Facebook এডসেন্সের হালাল ও হারাম পর্ব ২
Halal and Haram · Hanafi
Question
https://ifatwa.info/143545/
এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ্। আমার একজন পরিচিতি আছেন যিনি এইরকম বিষয় অনুসরণ করেন তবে তিনি কারো থেকে পরামর্শ না নিয়েই করছেন। তাই তিনিও আরো কিছু বিষয় যুক্ত করতে চাইছেন প্রশ্নে।
১] উনি তার এডসেন্সের উপার্জন দিয়ে ভালো মোবাইল সেট কিনেছেন, কেননা কন্টেন্ট তৈরিতে এটা কাজে লাগে। পাশাপ্সহি দাওয়া নিয়ে কাজ করতে অনেক কিছু ডকুমেন্টেশনে তার কাজে লাগে। সে মূলত অফলাইনে ও অনলাইনে দাওয়া দেন। অনলাইনে ফেস দেখান না। কন্টেন্ট আইডি সেট এর জন্যে মনিটাইজেশন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্যে এই উপার্জন খাওয়া নয়। তিনি তার সেই মোবাইল মূলত একটি সিম ব্যবহার করেন যা নেটের জন্যে। সেটা দিয়ে কারো সাথে কথা বলেন না। তার ব্যাক্তিগত কাজের জন্যে আলাদা একটি মোবাইল ব্যবহার করেন। আর দাওয়াহ কাজের জন্যে এই দামি মোবাইল ব্যবহার করেন এডসেন্সের টাকা দিয়ে। মোবাইলের ব্যালেন্স যদিও নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে ব্যবস্থা করেন।
২] তার এডসেন্সের উপার্জন দিয়ে তিনি প্রায় ৮০০ এর মত বই কিনেছেন যা তার বাসাতে আছে। তিনি ও তার পরিমার সেগুলো পড়াশোনা করে। আর যদি কেউ কখনো কোন বই চায়, তিনি সাথে সাথে দিয়ে দেন সেটা।
৩] তবে নিজের পরিবার, ব্যাক্তিগত খাওয়া দাওয়া জামাকাপড়, মেডিসিন ও পড়াশোনা ইত্যাদির খরচ তিনি নিজের খুব অল্প হালাল উপার্জন যা হয় সেটা দিয়েই করেন। এই জন্যে উনার ব্যাক্তিগত জীবন আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো না। বেশ কষ্ট করেই তিনি চলাফেরা করেন। উনি জানতে চাইছেন যে তার এডসেন্সের উপার্জনের টাকা দিয়ে যিনি যা যা করছেন সেগুলো কি জায়েজ হবে কিনা।
Answer
উত্তর وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
১. ফেসবুক এডসেন্সের টাকা যদি হারাম কন্টেন্ট থেকে আসে, বা হারা এড থেকে আসে,সেক্ষেত্রে সেই মোবাইল ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা।
২. এমতাবস্থায় সেই টাকা দিয়ে কেনা মোবাইল ও বইয়ের ক্রয়মূল্য সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে। এরপর সেগুলো ব্যবহার করা হালাল হবে।
তার আগে নয়।
৩. ফেসবুক এডসেন্সের টাকা যদি হারাম কন্টেন্ট থেকে আসে, বা হারা এড থেকে আসে,সেক্ষেত্রে তার এডসেন্সের উপার্জনের টাকা দিয়ে তিনি যা যা করছেন সেগুলো জায়েজ হবেনা।
হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে এসেছে:**
"إذا كسب مالا حراما يجب عليه التخلص منه بالصدقة على الفقراء ولا ينتفع به لنفسه ولا لعياله."
(রাদ্দুল মুহতার, ৬/৩৮৫; ফতোয়া হিন্দিয়া, ২/২৭৪)
অর্থাৎ: “যদি কেউ হারাম মাল উপার্জন করে, তবে তা থেকে নিজে বা নিজের পরিবারকে কোনো উপকার না দিয়ে গরিবদের সদকা করে দিতে হবে।”
ফতোয়া উসমানি, ৪/৫৪২-এ উল্লেখ আছে:
"হারাম মাল দ্বারা কোনো ভালো কাজও করা জায়েজ নয়, যেমন মসজিদ নির্মাণ, কুরআন ছাপানো ইত্যাদি। বরং তা ফকির-মিসকিনকে দান করে দিতে হবে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া।"
ইমদাদুল ফতোয়া, ৪/৩৪৪-এ এসেছে:**
"হারাম টাকা দিয়ে কোনো জিনিস কিনলে তা মালিকের জন্য হালাল হয় না, যতক্ষণ না সে সেই জিনিসের মূল্য সদকা করে দেয়। তবে সেটা নিজে ব্যবহার করলে পাপ চলতে থাকে। তাই মূল্য সদকা করে দেওয়া ফরজ।"
আল-হিদায়া, ৩/১১২-এ বর্ণিত:
"إذا اشترى الشيء بثمن حرام، لزمه التصدق بقيمته، ويطيب له المبيع."
অর্থ: “যদি কেউ হারাম মূল্যে কোনো জিনিস ক্রয় করে, তবে তার উপর সেই জিনিসের মূল্য সদকা করা আবশ্যক, এরপর ক্রয়কৃত বস্তু তার জন্য হালাল হবে।”
আল্লাহ তাআলা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং হালাল রিজিক দান করুন।
والله أعلم بالصواب
তথ্যসূত্র:
- রাদ্দুল মুহতার (৬/৩৮৫)
- ফতোয়া হিন্দিয়া (২/২৭৪)
- ইমদাদুল ফতোয়া (৪/৩৪৪)
- ফতোয়া উসমানি (৪/৫৪২)
- আল-হিদায়া (৩/১১২)
- উসুলুশ শাশী (ফিকহি উসুল)