কুরআনের আয়াত পড়ার সময় বা শোনার সময় যদি কেউ মাথা দুলায়, তাহলে কি ঈমান বাকী থাকবে?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 1640
Questioner: Nazmul Rahman
Question Asked: 15 Jun 2026, 12:08 AM
Reviewed & Published: 15 Jun 2026, 02:04 AM
Views: 61
Tokens: 2,257
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুরআনের আয়াত পড়ার সময় বা শোনার সময় জদি কেউ মাথা দুলিয়ে ফেলে তাহলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যায়

Answer

উত্তর: না, কুরআনের আয়াত পড়ার সময় বা শোনার সময় নিছক মাথা দুলিয়ে ফেলার কারণে ঈমান নষ্ট হয় না। এটি একটি সাধারণ শারীরিক নড়াচড়া বা অভ্যাসগত ক্রিয়া, যা ঈমানের সাথে সম্পর্কিত কোনোকিছু নয়।

তবে, যদি কেউ কুরআনের আয়াতকে বিদ্রূপ বা ঠাট্টা-তামাশা করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাথা দোলায়, তাহলে সেটি কুফরি হতে পারে। কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় (পড়া বা শোনার সময় স্বাভাবিকভাবে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মাথা নড়ে যাওয়া) সেটি ঈমান নষ্টের কারণ হবে না।

হানাফী ফিকহের কিতাবের আলোকে উত্তর:

হানাফী ফিকহের বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, কোনো কাজ কুফরি বা ঈমান নষ্টকারী হবে কিনা তা নির্ভর করে নিয়ত ও বিশ্বাসের উপর। ইচ্ছা, উদ্দেশ্য ও বিশ্বাসবিহীন কোনো কাজ কেবলমাত্র শারীরিক নড়াচড়া (যেমন মাথা দোলানো, হাত নড়ানো) ঈমান নষ্ট করে না।

রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবেদীন) ও ফাতাওয়া আলমগীরীতে এসেছে, শুধুমাত্র দেহের নড়াচড়া বা অনিচ্ছাকৃত কাজ কুফরী হিসেবে গণ্য হবে না, যদি না তা বিদ্রুপ বা অস্বীকারের উদ্দেশ্যে হয়। (রদ্দুল মুহতার ৪/২২৪, ফাতাওয়া আলমগীরী ২/২৫০)

ইমাম তাহাবী ও ইমাম কাজী খান (রহ.)-এর মতে, কুরআন শ্রবণের সময় যদি কেউ শ্রদ্ধাবোধে বা তাজিমের জন্য মাথা নাড়ায়, তবে তা প্রশংসনীয়। আর যদি কেবল অভ্যাসবশত হয়, তাতেও ক্ষতি নেই। তবে বিনা কারণে কুরআন শ্রবণের সময় অমনোযোগী হওয়া বা খেলাধুলার ভঙ্গি করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়)।

সারকথা:

  • ইচ্ছা ও বিদ্রুপের নিয়ত ছাড়া মাথা দোলালে ঈমান নষ্ট হয় না।
  • অনিচ্ছাকৃত বা স্বাভাবিক নড়াচড়ার জন্য কোনো গুনাহ নেই।
  • এ ধরনের ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) থেকে দূরে থাকা উচিত। বিনা প্রয়োজনে ‘ঈমান নষ্ট হয়ে গেল’ বলে সন্দেহ পোষণ করাও ঠিক নয়।

যদি কেউ হঠাৎ করে কোনো ভুল বশত বা মাথা নেড়ে ফেলে, তাহলে তওবা-ইস্তিগফার করাই যথেষ্ট। ঈমান পুনরায় পড়ার বা নতুন করে গ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই।

সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী

ইমদাদুল ফাতাওয়া

রদ্দুল মুহতার

ফাতাওয়া আলমগীরী


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.