স্বামী-স্ত্রী সহবাসকালে অজান্তে হায়েজ শুরু হলে কী বিধান?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 1614
Questioner: Guraba Guraba
Question Asked: 14 Jun 2026, 01:09 PM
Reviewed & Published: 14 Jun 2026, 01:24 PM
Views: 56
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্ত্রী হায়েজ হওয়ার সময় নির্দিষ্ট নয় । অনেক সময় ৪০/৪৫ দিনে হয় অনেক সময় ২০/২৬/৩০ দিনেও হয় । স্ত্রী সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় সহবাস অরে সহবাস করার সময় স্বামী যখন স্ত্রীর সাথে সহবাস শুরু করে সে সময় বা সহবাস করার সময় হায়েজ শুরু হয়ে যায় (সে সময় বুঝা যায় নি) ,সহবাস শেষ করার পর বুঝা গিয়েছে হায়েজ হয়েছে ব্লিডিং হচ্ছে। এতে কি স্বামী-স্ত্রীর গুনাহ হয়ে গেল? হারাম কিছু হয়ে গেল?

Answer

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে—স্বামী-স্ত্রী যখন সহবাস শুরু করে তখন স্ত্রী পবিত্র ছিলেন এবং সহবাস চলাকালীন অথবা শেষের দিকে হায়েজ শুরু হলেও তারা তা জানতেন না, পরে বুঝতে পেরেছেন—তাহলে তাদের ওপর কোনো গুনাহ হবে না এবং এটি হারামও হবে না। কারণ ইসলামী বিধান অনুযায়ী, নিষিদ্ধ কাজের জন্য শাস্তি তখনই প্রযোজ্য যখন ব্যক্তি জেনেশুনে তা করে। অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত করলে গুনাহ হয় না।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিধান
মহান আল্লাহ বলেন:
“وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ”
(সূরা বাকারা, ২:২২২)
অর্থ: “তারা তোমাকে হায়েজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলো, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হয়ো না।”

এই আয়াতে হায়েজ অবস্থায় সহবাসকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এখানে শর্ত হলো জেনেশুনে করা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৪৫; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৭২১৯)
অর্থ: “আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃতি এবং জোরপূর্বক করা কাজ মাফ করে দিয়েছেন।”

অতএব, সহবাসকালে যদি তারা হায়েজ হওয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন, তাহলে তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং কাজটি হারাম বলা যাবে না। তবে পরে যখন জানতে পেরেছেন, তখনই সহবাস বন্ধ করে দিতে হবে এবং স্ত্রী হায়েজ থেকে পবিত্র হয়ে গোসল করার আগ পর্যন্ত সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।

হানাফি ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি

১. ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪৮):
“اگر جماع کے وقت عورت حائضہ ہوتی ہے اور مرد کو علم نہیں تو وہ گنہگار نہیں ہوگا، البتہ جب علم ہو جائے تو فوراً الگ ہو جائے۔”
অর্থ: “যদি সহবাসের সময় স্ত্রী হায়েজ অবস্থায় থাকে এবং স্বামী তা জানে না, তাহলে সে গুনাহগার হবে না। তবে যখন জানতে পারবে, তখনই পৃথক হয়ে যাবে।”

২. রদ্দুল মুহতার (১/২৯১):
“(قوله: ويحرم وطء الحائض) أي وطؤها في الفرج حالة الحيض إجماعاً ... لكن لو وطئها ولم يعلم بحيضها فلا إثم عليه لأنه معذور.”
অর্থ: “হায়েজ অবস্থায় সহবাস করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। কিন্তু যদি সে সহবাস করে এবং তার হায়েজ সম্পর্কে না জানে, তবে তার ওপর গুনাহ নেই, কারণ সে ওজরগ্রস্ত।”

৩. ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৫৫):
“اگر جماع کے بعد حیض کا خون دیکھے اور اسے نہ معلوم ہو کہ جماع کے وقت خون تھا یا بعد میں آیا تو اسے گنہگار نہیں کہا جائے گا، بشرطیکہ وہ جماع سے پہلے پاک تھی۔”
অর্থ: “যদি সহবাসের পর হায়েজের রক্ত দেখে এবং সে না জানে যে সহবাসের সময় রক্ত ছিল নাকি পরে এসেছে, তবে তাকে গুনাহগার বলা হবে না, শর্ত হলো সে সহবাসের আগে পবিত্র ছিল।”

৪. বেহেশতী জেওর (ছোট সওয়াল-জওয়াব বিভাগ):
“প্রশ্ন: যদি সহবাসের সময় স্ত্রীর হায়েজ শুরু হয় এবং স্বামী তা না জেনে সহবাস শেষ করে, তাহলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর: না, গুনাহ হবে না। কারণ সে জানত না।”

৫. শরহে মা‘আনিল আছার (১/১০৮):
ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন: “وَإِنْ جَامَعَهَا فِي الْحَيْضِ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ.”

সারসংক্ষেপ ও নির্দেশনা

  • প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী কোনো গুনাহের ভাগী হননি। এটি হারাম হয়নি।
  • যেহেতু উভয়েই অজ্ঞ ছিলেন, তাই কোনো কাফফারাও (প্রায়শ্চিত্ত) ওয়াজিব হয় না।
  • তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ঘটনা অপ্রীতিকর; তাই আল্লাহর দরবারে তওবা ও ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব।
  • ভবিষ্যতে স্ত্রীর স্বাভাবিক মাসিক চক্রের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং সন্দেহ থাকলে ইহতিয়াত (সতর্কতা) অবলম্বন করা উচিত।

উত্তর লিখনে ব্যবহৃত প্রধান কিতাব

  • ফাতাওয়া উসমানী (১/২৪৮)
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৫৫)
  • রদ্দুল মুহতার (১/২৯১)
  • বেহেশতী জেওর (স্ত্রী-স্বামীর মাসআলা)
  • শরহে মা‘আনিল আছার (১/১০৮)
  • তাহাবী শরীফ

উপসংহার:
প্রশ্নোক্ত পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন, তাই তাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই এবং এটি হারাম হয়নি। তবে শরিয়তের বিধান জানার পর তাঁদের উচিত তওবা করা এবং ভবিষ্যতে সতর্ক থাকা। আল্লাহ অধিক জ্ঞানী।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.