মহিলাদের সালাত পরার উত্তম সময়
Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi
Question
Answer
উত্তর:
আপনার উল্লেখিত সালাতের মুস্তাহাব সময়গুলো সাধারণত পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য, তবে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষত্ব রয়েছে। নিচে প্রতিটি সালাতের বিধান দলিলসহ উল্লেখ করা হলো।
১. যোহর – গরমে দেরি করা মুস্তাহাব
- দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যখন প্রচণ্ড গরম হয়, তখন সালাত ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত বিলম্ব করো। কারণ প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের নিঃশ্বাস।” (বুখারী ৫৩৯, মুসলিম ৬১৫)
- ব্যাখ্যা: এই নির্দেশনা সাধারণ। তবে এর মূল হিকমত হলো মসজিদে আসার কষ্ট দূর করা। পুরুষদের জন্য বেশি প্রযোজ্য হলেও নারীরা ঘরে থাকলে তাদের জন্যও এটি মুস্তাহাব, কারণ উত্তাপ থেকে সুরক্ষা সকলের জন্য কাম্য। শায়খ ইবনু বায (রহ.) বলেন: “গরমের সময় যোহর দেরি করার সুন্নত নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই।” (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ১০/৩৮৬)
২. ফজর – প্রথম ওয়াক্তে পড়া মুস্তাহাব (নারীদের জন্যও)
- দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ ফজর ‘গালসা’ (ঘুটঘুটে অন্ধকার) অবস্থায় পড়তেন (বুখারী ৫৭৮)।
- নারীর ব্যতিক্রম: একটি হাদীসে আয়েশা (রা.) বলেন: “নারীগণ ফজর পড়ে ফিরতেন, আর অন্ধকারের কারণে কেউ কাউকে চিনতে পারত না।” (বুখারী ৮৬৭, মুসলিম ৬৪৫)।
- ফলাফল: নারীদের জন্যও ফজর প্রথম ওয়াক্তে পড়াই উত্তম। শায়খ আলবানী (রহ.) বলেন: “ফজর প্রথম ওয়াক্তে পড়া নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সুন্নাত।” (আসলু সিফাতি সসালাহ ১/২৯৭)
৩. আসর – মেঘলা দিন ব্যতীত দেরি করা মুস্তাহাব
- দলিল: আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত: “রাসূলুল্লাহ ﷺ আসর সূর্য ঢলে পড়ার পর পড়তেন, তবে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কিছু বিলম্ব করতেন।” (মুসলিম ৬২২)।
- মেঘলা দিনে: নবী ﷺ আসর তাড়াতাড়ি পড়তেন, যাতে কেউ সময়মত পড়তে ভুলে না যায় (আবূ দাউদ ৪২৮, সহীহ)।
- উভয়ের জন্য প্রযোজ্য: এটি জামাতের সাথে সম্পৃক্ত নয় বরং সময়ের ফজিলত। তাই নারী-পুরুষ উভয়েরই একই বিধান। শায়খ ইবনু উসাইমীন (রহ.) বলেন: “আসর বিলম্ব করা সুন্নাত, নারী-পুরুষ সবার জন্য।” (শারহুল মুমতি‘ ২/১১৮)
৪. মাগরিব – তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব
- দলিল: সাহাবী সালামা ইবনু আকওয়া‘ (রা.) বলেন: “আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে মাগরিব পড়তাম যখন সূর্য ডুবে যেত।” (বুখারী ৫৬০, মুসলিম ৬৩৬)
- ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেন: “মাগরিব তাড়াতাড়ি পড়া সকলের জন্য মুস্তাহাব। নারী ঘরে একা পড়লেও একই হুকুম।” (যাদুল মা‘আদ ১/১৯০)
৫. এশা – দেরি করা মুস্তাহাব (নারীদের জন্য ভিন্ন মত)
- দলিল: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের এশা রাতের শেষ তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরি করার আদেশ দিতাম।” (আহমাদ ২/৪০৩, সহীহ)।
- নারীর জন্য মূলনীতি:
- মোটামুটি মত: নারীর জন্যও এশা দেরি করা মুস্তাহাব, যদি নিরাপত্তা ও অসুবিধা না থাকে।
- শক্তিশালী মত: নারীদের জন্য এশা প্রথম ওয়াক্তে পড়াই উত্তম, কারণ দেরি করলে অন্ধকারে বের হওয়া বা ঘরের ভেতরেও অসুবিধা হতে পারে। ইমাম শাফিঈ (রহ.) ও শায়খ আলবানী (রহ.) এ মত পছন্দ করেছেন।
- শায়খ সালিহ আল-ফাওযান (হাফি.) বলেন: “নারীরা ঘরে এশা প্রথম ওয়াক্তে পড়তে পারে, দেরি করা জরুরি নয়। তবে দেরি করলে গুনাহ হবে না।” (আল-মুনতাকা ২/২৭৮)
সারসংক্ষেপ (জোরালো মত)
| সালাত | বিধান | নারী-পুরুষের জন্য প্রযোজ্য? | |-------|-------|-----------------------------| | যোহর (গরমে) | দেরি করা মুস্তাহাব | উভয়ের জন্য | | ফজর | প্রথম ওয়াক্ত মুস্তাহাব | উভয়ের জন্য | | আসর (মেঘ ছাড়া) | দেরি করা মুস্তাহাব | উভয়ের জন্য | | মাগরিব | তাড়াতাড়ি মুস্তাহাব | উভয়ের জন্য | | এশা | দেরি করা মুস্তাহাব | পুরুষের জন্য; নারীর জন্য প্রথম ওয়াক্তই উত্তম |
চূড়ান্ত কথা:
উপরে উল্লিখিত সালাতসমূহের মুস্তাহাব সময় নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য, তবে এশার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রথম ওয়াক্তে পড়াই নিরাপদ ও সহজ।
তবে কিছু ইসলামী স্কলারদের মতে নারীদের জন্য প্রত্যেক ওয়াক্তেই আওয়াল ওয়াক্তে নামাজ পড়া উত্তম। আপনি সেই মতও অনুসরণ করতে পারেন।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
عَنْ أُمِّ فَرْوَةَ قَالَتْ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ أَىُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ الصَّلاَةُ فِىْ أَوَّلِ وَقْتِهَا.
উম্মু ফারওয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, আমল সমূহের মধ্যে কোন্ আমল সর্বাধিক উত্তম? তিনি উত্তরে বলেন, আউয়াল ওয়াক্তে ছালাত আদায় করা। ছহীহ আবুদাঊদ হা/৪২৬, ১/৬১ পৃঃ; তিরমিযী হা/১৭০, ১/৪২ পৃঃ; সনদ ছহীহ; মিশকাত হা/৬০৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৫৯, ২/১৭৯ পৃঃ।
والله أعلم بالصواب