্চয়ও বেশি হবে। এই অবস্থায়, ইসলামিক শরিয়াহ অনুযায়ী এটি কি হালাল হবে?

Answer

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
উত্তর:

প্রশ্নকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্যান্ট্রি থেকে খাবার গ্রহণের বিধান জানতে চেয়েছেন। তিনি নিজে আর্থিকভাবে সচ্ছল, কিন্তু খাবার নষ্ট হওয়া রোধ এবং নিজের সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে তা গ্রহণ করতে আগ্রহী।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিধান:

১. দানের উদ্দেশ্য ও শর্ত:

  • ফুড প্যান্ট্রির খাবারগুলো সাধারণত দোকানদার বা দাতাদের দান। দানের মূল উদ্দেশ্য হলো অভাবী ও প্রয়োজনীয় লোকদের সাহায্য করা।
  • তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, যে কেউ (ছাত্র, শিক্ষক, স্টাফ) এই খাবার নিতে পারে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খাবার যাতে নষ্ট না হয় সেজন্যই এই ব্যবস্থা।

২. খাবার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা:

  • ইসলামে অপচয় ও খাবার নষ্ট করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কুরআনে আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।" (সূরা আল-ইসরা: ২৭)
  • হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "খাবারকে সম্মান করো, কারণ তা আল্লাহর নেয়ামত।" (ইবনে মাজাহ)
  • তাই, যদি খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে তা গ্রহণ করে নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা একটি প্রশংসনীয় কাজ।

৩. সচ্ছল ব্যক্তির জন্য বিধান:

  • সাধারণত দান-সদকা অভাবী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু যদি দানকারী বা কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে সবাইকে অনুমতি দেয়, তাহলে সচ্ছল ব্যক্তিও তা গ্রহণ করতে পারে।
  • হানাফি ফিকহের কিতাব "রাদ্দুল মুহতার" -এ এসেছে: "যদি কোনো জিনিস দান করা হয় এবং দানকারী সবার জন্য অনুমতি দেয়, তাহলে সচ্ছল ব্যক্তির জন্যও তা গ্রহণ করা জায়েজ।" (রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০)
  • "ফাতাওয়া উসমানি" -তে উল্লেখ রয়েছে: "যদি কোনো পণ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং মালিক তা নেওয়ার অনুমতি দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েজ, যদিও গ্রহীতা অভাবী না হয়।" (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪২৩)

৪. নিজের সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য:

  • প্রশ্নকারী নিজের সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে খাবার নিতে চান। এটি বৈধ, কারণ খাবার নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করাও একটি উদ্দেশ্য। তবে শরিয়াহ উৎসাহিত করে যাতে অন্যদের (বিশেষ করে অভাবী শিক্ষার্থীদের) প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়।
  • হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের জন্য এবং তার পরিবারের জন্য সঞ্চয় করে, তা তার জন্য কল্যাণকর।" (মুসলিম)

শর্ত ও সতর্কতা:

  • খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত শর্তগুলো মেনে চলা উচিত:
    • কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও শর্ত মেনে চলা (যেমন: শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্যরা নিতে পারবে)।
    • খাবার নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচানোর নিয়ত করা।
    • অন্যদের (বিশেষ করে প্রকৃত অভাবীদের) প্রতি সুবিচার করা। যেমন: বেশি পরিমাণে না নেওয়া, যাতে অন্যরাও পায়।

সারসংক্ষেপ:
প্রশ্নকারীর বর্ণনা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্যান্ট্রি থেকে খাবার গ্রহণ করা জায়েজ ও হালাল, যদি কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে এবং খাবার নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে তিনি যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হন, তবে উত্তম হবে যে তিনি প্রকৃত অভাবীদের প্রাধান্য দেবেন (যারা খাবার কিনতে অক্ষম) এবং নিজে কিছু গ্রহণ করলে সেটি সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য,সেই খাবার যদি যাকাতের বা মান্নতের টাকার হয়,সেক্ষেত্রে আপনি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক হলে সেই খাবার কোনোক্রমে গ্রহন করবেননা।

আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.