নামাজে ‘আলহামদুলিল্লাহি দম নিলাম রব্বিল (দম নিলাম) আলামিন’ পড়লে কী হবে?

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 1452
Questioner: Md Riad Hossain
Question Asked: 10 Jun 2026, 02:44 PM
Reviewed & Published: 10 Jun 2026, 02:50 PM
Views: 64
Tokens: 2,494
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আলহামদুলিল্লাহি দম নিলাম রব্বিল দম নিলাম আলামিন এভাবে নামাজে কেরাত পড়লে নামাজ হবে?

Answer

উত্তর:
আপনার বর্ণিত ‘আলহামদুলিল্লাহি দম নিলাম রব্বিল দম নিলাম আলামিন’ পড়া কুরআনের সুরা ফাতিহার accepted কেরাত নয়। এটি একটি ভুল ও অর্থহীন উচ্চারণ। নামাজে কেরাত অর্থাৎ কুরআন তিলাওয়াত করতে হয়। আপনি যে বাক্যটি উল্লেখ করেছেন তা আরবি কুরআনের অংশ নয়; বরং বাংলা শব্দ ‘দম নিলাম’ (আমি শ্বাস নিলাম) সংযুক্ত করে বিকৃত করা হয়েছে।

হানাফি ফিকহের বিধান:
নামাজে কেরাতে যদি কুরআনের শব্দ পরিবর্তন করে এমন ভুল করা হয় যার দ্বারা অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, তাহলে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায়। ইবনে আবেদিন (রহ.) ‘রাদ্দুল মুহতার’-এ বলেন:

“যদি কেরাতে এমন ভুল করে যাতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়, যেমন ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ এর স্থলে ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলিমিন’ পড়ে (অর্থ: জ্ঞানীদের প্রতিপালক), তাহলে নামাজ ফাসিদ হয়ে যাবে।” (রাদ্দুল মুহতার, ১/৬৩০)

আপনার বর্ণনায় ‘আলহামদুলিল্লাহি দম নিলাম’ – এখানে ‘দম নিলাম’ কোনো আরবি শব্দ নয়, বরং বাংলা ভাষার বাক্য। নামাজে কুরআনের পরিবর্তে বাংলা বা অন্য কোনো ভাষায় কথা বলা ইচ্ছাকৃত হলে নামাজ ভঙ্গ হয়। যদি ভুলবশত এমন উচ্চারণ হয়, তবে নামাজ ভঙ্গ না হলেও পুনরায় নামাজ পড়া উচিত। কিন্তু আপনার বর্ণিত উচ্চারণটি স্পষ্টত কুরআনের নয়, তাই নামাজ আদায় হবে না।

সঠিক নিয়ম:
সুরা ফাতিহার সঠিক পাঠ হলো:
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন)

সারকথা:
যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এভাবে বিকৃত কেরাত পড়ে নামাজ আদায় করে, তার নামাজ আদায় হবে না। যদি ভুলবশত হয়, তবে জানার পর পুনরায় নামাজ আদায় করা আবশ্যক।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (১/৬৩০)
  • ফতোওয়া আলমগীরী (১/৭৮)
  • বাহিশ্তি জেওয়ার (নামাজ অধ্যায়)

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.