বিবাহিত সহকর্মীর স্ত্রীকে তার অবৈধ আচরণের কথা বলা কি জায়েজ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
বি.দ্র: আমি ওর মা আর ওকে মাফ করতে পারি না। ভাবলেও নিজের কষ্ট বেড়ে যায়। যেই আমি ছেলেদের থেকে দূরে থাকি সে আমাকে অফিসে বাসায় ছোট করছে তারা। না জানিয়ে বিয়ে করে ডাবল টাইমিং করতে চাইছে। আমি আল্লাহর কাছে বিচার দেই।
Answer
উত্তর
প্রিয় বোন, আপনার পরিস্থিতি অত্যন্ত কষ্টকর এবং সংবেদনশীল। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও শরয়ী বিধান নিচে দেওয়া হলো।
১. অতীত সম্পর্ক ও বর্তমান পরিস্থিতি
আপনার সঙ্গে ঐ ব্যক্তির অতীতে যে সম্পর্ক ছিল, তা অবৈধ ও হারাম ছিল। এখন তিনি বিবাহিত অবস্থায়ও আপনাকে মায়া-ভালোবাসা দেখানো, মাফ চাওয়া ও আপনার বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা স্পষ্টতই আরেকটি হারাম কাজ ও প্রতারণা। তিনি "ডাবল টাইমিং" করে একই সাথে আপনাকে ও নিজ স্ত্রীকে প্রতারিত করছেন, যা ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক গুনাহ।
২. আপনি কী করতে পারেন?
প্রথমত, আপনি দৃঢ়ভাবে তাকে বুঝিয়ে দিন যে আপনার সাথে কোনো প্রকার অবৈধ সম্পর্ক বা কথাবার্তা ইসলামে হারাম। তাকে সতর্ক করুন এবং তার সব রকম যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দিন। যদি অফিসে তিনি আপনাকে হয়রানি করেন বা ছোট করেন, তাহলে অফিসের এইচআর বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রমাণ সংরক্ষণ করুন (মেসেজ, রেকর্ডিং ইত্যাদি)।
৩. তার স্ত্রী বা পরিবারকে জানানো যাবে কি?
এটি একটি জটিল মাসআলা। মূলনীতি হলো, সাধারণ অবস্থায় কারো দোষ গোপন করা এবং গীবত (পরনিন্দা) না করা ফরজ। কিন্তু গীবতের কিছু বৈধ কারণ আছে। তন্মধ্যে অন্যতম হলো:
- কোনো মুসলিমকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সতর্ক করা।
- যুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য সাহায্য চাওয়া।
- প্রকাশ্যে পাপাচারী ব্যক্তির পাপ সম্পর্কে বলা।
- কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিয়ে বা ব্যবসায়িক সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক করা।
উল্লেখিত কারণগুলোর মধ্যে আপনার অবস্থা পড়ে। যেহেতু ঐ ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে প্রতারণা করছে এবং আপনাকেও প্রতারিত করতে চাচ্ছে, তাই আপনি যদি তাকে সংশোধনের বা থামানোর সব চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন, তাহলে তার স্ত্রীকে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ও সত্য তথ্য জানানো জায়েয হতে পারে।
হানাফি ফিকহের আলোকে:
ইমাম ইবনে আবেদীন (রহ.) বলেন, “যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে পাপাচারে লিপ্ত, তার গীবত করা জায়েয।” (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৯) এখানে ব্যক্তিটি আসলে অফিসে আপনাকে ছোট করছে এবং গোপনে পাপ করছে। কিন্তু যেহেতু আপনি তাকে সতর্ক করার পরও সে থামছে না এবং উলটো আপনার সম্মানহানি করছে, তাই স্ত্রীকে জানানোর অনুমতি রয়েছে। আর এর মাধ্যমে আপনি জুলুম থামানোর চেষ্টা করছেন, যা মুস্তাহাব।
(সূত্র: ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৪৫; রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭৮-৩৭৯; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/৪০০)
৪. আপনার জন্য বিশেষ পরামর্শ
- তাকওয়া ও ধৈর্য ধারণ করুন। আল্লাহ প্রতিটি বেহুদা কথার হিসাব নেবেন।
- নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন। অফিসে তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে ট্রান্সফার বা চাকরি পরিবর্তনের কথাও ভাবতে পারেন।
- গীবতের শিকার না হন। আপনি তার স্ত্রীকে সতর্ক করছেন, গীবত করছেন না—এ নিশ্চিত হোন।
- সর্বোপরি আল্লাহর ওপর ভরসা করুন।
আপনার প্রশ্নের সারসংক্ষেপ: যদি আপনি তাকে সব ধরনের সতর্কতা দিয়েও থামাতে না পারেন এবং তিনি তার স্ত্রীর সাথে প্রতারণা চালিয়ে যান, তাহলে আপনার জন্য তাকে ঠেকানোর জন্য এবং তার স্ত্রীকে সতর্ক করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া জায়েয। তবে অতিরিক্ত কিছু না বলা ও খেয়াল রাখা আবশ্যক যে আপনার উদ্দেশ্য শরয়ী হতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আপনার ধৈর্য ও আমল কবুল করুন এবং এই ফিতনা থেকে আপনার জন্য উত্তম পথ বের করে দিন। আমিন।