কুরআনুল কারীমে রুকইয়াহর আয়াত সমূহ
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
1600
Questioner:
Sanjida Afrin
Question Asked:
14 Jun 2026, 05:25 AM
Reviewed & Published:
14 Jun 2026, 06:06 AM
Views:
47
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
কোরান মাজীদের রুকইয়াহর আয়াত কোনগুলো?
কোরান মাজীদের রুকইয়াহর আয়াত কোনগুলো?
Answer
উত্তর:
وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ
রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) করার জন্য কোরআন মাজীদের কিছু বিশেষ আয়াত ও সূরা রয়েছে, যা হাদিস ও হানাফি ফুকাহার কিতাবে নির্ধারিত। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
রুকইয়াহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও সূরা:
-
সূরা ফাতিহা (১ বার)
- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সূরা ফাতিহাকে রুকইয়াহ হিসেবে পাঠ করেছেন। (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫৭৩৬)
-
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫)
- প্রতিদিন রাতে পড়লে শয়তান থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০১০)
-
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (২৮৫-২৮৬)
- রাতে পড়লে যেকোনো অনিষ্ট থেকে হেফাজত হয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস: ৫০০৮)
-
সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস (প্রত্যেকটি ৩ বার)
- সকাল-সন্ধ্যায় পড়লে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৭১)
-
সূরা বাকারা: ১০২ (যাদু নিরাময়ের জন্য)
- এ আয়াতে যাদু ও জাদুকরের ব্যাপারে আলোচিত হয়েছে।
-
সূরা ইউনুস: ৮১-৮২
- যাদু বাতিলের জন্য পাঠ করা হয়।
-
সূরা আরাফ: ১১৭-১২২
- এখানে মূসা (আ.)-এর যাদুর বিরুদ্ধে কৃতকার্য হওয়ার ঘটনা বর্ণিত।
-
সূরা ত্বাহা: ৬৯
- যাদু নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী আয়াত।
-
সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত (২২-২৪)
- ফজর ও মাগরিবের পর পড়লে সুরক্ষা হয়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮৬৬)
-
সূরা জিন (সম্পূর্ণ)
- জিন–শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য পাঠ করা হয়।
হানাফি কিতাবের উল্লেখযোগ্য নির্দেশনা:
- আল-হিদায়া ও রদ্দুল মুহতার-এ বলা হয়েছে যে, রুকইয়াহ কেবল কোরআন ও মাসনুন দোয়া দিয়ে করা জায়েজ।
- ফাতাওয়া উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি) তে উল্লেখিত আছে—আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস রুকইয়াহর জন্য অপরিহার্য।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভি) তে আরো বলা হয়েছে—সূরা বাকারার কিছু আয়াত (যেমন: ১৬৩–১৬৪, ২৫৫–২৫৭) যাদু ও বদনজর থেকে নিরাময়ে কার্যকর।
- বেহেশতি জেওর (মুফতি মুহাম্মদ শফি) তে সাধারণ রোগ ও জিন-শয়তানের দুর্বলতার জন্য সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি ও চার কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
রুকইয়াহ পড়ার পদ্ধতি (হানাফি মতে):
- রুকইয়াহ করতে হলে প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়ুন।
- তারপর আয়াতুল কুরসি ও সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত।
- এরপর সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার করে পড়ে আক্রান্ত স্থানে ফুঁ দিন।
- দুনিয়া ও রোগ থেকে শিফা লাভের জন্য দোয়া করুন।
মনে রাখবেন: রুকইয়াহ কেবল কোরআনের আয়াত ও সহিহ হাদিসের দোয়া দিয়ে করা জায়েজ।
আল্লাহই তাওফিকদাতা।