বাসা থেকে মিথ্যা বলে সেমিস্টার ফি-র জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি বৈধ?
Halal and Haram · Hanafi
Question
আমার ভার্সিটিতে প্রতি সেমিস্টারে একটি বড় এমাউন্টের টাকা দিতে হয়।এদিকে আমার ল্যাপটপ কেনা খুব ্প্রয়োজন।
আমি যদি বাসায় মিথ্যাসেমিস্টার ফি বাবদ ল্যাপটপ কেনার জন্য ১৫০০০ অতিরিক্ত নিই আর প্রতি মাসে ৪০০০ করে জমিয়ে পরের সেমিস্টারে ১৫০০০ কম নিই বাসা থেকে তাহলে কি সেই টাকাটা হারাম হবে? আমাকে আসলে একটু ওয়েট করতে হবে।কিন্তু এখন আসলে যেভাবে হোক আমার ল্যাপটপ দরকার।পড়াশোনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।।দয়া করে বুঝিয়ে উত্তর দিবেন।
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নটির মূল বিষয় হলো, আপনি বাসা থেকে মিথ্যা বলে সেমিস্টার ফি-র জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ল্যাপটপ কেনার জন্য ব্যবহার করবেন। পরে আপনি প্রতি মাসে ৪০০০ টাকা করে জমিয়ে পরের সেমিস্টারে বাসা থেকে ১৫০০০ টাকা কম নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এই কাজটি হারাম হবে, কারণ এতে দুটি সুস্পষ্ট সমস্যা রয়েছে:
১. মিথ্যা বলা (কাজব)
আপনি বাসায় মিথ্যা বলছেন যে, টাকাটি সেমিস্টার ফি-র জন্য প্রয়োজন, অথচ আপনার উদ্দেশ্য ল্যাপটপ কেনা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ"
(অর্থ: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যা বলে, সে তার ঠিকানা জাহান্নাম বানিয়ে নিক।") [সহীহ বুখারী, হাদীস: ১১০]
এছাড়া মিথ্যা বলা কবীরা গুনাহ এবং এর মাধ্যমে উপার্জিত সম্পদ বরকতশূন্য হয়।
২. প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ গ্রহণ
আপনি বাবা-মা বা অভিভাবকের কাছ থেকে এমনভাবে টাকা নিচ্ছেন যা তারা শুধুমাত্র সেমিস্টার ফি-র জন্য দিয়েছেন। যদি তারা জানতেন যে আপনি ল্যাপটপ কিনবেন, তাহলে হয়তো তারা অর্থ দিতেন না বা অন্য শর্ত দিতেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:
"يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ"
(অর্থ: "হে মুমিনগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না।") [সূরা আল-বাকারা: ১৮৮]
এখানে 'বাতিল' (অন্যায়) পদ্ধতির মধ্যে মিথ্যা ও প্রতারণাও অন্তর্ভুক্ত।
আপনার পরিকল্পিত সমাধানের মূল্যায়ন
আপনি যেহেতু বলে দিচ্ছেন যে আসলেই আপনার ওয়েট করা উচিত, কিন্তু পড়াশোনার চাপে আপনি তা না করে মিথ্যার আশ্রয় নিতে চান। এখানে ইসলামী নীতি হলো:
প্রয়োজনীয়তা হারামকে হালাল করতে পারে না, যতক্ষণ না সেটি সত্যিকারের জরুরত (ضرورة)-এর স্তরে পৌঁছে।
ল্যাপটপ কেনা যদি আপনার পড়াশোনার জন্য অপরিহার্য হয়, তবে আপনি বাবা-মাকে সত্য বলেই সাহায্য চাইতে পারেন। হয়তো তারা বুঝতে পারবেন এবং ল্যাপটপের জন্য আলাদা অর্থ দেবেন অথবা আপনি নিজে সাময়িকভাবে অন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারেন (যেমন: ধার করা, সেকেন্ড-হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনা ইত্যাদি)।
সুতরাং করণীয়:
১. তওবা করুন এবং মিথ্যা বলার সংকল্প ত্যাগ করুন।
২. বাবা-মাকে সত্য বলুন যে, আপনার ল্যাপটপ প্রয়োজন এবং আপনি টিউশন ফি-র সাথে কিছু অতিরিক্ত টাকা নিতে চান। তাদের অনুমতি নিন।
৩. যদি অনুমতি না পান, তবে ধৈর্য ধরে নিজের উপার্জন বা সঞ্চয় দ্বারা ল্যাপটপ কেনার চেষ্টা করুন।
৪. পড়াশোনার সুবিধার জন্য ইসলামী অনুমোদিত উপায়ে (যেমন: লাইব্রেরি ব্যবহার, সহপাঠীর কাছ থেকে ধার, ইনস্টলমেন্টে কেনা ইত্যাদি) চেষ্টা করুন।
উপসংহার: মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হারাম। আপনার বর্ণিত পদ্ধতিতে টাকা নিলে তা হারাম হবে, এমনকি পরে পরিশোধ করলেও। কারণ মিথ্যা বলার গুনাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে সম্পদ গ্রহণের পাপ থেকে যায়। তাই অবশ্যই সত্য পথ অবলম্বন করুন।
আল্লাহ তাআলা আপনাকে সঠিক বুদ্ধি দান করুন এবং আপনার পড়াশোনায় বরকত দিন।
সনদ:
- সহীহ বুখারী, হাদীস: ১১০
- সূরা আল-বাকারা: ১৮৮
- রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন) ৬/৩৮৪-৩৮৫
- ফাতাওয়া শামী ৯/৫২৮