যৌন উত্তেজনার কারণে কি নাপাকি হয়?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 1415
Questioner: Shadek Hossain
Question Asked: 09 Jun 2026, 04:34 PM
Reviewed & Published: 09 Jun 2026, 04:45 PM
Views: 7
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার অনেকসময় একটুখানি যৌন উত্তেজনা লাগে,তখনই আমার মনে হয় কি নাপাক হয়ে গেলাম কিনা,,আমি কয়েকবার চেকও করেছি কোনো কিছু খেয়াল করি নি,এখন কি করবো,,,এভাবে বার বার গোসল করা কষ্টকর

Answer

উত্তর:

প্রিয় প্রশ্নকারী, আপনার উল্লেখিত বিষয়টি মূলত ওয়াসওয়াসা (মানসিক সন্দেহ বা অবসেসিভ থটস) – যা শয়তানের কুমন্ত্রণা। ইসলামী শরীয়তে পবিত্রতা ও অপবিত্রতার মূলনীতি হলো নিশ্চিত জানা বা নিশ্চিত দেখা। যেহেতু আপনি বহুবার চেক করেছেন এবং কোনো কিছু (পানি বা বীর্য) না পাওয়ার কারণে নিশ্চিত যে কোনো কিছু বের হয়নি, তাই আপনার গোসল ফরয হয়নি। বরং শুধুমাত্র যৌন উত্তেজনা বা খেয়াল দিয়ে পবিত্রতা নষ্ট হয় না।


হানাফী ফিকহের বিস্তারিত মাসআলা:

  1. গোসল ফরয হওয়ার কারণসমূহ:

    • বীর্য (মনি) বের হওয়া – যার জন্য গোসল ফরয হয়, তবে শর্ত হলো বীর্য বের হওয়া শাহওয়াতের সাথে (যৌন উত্তেজনার চরম মুহূর্তে) এবং নিঃসরণ হওয়া।
      (সূত্র: আল-হিদায়া, ১/১৮; রাদ্দুল মুহতার, ১/১৫০)
  2. মেরে শাহওয়াত (যৌন উত্তেজনা) ও মনি বের না হওয়া:

    • শুধুমাত্র উত্তেজনা বা চিন্তা আসা এবং পরীক্ষা করে কোনো ভেজা বা নাপাকি না পাওয়া – তাহলে গোসল ফরয হবে না

    • হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

      "لَا يَغْتَسِلُ الرَّجُلُ مِنَ الْفِكْرَةِ"
      "চিন্তা করার কারণে কোনো ব্যক্তি গোসল করবে না।"
      (সুনানুল কুবরা, বায়হাকী, হাদীস: ৫৯১; তবে সনদে কিছু দুর্বলতা আছে, কিন্তু হানাফী ফুকাহা এটাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন।)

    • ইমাম ইবনু আবেদীন (রহ.) বলেন:

      যদি কোনো ব্যক্তি উত্তেজিত হয় কিন্তু মনি বের না হয়, তবে তার ওযুও ভাঙবে না, গোসলও ফরয হবে না।
      (রাদ্দুল মুহতার, ১/১৫০)

  3. ওয়াসওয়াসার হুকুম:

    • আপনার বারবার চেক করা এবং গোসল করার চিন্তা করা শয়তানের পক্ষ থেকে ওয়াসওয়াসা। এর প্রতিকার হলো একে গুরুত্ব না দেওয়া এবং নিশ্চিত কিছু না হলে গোসল না করা
    • ফকীহগণ বলেন:

      "مَنِ اسْتَحْكَمَ فِيهِ الْوَسْوَاسُ لَا يُلْتَفَتُ إِلَيْهِ"
      "যার মধ্যে ওয়াসওয়াসা প্রবল হয়ে যায়, তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করা হবে না।"
      (ফাতাওয়া আলমগীরী, ১/৯২; ফাতাওয়া উসমানী, ২/৪৫)

  4. বর্তমানে আপনার করণীয়:

    • নি:সন্দেহে বলতে পারি যে, আপনি যেহেতু পরীক্ষা করে কিছুই পাননি, তাই আপনি পবিত্র
    • গোসল করা জরুরি নয়। বরং যদি আপনি বারবার গোসল করেন, তাহলে তা ওয়াসওয়াসাকে বাড়িয়ে দেবে এবং অপচয় হবে।
    • রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

      "إِيَّاكُمْ وَالْوَسْوَاسَ، فَإِنَّهُ يُفْسِدُ عَلَيْكُمْ دِينَكُمْ"
      "তোমরা ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা তোমাদের দ্বীন নষ্ট করে দেয়।"
      (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস: ২৩৩১, সনদ সহীহ)


হানাফী কিতাবের নির্দিষ্ট রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনু আবেদীন): ১/১৫০ – "শাহওয়াতের সাথে মনি বের হওয়াই গোসলের কারণ।"
  • ফাতাওয়া আলমগীরী (হিন্দিয়া): ১/১৫ – "যদি কেউ শাহওয়াত বোধ করে কিন্তু কোনো ভেজা না পায়, তাহলে তার ওযু ও গোসল কিছুই ভাঙবে না।"
  • বাহেশ্তী জেওর (মাওলানা আশরাফ আলী থানভী): পৃষ্ঠা ২৮ – "শুধু উত্তেজনায় গোসল ফরয হয় না, বরং মনি বের হলেই গোসল ফরয হয়।"
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি মুহাম্মদ শফী): ১/১২৪ – "ওয়াসওয়াসা নাড়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই, বরং সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাই একমাত্র চিকিৎসা।"
  • ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী): ২/৪৮ – "গোসল ফরয হওয়ার জন্য অবশ্যই মনি বের হওয়া নিশ্চিত হতে হবে। সন্দেহ বা কল্পনা যথেষ্ট নয়।"

সংক্ষিপ্ত ফতোয়া:

আপনার অবস্থায় কোনো গোসল ফরয হয়নি। আপনি পবিত্র। ওয়াসওয়াসার কারণে বারবার গোসল করা বা পরীক্ষা করা ঠিক নয়। বরং একেবারে নির্ভার হয়ে সালাত ও ইবাদত চালিয়ে যান।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.