স্বর্ণ জামানত রেখে টাকা ধার নেওয়া প্রসঙ্গে
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমার বান্ধবী তার ৩৪ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি আমার কাছে জামানত হিসেবে দিয়ে যদি ২০ হাজার টাকা ধার নেয় (এই শর্তে: ৫ মাসের মাঝে টাকা ফেরত না দিতে পারলে আংটি আমার) তাহলে এটা কি হালাল হবে?
যদি হালাল না হয় সেক্ষেত্রে কি শর্তে বা হালে ধার দেয়া যায় যেটা হালাল হবে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاتة
প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিটি হারাম ও সুদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এটি একটি শর্তযুক্ত ঋণ, যেখানে জামানত রেখে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং শর্ত করা হচ্ছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে জামানতকৃত বস্তু (আংটি) ঋণদাতার মালিকানায় চলে যাবে। এটি স্পষ্টতই রিবা (সুদ) ও জুয়া-এর শামিল।
কারণসমূহ:
-
ঋণের সাথে লাভের শর্ত: হাদীসে এসেছে, "প্রত্যেক ঋণ যা উপকার বয়ে আনে, তা সুদ।" সহীহ বুখারীতে উল্লেখিত এই নীতি অনুযায়ী, জামানত রেখে ঋণ নেওয়া এবং সময়মতো টাকা না দিলে জামানত দাবি করার শর্ত ঋণদাতার জন্য লাভের সুযোগ সৃষ্টি করে। এটি সুদ।
(মাসআলাটি দারাকুতনী, শারহু মা‘আনিল আছার, বায়হাকী প্রভৃতিতেও বর্ণিত।) -
জামানতের অপব্যবহার: জামানত শুধু ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে রাখা হয়, কিন্তু তার মালিকানা ঋণগ্রহীতারই থাকে। ঋণদাতার জন্য জামানতের ব্যবহার বা তার মালিকানা দাবি করা জায়েয নয়। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"তোমাদের কেউ যদি কারও কাছে কোনো জিনিস বন্ধক রাখে..." (সূরা বাকারা: ২৮৩)
এখানে বন্ধক শুধু আমানত হিসেবে থাকে, মালিকানা হস্তান্তর হয় না। -
শর্তের কারণে চুক্তিটি বৈধ নয়: ঋণের সাথে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা নাজায়েয। হানাফি ফিকহের কিতাব "রদ্দুল মুহতার" ও "ফাতাওয়া আলমগীরী"তে স্পষ্ট বলা আছে:
"ঋণের সাথে কোনো শর্ত যুক্ত করা জায়েয নয়, বিশেষ করে যদি সেই শর্ত ঋণদাতার জন্য লাভবান হওয়ার পথ খুলে দেয়।"
হালাল পদ্ধতি:
যদি বান্ধবীকে ঋণ দিতেই হয়, তাহলে নিম্নোক্ত শর্তে তা হালাল হবে:
-
কেবল জামানত রাখা হবে, কিন্তু শর্ত করা যাবে না যে, টাকা না দিলে জামানত ঋণদাতার হবে। বরং যদি টাকা পরিশোধ না হয়, তাহলে বিজ্ঞ মুসলিম সালিশ বা আদালতের মাধ্যমে জামানত বিক্রি করে ঋণ আদায় করা যেতে পারে।
-
উত্তম পদ্ধতি: সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে দেওয়া এবং জামানত শুধু নিরাপত্তা হিসেবে রাখা। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা।
ফিকহি মতামত:
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, "এ ধরনের শর্তযুক্ত ঋণ সম্পূর্ণ নাজায়েয।"
- মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) ও মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) স্পষ্টভাবে এ ধরনের লেনদেনকে সুদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সারকথা: প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতি হারাম। হালাল পদ্ধতি হলো: জামানত রেখে ঋণ নিলেও কোনো শর্ত না রাখা যে, টাকা না দিলে জামানত ঋণদাতার হবে। বরং ঋণ আদায়ের জন্য শরী‘আতসম্মত উপায় অবলম্বন করা।
আল্লাহই সর্বজ্ঞ।