কালিমাখচিত (সাদা/কালো) রংয়ের হিজাব পরিধান করা যাবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
1483
Questioner:
Sinner
Question Asked:
11 Jun 2026, 08:58 AM
Reviewed & Published:
11 Jun 2026, 09:03 AM
Views:
52
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
আসসালামু আলাইকুম,
আমাদের দেশে কালিমাখচিত পতাকা নিয়ে (স্পেশালি কালো রংয়ের) অনেক সময়ই আপত্তি দেখা যায়। বিষয়টাকে নরমালাইজ করার জন্য ব্যবসায়িক উদ্যোগে মেয়েদের জন্য কালিমাখচিত হিজাবের প্রচলন করতে চাচ্ছি। ঠিক যেভাবে ফিলিস্তিনের পতাকাখচিত হিজাব নরমালি নারীরা পরিধান করতে পারছে সেভাবে।
প্রশ্ন:
১. নারীরা তো হিজাব মাথায় পরিধান করবেন, এতে কি কালিমার অসম্মান করা হবে?
আমাদের দেশে কালিমাখচিত পতাকা নিয়ে (স্পেশালি কালো রংয়ের) অনেক সময়ই আপত্তি দেখা যায়। বিষয়টাকে নরমালাইজ করার জন্য ব্যবসায়িক উদ্যোগে মেয়েদের জন্য কালিমাখচিত হিজাবের প্রচলন করতে চাচ্ছি। ঠিক যেভাবে ফিলিস্তিনের পতাকাখচিত হিজাব নরমালি নারীরা পরিধান করতে পারছে সেভাবে।
প্রশ্ন:
১. নারীরা তো হিজাব মাথায় পরিধান করবেন, এতে কি কালিমার অসম্মান করা হবে?
Answer
উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
আপনার প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রথমে জেনে নেওয়া জরুরি যে, কালিমা তাইয়্যিবাহ (لا إله إلا الله محمد رسول الله) অত্যন্ত পবিত্র ও সম্মানিত একটি বাণী। ইসলামী শরিয়তে এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা ফরজ, এবং অসম্মান করা কুফরি বা গুনাহের কাজ।
১. কালিমাখচিত হিজাব পরিধানের বিধান
হানাফি ফিকহের মূলনীতি:
- কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা কালিমা ইত্যাদি পবিত্র বাক্য এমন কাপড়ে লেখা বা ছাপানো মাকরুহ (অপছন্দনীয়) বা নিষিদ্ধ, যার দ্বারা অসম্মানের আশঙ্কা থাকে। যেমন- ওই কাপড় পড়ে পায়খানা-প্রস্রাবে যাওয়া, ময়লা জায়গায় ফেলা, বা নাপাক অবস্থায় স্পর্শ করা ইত্যাদি।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৩২৩) এবং ফাতাওয়া উসমানি (২/৪৫৬)-তে স্পষ্ট বলা হয়েছে: "কাপড়ে কুরআনের আয়াত বা কালিমা লেখা জায়েজ নয়, কারণ তা অসম্মানের কারণ হয়।"
হিজাবের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব:
- নারীরা হিজাব মাথায় পরিধান করেন। কিন্তু হিজাব খোলার পর তা হাত, মেঝে বা বস্তায় পড়ে থাকতে পারে। অনেক সময় মাথায় থাকা অবস্থায় মাথা মুছা বা শৌচাগারে যাওয়ার সময় হিজাবের অংশ নাপাক জায়গায় লাগার সম্ভাবনা থাকে।
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৫৩)-এ বলা হয়েছে: "জুতো, তোয়ালে বা কাপড়ে আল্লাহর নাম লেখা মাকরুহ। কারণ তা অসম্মানের কারণ হয়।"
ফিলিস্তিন পতাকার সাথে তুলনা:
- ফিলিস্তিনের পতাকায় কোনো কালিমা বা পবিত্র বাণী নেই; এটি শুধু একটি দেশের প্রতীক। তাই সেটি পরিধানে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কালিমা একটি পবিত্র বাণী, যার সম্মান রক্ষা করা ওয়াজিব। তাই তুলনা প্রযোজ্য নয়।
২. নারীদের জন্য বিশেষ বিবেচনা
- নারীরা যখন হায়েজ বা নিফাস অবস্থায় থাকেন, তখন পবিত্র কালিমা স্পর্শের বিষয়ে শরিয়তে কিছু শিথিলতা আছে (যেমন- যিকির করা যায়), কিন্তু কাপড়ে কালিমা থাকলে তা নাপাক অবস্থায় পরার কারণে অসম্মান হতে পারে।
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (২/২৮৯)-এ বলা হয়েছে: "হায়েজ অবস্থায়ও কাপড়ে লেখা কালিমা পড়া জায়েজ নয়, কারণ তা অসম্মানজনক।"
৩. ব্যবসায়িক উদ্যোগের ক্ষেত্রে পরামর্শ
- আপনি যদি নার্মালাইজেশন বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য চান, তবে কালিমার পরিবর্তে ইসলামি জ্যামিতিক নকশা, ফুল বা অন্যান্য প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আল্লাহর গুণবাচক নাম (যেমন- আর-রহমান, আর-রহিম) ইত্যাদি ব্যবহার করলেও সতর্কতা জরুরি।
- মুফতি তাকি উসমানি (দামাত বারাকাতুহুম) এর ফতওায় উল্লেখ আছে: "কাপড়ে কুরআনের আয়াত বা কালিমা লেখা জায়েজ নয়। যদি কেউ লেখে, তবে তা যেন সম্মানের সাথে ব্যবহার করা হয় এবং নাপাক জায়গায় না যায়। তবে সাধারণ কাপড়ের বেলায় এ শর্ত পালন কঠিন, তাই এ থেকে বিরত থাকা উচিত।" (উসমানি, ফিকহি মাকালাত, ১/২১৫)
৪. চূড়ান্ত ফয়সালা
কালিমাখচিত হিজাব পরিধান করা জায়েজ নয় (বা মাকরুহ তাহরিমি), কারণ এতে কালিমার অসম্মানের আশঙ্কা প্রবল। পরিবর্তে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করুন:
- হিজাবে কালিমা না লিখে শুধু ইসলামিক নকশা বা উৎসাহব্যঞ্জক আরবি বাক্য (যেমন- "সুবহানাল্লাহ", "আলহামদুলিল্লাহ") ব্যবহার করুন।
- অথবা পতাকার প্রতীক (যেমন- ফিলিস্তিনের মানচিত্র, কুদসের গম্বুজ ইত্যাদি) ব্যবহার করুন, যাতে কোনো বিতর্ক নেই।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীন বুঝার এবং আমল করার তাওফিক দান করুন।
রেফারেন্স:
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/৩২৩, ২/২৮৯)
- ফাতাওয়া উসমানি (২/৪৫৬)
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (৫/৩৫৩)
- রদ্দুল মুহতার (শামী) (৬/৪১৫)
- ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (আধুনিক ফতওয়া)